Published : 24 Apr 2026, 03:06 PM
যারা দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক বলেন, দুটি দলই একসঙ্গে অভ্যুত্থান করেছিল; এখন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে কেন?
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল… এদের দল বলে কিছু নাই। সবসময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সমাজে থাকে। এদেরকে বাংলাদেশের আইন টেককেয়ার করবে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আইনের বাইরে কেউ যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।
“আমরা পরিষ্কারভাবে বলছি, কোনো জায়গায় কোনো দলীয়করণ করার কোনো সুযোগ নাই। ইউনিভার্সিটিতে আমি একটু আগে বক্তৃতা করে বলেছি, বাইরের কেউ যাতে ঢুকতে না পারে। ইউনিভার্সিটিতে ছাত্ররাছাত্রীরা লেখাপড়া করবে, এখানে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নাই।”
চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য আমির খসরু বলেন, “স্থিতিশীল, সংবেদনশীল একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা নির্বাচনে গিয়েছি এবং নির্বাচিত হয়েছি—জনগণের ভোটে। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা যদি না থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
“যারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, এমন কোনো শক্তি—তারা যেই হোক, আইনের চোখে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একটি স্থিতিশীল, সংবেদনশীল, সহনশীল রাজনীতির পথে চলছে বাংলাদেশ। এই পথ যারা বাধাগ্রস্ত করবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আরেক সাংবাদিক বলেন, জ্বালানি সংকটে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; সরকার যদিও বলছে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, কিন্তু লোড শেডিং হচ্ছে। এছাড়া লোড শেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চল বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “সংকট নাই—এ কথা বলার সুযোগ নেই। সংকট তো আছে, দেশের ভেতরে না- সংকট দেশের বাইরে। এটা বাংলদেশে যেমন, সারা বিশ্বে একই সংকট। আমরা একমাত্র দেশ যে খুব দেরি করে মূল্য বৃদ্ধি করেছি জ্বালানির ক্ষেত্রে।
“আশপাশের দেশগুলো কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে। জনগণের অসুবিধার চিন্তা করে অনেক দেরিতে মূল্য বৃদ্ধি করেছি। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে, কৃষকের কথা চিন্তা করে, মানুষের আয়ের কথা চিন্তা করে আমরা অনেক দেরিতে মূল্য বৃদ্ধি করেছি, তাও খুবই সামান্য। আমাদের তুলনায় দেখবেন বিশ্বের অন্যান্য দেশে বহুগুণ বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমি ওয়াশিংটনে দেখলাম দ্বিগুণ হয়েছে।”
দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। তাও কীভাবে উচ্চ মূল্য দিয়ে যেভাবে আনতে হচ্ছে; সরকারের তো সামর্থ্যের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এবং সরকার চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। সুতরাং আমাদের খুব সাবধান হতে হবে।

“এজন্য আমাদের সকলের মিলে কৃচ্ছতাও সাধন করতে হবে। আবার সাথে সাথে যাতে লাইট অফ না হয়, যাতে ফ্যাক্টরি বন্ধ না হয়; আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ম্যানেজমেন্ট খুবই ভালো। তবে সমস্যা নাই—এই কথা বলার তো সুযোগ নেই।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখবেন আমরা সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। বিরোধী দলসহ একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখানে ট্রান্সপারেন্সি। আমরা পুরো বিষয়টা স্বচ্ছতার সাথে হ্যান্ডল করছি।
“এখানে লুকোচুরি কিছু নেই। দেশ তো সকালের, বিএনপি'র তো দেশ না। আমাদের জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনার, তো আমরা যা করছি স্বচ্ছতার সাথে।”
ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে এক প্রম্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, “২৩০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে নিয়ে গিয়েছে। ব্যাংকগুলো সব লুটপাট করে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটাকে তো রিকভার করার দায়িত্ব বিএনপির কাছে এসেছে। এমন একটা সময় এসেছে—যখন ব্যাংকগুলো সব খালি, শেয়ারবাজার ধ্বংস।
“জনগণের অর্থ ব্যাংক থেকে নিতে পারছে না; যারা ডিপোজিট রেখেছে, তারা তো পাচ্ছে না। এর থেকে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না। এটাকে ফিরিয়ে আনতে সময় দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি। এবং বিএনপি কিন্তু সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন—ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন, অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল্-ফোরকান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।