Published : 30 Mar 2026, 07:47 PM
শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে মুক্ত করে ‘সৃজনশীল মেধাবী প্রজন্ম’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে ‘স্বাধীনতা বইমেলা চট্টগ্রাম-২০২৬’।
মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে বইমেলার উদ্বোধন হবে। অন্য বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এ মেলার আয়োজন করা হলেও এবার নির্বাচন ও রোজার কারণে মেলা শুরু হচ্ছে ৩১ মার্চ, যা ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) উদ্যোগে এ বইমেলা আয়োজনে সহযোগিতা করছে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদ।
সোমবার বিকেলে মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা আশা করছি এবারের বইমেলা অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি লেখক-পাঠক সমাগমে ভরপুর হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

“আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকেই আজকাল মোবাইলে ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সময় অর্থ, স্বাস্থ্য সবই শেষ করছে এর পেছনে। এতে তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বই অন্যতম বন্ধু যা তাদের মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে বের করে সৃজনশীল মেধাবী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।”
তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে মা-বাবা, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাই বইমেলা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা আমাদের ওপর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।
“আশা করি এই মেলায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের লেখক-পাঠক ও সৃজনশীল নাগরিকদের অংশগ্রহণে সংস্কৃতি ও মননের উৎকর্ষের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এবার জিমনেসিয়াম মাঠের ৪০ হাজার বর্গফুট জুড়ে ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ডাবল স্টল ৩৫টি এবং সিঙ্গেল স্টল ৯৪টি। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে।
মেলার মঞ্চে প্রতিদিনের আয়োজনে থাকবে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, ছড়া উৎসব, কবিতা উৎসব, আলোচনা, লোক উৎসব, তারুণ্য উৎসব, নারী উৎসব, বৈশাখী উৎসব, মরমী উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, পেশাজীবী সমাবেশ ও চাটগাঁ উৎসব।
এছাড়া প্রতিদিন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধের জাগরণী গান ও শিশু কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হবে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “আশা করি এই মেলায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের লেখক-পাঠক ও সৃজনশীল নাগরিকদের অংশগ্রহণে সংস্কৃতি ও মননের উৎকর্ষের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটবে।
“মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার জন্য গেইটে ও মেলায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বেসরকারি পেশাদার একটি নিরাপত্তা সংস্থা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।”
মেয়র সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বললেও সংবাদ সম্মেলন চলাকালে মেলা প্রাঙ্গণে ইট বিছাতে দেখা গেছে। এছাড়া শামিয়ানা ও ত্রিপল টাঙানো হলেও কিছু স্টলের কাজও বাকি ছিল। স্টল বুঝে না পাওয়ায় স্টলের ভিতরে সজ্জার কোনো কাজই শুরু করতে পারেননি প্রকাশকরা।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনো আমাদের স্টল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। আশা করছি কাল মেলা উদ্বোধনের আগে স্টল সজ্জা শেষ করতে পারব।”