Published : 25 Oct 2024, 09:52 PM
সনাতনী সম্প্রদায়কে উচ্ছেদের চেষ্টা হলে তার ‘পরিণতি ভালো হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ’ এর মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময়কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী।
বন্দর নগরীর লালদিঘী মাঠে শুক্রবার বিকালে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “এ বঙ্গের উত্তরাধিকার আমরা। আমরা এ ভূমির ভূমিপুত্র, উড়ে আসিনি। আমরা মোগল-ব্রিটিশ পর্তুগীজ নয়, আমরা এ ভূমির সন্তান। আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করবেন না।
“কেউ যদি আমাদের উৎখাত করে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করেন তাহলে এ ভূমি সাম্প্রদায়িকতার অভয়ারণ্য হবে। এ ভূমি আফগানিস্তান, সিরিয়া হবে। বাংলাদেশের কোনো গণতান্ত্রিক শক্তি রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।”
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জন্য সব গণতন্ত্রমনা রাজনৈতিক দল, মানুষকে সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
হিন্দুদের সঙ্গে প্রহসন হচ্ছে মন্তব্য করে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান চিন্ময়কৃষ্ণ।

তার ভাষ্য, “আমরা আর নীরব থাকব না, মাঠে নেমেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সনাতনী ভূমিপুত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না, মৃত্যু হলেও রাজপথ ত্যাগ করব না।”
সনাতন জাগরণ মঞ্চের ওই সমাবেশে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের দলীয় পরিচয়ে নমিনেশন দিয়ে দলীয় চাকরে পরিণত করছে। হিন্দুদের অস্তিত্বের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বাস্তবতায় আমরা আমাদের সংখ্যানুপাতিক হারে সংসদীয় আসন বরাদ্দ করতে হবে। আমরা এ দেশে ৩২-৩৩টা আসন পাই। সেখানে আমাদের মুলা ঝোলানোর রাজনীতি করে আমাদের দাবিয়ে রাখবেন না। এরকম হলে আমরা বাংলাদেশে ভোট বর্জন করব।
পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ বলেন, “আমরা সংখ্যালঘু বললে আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে অধিকার দেওয়ার ভয়ে আমাদের বাংলাদেশি পরিচয় প্রদান করতে চাইবেন। কিন্তু আমাদের নৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন এ প্রহসন আমরা আর মানব না।”
বাংলাদেশে বারবার ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও স্থিতিশীলতা আসছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সহনশীলতা লুপ্ত হচ্ছে। সম্মানবোধ হারিয়ে যাচ্ছে, যে শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড তাদের তাদের পদত্যাগ করানো হচ্ছে। মাঝখানে কিছুদিন এমন অপকর্ম থেমে গিয়েছিল, এখন আমার মাথাচাড়া দিচ্ছে।
“এ সংস্কৃতিকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।”

সাধুদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে অভিযোগ করে চিন্ময়কৃষ্ণ বলেন, “কিছু হলেই আমাদের ‘দালাল’ তকমা দেয়। আমাদের ইন্ডিয়ার দালাল বলা হচ্ছে। এমন কোনো রাজনৈতিক দল নেই যারা ইন্ডিয়া গিয়ে প্রতিদিন ধরনা দিচ্ছে না।”
সমাবেশে শঙ্করমঠের অধ্যক্ষ তপনানন্দগিরি মহারাজ, কৈবল্যধাম আশ্রমের মহোন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য্য, রবিশ্বরানন্দগিরি মহারাজ, গোপীনাথ দাশ ব্রহ্মচারী বক্তব্য দেন।