Published : 16 May 2026, 08:58 PM
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পকে প্রাধান্য দিয়ে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার বিকালে নগরীর শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালে সেতু নির্মাণকাজ ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “প্রকল্প করা হয়েছে, কিন্তু যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি। সেটা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চেষ্টা করছি। যে অংশটুকু বাকি আছে, সেটার অর্থায়ন করে…যদিওবা সরকারি তহবিলের অবস্থা খুবই কঠিন আপনারা জানেন।”
তিনি বলেন, “এই যে বিদ্যুৎ বিল, তেলের বিল, গ্যাসের বিল- এগুলো দিতে গিয়ে কঠিন অবস্থা। ওই যে যুদ্ধের কারণে। এবং যেটা পেয়েছি বিগত সরকারগুলো থেকে ওই দায়বদ্ধতাগুলো মোচন করতে হচ্ছে। তারপরও চট্টগ্রামের এই (মেগা) প্রকল্পকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে বরাদ্দ দিচ্ছি।
“প্রকল্পটা সুষ্ঠু সমাধান না করলে চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতায় কষ্ট পাচ্ছে। এটা প্রাধান্য দিতে হচ্ছে এবং লুটপাটের হিসাব নিশ্চয় বের করা হবে। এই লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত সেটাও বের করা হবে।”
জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ অনেক কাজ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এর সুফল সামনে পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং যেখানে যা সমস্যা আছে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু কিছু সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িঘর রয়েছে, তা সরাতে হচ্ছে। সেখানে প্রতিরোধ দেয়াল দেওয়া হচ্ছে এবং খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে।
“সবচেয়ে বড় কথা, প্রকল্প শেষ হওয়ার পরে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দরকার। সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। সেজন্য মেয়রের নেতৃত্বে যে কমিটি হয়েছে, তাতে সমন্বয় করতে পারছি, যেটা আগে করতে পারেনি।”
বর্ষার জন্য কাজ কিছুদিন বন্ধ থাকবে এবং বর্ষার পরে কাজ পরিপূর্ণভাবে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
“এরপরে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার যে সমস্যা, এগুলোর সমাধান হবে আশা করি। সঙ্গে সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা দরকার। ‘খাল একটা ডাস্টবিন’- এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই প্রকল্প আশা করি এ বছর বাস্তবায়ন শেষ হয়ে যাবে। তখন পরিপূর্ণভাবে ফলাফল পাব,” বলেন তিনি।
এবারের বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতাকে সাময়িক বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বৃষ্টি কত হলে কত পানি ফ্লো (গড়াবে) হবে, কত পানি সাগরে যাবে, সব হিসাব করা হচ্ছে। স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনার একটা ব্যাপার আছে। এই প্রকল্প সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারলে এ বছরের শেষ থেকে আগামীতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বড় ধরনের সমাধান হবে।”
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মন্ত্রীর সেতু নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন।