সাকিব-লিটনের আইপিএল খেলা নিয়ে ‘আগের অবস্থানেই’ বিসিবি
জাতীয় দলের খেলা শেষ করে তবেই আইপিএলে যেতে পারবেন সাকিব আল হাসান, লিটন দাসরা- আবারও সেই কথা মনে করিয়ে দিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
গত কয়েক আসর ধরেই আইপিএল শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে অনাপত্তিপত্র। এবারও ব্যতিক্রম নয়। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে এলো আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ। নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনেনি বোর্ড।
আগামী ৩১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। নিলাম থেকে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসকে কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। দিল্লি ক্যাপিট্যালস ধরে রেখেছে মুস্তাফিজুর রহমানকে। তবে তিনজনের কারোরই পুরো আসর খেলার তেমন সম্ভাবনা নেই।
সাকিব-লিটনরা নিলামে দল পাওয়ার পরে কিংবা তারও আগে আইপিএলের প্রসঙ্গে বেশ কয়েকবার বিসিবি সভাপতি বলেছেন, জাতীয় দলের খেলার সময় কোনো ক্রিকেটারকে ছুটি দেবেন না তারা। বাংলাদেশের সিরিজ শেষ করে তবেই যেতে হবে আইপিএল বা অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই কথা মনে করিয়ে দিলেন নাজমুল হাসান।
“যখন ওদেরকে (সাকিব-লিটন) আইপিএল নিলামে ডাকা হয়, তার আগে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, ওরা কখন থেকে খেলতে পারবে। আমরা ওদেরকে (সময়সীমা) দিয়ে দিয়েছি। সেটি জেনেই আইপিএলে ওদেরকে নিলামে নিয়েছে। খুবই সাধারণ ব্যাপার।”
“এরপর কোনো কিছু পরিবর্তন হলে তো আমরাই আপনাদেরকে (সংবাদমাধ্যমকে) বলব। ওখান থেকে পরিবর্তন হওয়ার মতো আমাদের মধ্যে কিছু আসেনি। কাজেই আমাদের যেটা ছিল তাই আছে।”
শুধু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নয়, জাতীয় দলের যে কোনো খেলায়ই যে দেশের ক্রিকেটারদের থাকতে হবে, সেটিও জোর দিয়ে বলেন বিসিবি সভাপতি।
“(জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের) না থাকার কোনো অপশনও দেখি না আমি। আমার কথা হচ্ছে, এটা যদি এমন হতো যে আমরা ওদেরকে বলেছি যে, আমরা ভেবে চিন্তে দেখতেও পারি... খেলোয়াড়দের বা আইপিএলকে এমন কোনো অপশন দিলে হয়তো একটা সন্দেহ থাকত।”
“আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি। আমরা এখন পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্তেই আছি। সত্যি কথা বলতে... সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনাও দেখি না। যদি কখনও হয় আপনাদের অবশ্যই জানাব। এখন আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে।”
আইপিএল শুরুর দিন শেষ হবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর ৪ এপ্রিল মাঠে গড়াবে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ। পাঁচ দিন খেলা হলে যা চলবে ৮ তারিখ পর্যন্ত। ততদিনে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ খেলে ফেলবে সাকিব-লিটনের কলকাতা।
দীর্ঘ দিন ধরে টেস্ট না খেলা মুস্তাফিজ অবশ্য সাকিব-লিটনদের আগেই যেতে পারবেন। এমনকি প্রথম ম্যাচ থেকেও দলের সঙ্গে থাকার পথ খোলা আছে তার সামনে। ৩১ মার্চ আইপিএল শুরু হলেও দিল্লির প্রথম ম্যাচ ১ এপ্রিল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে পরদিনই আইপিএলের জন্য ভারতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকছে বাঁহাতি পেসারের।
বিসিবির আগের অবস্থান অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর আইপিএলে যোগ দিলেও বাকি ম্যাচের সবগুলো শেষ করে ফিরতে পারবেন না সাকিব-লিটনরা।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই আইসিসি বিশ্বকাপ সুপার লিগের সিরিজ খেলতে মে মাসে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। আগামী ৯, ১২ ও ১৪ মে চেমসফোর্ডে হবে ম্যাচ তিনটি। ওই সিরিজের সময় আরও কিছু ম্যাচ মিস করবেন সাকিব, লিটন, মুস্তাফিজরা।
