২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলোয়াড়দের ভোটে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত আয়ারল্যান্ডের

কতজন খেলোয়াড় ভোট দিয়েছেন, সেটির বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আইরিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী।

খেলোয়াড়দের ভোটে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত আয়ারল্যান্ডের

রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড দল। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 10:46 PM

Updated : 26 Sep 2026, 10:46 PM

উয়েফা নেশন্স লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নিজেদের অবস্থান চূড়ান্ত করেছে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল শনিবার জানিয়েছেন, ম্যাচটি খেলা হবে কি না-তা নিয়ে দলের মধ্যে ভোটাভুটির পর খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাঙ্গেরির ডেব্রাসেনে রোববার অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচের আগের দিন আয়ারল্যান্ড তাদের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে এবং অনুশীলন সেশনও বিলম্বিত হয়। দলের একজন খেলোয়াড় নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর আইরিশ খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে নেশন্স লিগের ড্রয়ে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তাদের ম্যাচ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল; কারণ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচকদের একটি আয়ারল্যান্ড। ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার দাবিতে আয়ারল্যান্ডে বহুবার বিক্ষোভ হয়েছে।

কোরেল সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সকালে একজন খেলোয়াড় আসন্ন ম্যাচ খেলার বিষয়ে প্রধান কোচের কাছে অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।

“শেষ পর্যন্ত, সম্ভবত ৯০ মিনিটের মধ্যে আমরা দলের সদস্যদের ভোট গ্রহণ করি, যাতে ম্যাচটি খেলার বিষয়ে তাদের মনোভাব বোঝা যায়। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় খেলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।

“এর ভিত্তিতে, আইরিশ ফুটবলের পক্ষ থেকে অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নেয় যে, ম্যাচটি হবে, কারণ আমরা সবসময়ই নির্ধারিত ম্যাচগুলো খেলার পরিকল্পনা করে এসেছি।”

কোরেল জানান, শনিবার খেলোয়াড়দের মধ্যে চার ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে এবং কোনো কোনো পর্যায়ে কোচিং স্টাফ ও নির্বাহী কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার দুই ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়, যেখানে খেলোয়াড়রা হাঙ্গেরিতে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হন।

কতজন খেলোয়াড় ভোট দিয়েছেন, সেটির বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান প্রধান নির্বাহী। তবে তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে ছিলেন।

এ দিন আয়ারল্যান্ডের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে এফএআই সাংবাদিকদের জানায়, ডেব্রাসেনে মাঠে দলের অনুশীলনের পরই এখন এটি হবে।

চলতি আন্তর্জাতিক বিরতির বাকি দিনগুলোতে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আর কোনো সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন না।

কোরেল বলেন, “গতকাল খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার সময় এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, ফুটবল-বহির্ভূত নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে গিয়ে তারা এই পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করছেন।”

তিনি আরও জানান, ম্যাচের আগে ইসরায়েলি দলের সঙ্গে করমর্দন বা স্মারক পতাকা বিনিময়ের কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকবে না এবং গাজায় সংঘাতের ঘটনায় প্রাণ হারানো সবার স্মরণে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন।

ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতাগুলো থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার জন্য উয়েফার কাছে অনুরোধ জানাতে আইরিশ ফেডারেশনের সদস্যরা গত নভেম্বরে ভোট দিয়েছিলেন; তবে জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় নির্ধারিত ম্যাচগুলো চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে প্রস্তাব পাস হয়।

ইসরায়েলের সব হোম ম্যাচ ডেব্রাসেনে হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ৪ অক্টোবর দলটির বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের হোম ম্যাচটি সার্বিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ম্যাচটি হবে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে।