Published : 19 Sep 2026, 10:41 PM
আরও একটি একপেশে ম্যাচ, আবারও ইংল্যান্ডের দাপুটে জয়। সিরিজের শেষ ম্যাচেও পাত্তা পেল না শ্রীলঙ্কা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হটিয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরল ইংলিশরা।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতল হ্যারি ব্রুকের দল।
ম্যানচেস্টারে শনিবার সাত বল বাকি থাকতে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় কেবল ১২৪ রানে। জস বাটলারের আরেকটি ঝড়ো ইনিংসে স্বাগতিকরা লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৯.৪ ওভারেই।
এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি ইংল্যান্ডের টানা ১৫তম জয়, যা টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে কোনো দলের বিপক্ষে টানা সবচেয়ে বেশি জয়ের যৌথ রেকর্ড। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৫ ম্যাচ জিতে রেকর্ডটি গড়েছিল পাকিস্তান।
আগের ম্যাচে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা বাটলার এ দিন খেলেন ৩২ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস। সাত চার ও দুই ছক্কায় গড়া ইনিংসে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।
দ্বিতীয় উইকেটে বাটলারের সঙ্গে ৩৯ বলে ৮৫ রানের জুটির পথে ২১ বলে ৩৩ রান করেন ব্রুক। তিন ম্যাচে মোট ১৭০ রান করে সিরিজ-সেরা হন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ছিল দারুণ। কিন্তু এই সিরিজে নিজেদের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কা জমিয়ে রেখেছিল যেন শেষ ম্যাচের জন্যই!
আগের ম্যাচগুলোর ভুল থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। নতুন বলে সনি বেকার ভালো বোলিং করে লাহিরু উদারাকে ফেরান দ্রুত। কামিল মিশারাও ব্যর্থ হন, লং-অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান তিনি।
পাথুম নিসাঙ্কা বেশ ছন্দে খেলছিলেন, কিন্তু মিডউইকেটে ব্রুকের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে শেষ হয় তার ২৪ বলে ৩৬ রানের ইনিংস।
ব্রুক দারুণভাবে বোলার পরিবর্তন করে সফরকারীদের ওপর চাপ ধরে রাখেন। নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেয়নি স্বাগতিকরা। চারিথ আসালাঙ্কা, দাসুন শানাকারা ভালো করতে পারেননি।
নিসাঙ্কা ছাড়া একমাত্র কামিন্দু মেন্ডিসকে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে দেখা যায়। ২৮ বলে ৩৫ রান করে ষোড়শ ওভারে আউট হন তিনি। ১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় লঙ্কানরা।
ইংল্যান্ডের হয়ে জেমি ওভারটন চমৎকার বোলিংয়ে চার ওভারে কেবল ১৫ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। বেকার, জফ্রা আর্চার ও উইল জ্যাকস শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত বিদায় নেন আনাইরিন ডোনাল্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক সিরিজে ভালো করতে পারলেন না তিনি; তিন ম্যাচে তার রান যথাক্রমে ১২, ২১ ও এবার ১৩।
তবে ইংল্যান্ডের জয় নিয়ে একটুও ভাবতে হয়নি। বাটলার ও ব্রুকের আগ্রাসী জুটি কাজ সেরে ফেলে অনেকটা।
৩০ বলে ফিফটি করেন বাটলার। জয় থেকে ১৮ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন ব্রুক। ইথান মালিঙ্গার চার বলের মধ্যে একটি চার ও দুটি ছক্কায় ম্যাচের ইতি টানেন বাটলার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ১৮.৫ ওভারে ১২৪ (নিসাঙ্কা ৩৬, উদারা ১০, মিশারা ২, আসালাঙ্কা ১৬, কামিন্দু ৩৫, শানাকা ১২, হাসারাঙ্গা ৭, রাত্নায়াকে ৩, মালিঙ্গা ০, মাদুশাঙ্কা ০, থুশারা ০*; বেকার ৩.৫-০-১৭-১, আর্চার ৩-০-২৩-২, ডসন ২-০-১৭-১, জ্যাকস ৪-০-৩১-১, রাশিদ ২-০-২১-০, ওভারটন ৪-০-১৫-১)
ইংল্যান্ড: ৯.৪ ওভারে ১২৬/২ (বাটলার ৬২, ডোনাল্ড ১৩, ব্রুক ৩৩, ব্যান্টন ০*; থুশারা ২-০-২৯-০, মাদুশাঙ্কা ২-০-২৪-০, রাত্নায়াকে ২-০-২৮-১, মালিঙ্গা ১.৪-০-৩৪-০, হাসারাঙ্গা ২-০-১১-০)
ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জস বাটলার
ম্যান অব দা সিরিজ: হ্যারি ব্রুক