স্যামসনের মাঝে কোহলি ও রোহিতকে দেখেন কুম্বলে
ভারতের কিংবদন্তি স্পিনারের মতে, এবারের বিশ্বকাপে দুই গ্রেট ব্যাটসম্যানের ভূমিকা এক সঙ্গে পালন করেছেন সাঞ্জু স্যামসন।
প্রয়োজনে ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে কচুকাটা করেন বোলারদের, আবার দরকার হলে সেই ব্যাটকেই ঢাল বানিয়ে আগলে রাখেন উইকেট। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেমন বিধ্বংসী ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন, তেমনি দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দলের হাল ধরার কাজটিও করেছেন। তার মাঝে ভিরাট কোহলি ও রোহিত শার্মা দুইজনকেই দেখেন ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার আনিল কুম্বলে।
সাদা বলের ক্রিকেটে বিস্ফোরক ওপেনারদের একজন রোহিত শার্মা। ইনিংস শুরু করতে নেমে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন তিনি। পাওয়ার প্লেতে দলকে যত বেশি রান এনে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্য থাকে তার।
কোহলির ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আগ্রসন শব্দটা যায় না। তার ব্যাট থেকে বের হয় নান্দনিক সব শট। ম্যাচের সব পরিস্থিতির সঙ্গেই যিনি মানিয়ে নিতে পারেন। দ্রুত রান তোলা কিংবা বিপদে পড়া দলের হাল ধরা; সব কিছুতেই পারদর্শী তিনি। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন তো তাকে এমনিই মনে করা হয় না।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এই সংস্করণকে বিদায় বলে দেন কোহলি ও রোহিত। এবারের আসরে তাদের অভাব যেন বুঝতেই দেননি স্যামসন। চমৎকার ব্যাটিংয়ে বিশ্ব মঞ্চে টানা তিন ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস উপহার দিয়ে দলের শিরোপা জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি।
আহমেদাবাদে রোববারের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারানোর ম্যাচে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন স্যামসন। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ঠিক ৮৯ রান করেন তিনি। দুটি ইনিংসই খেলেন তিনি আগে ব্যাটিংয়ে নেমে।
সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রান তাড়ায় অপরাজিত ৯৭ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন স্যামসন। সেদিন একপ্রান্ত আগলে রেখে, চাপকে দূরে সরিয়ে, দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন তিনি।
অথচ টুর্নামেন্টে শুরুতে স্যামসন সুযোগ পাচ্ছিলেন না ভারতের একাদশে। গ্রুপ পর্বে কেবল একটি ম্যাচ খেলেন তিনি। সুপার এইটে এসে ফের সুযোগ পান। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে চোখধাঁধানো ইনিংসের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
পরপর তিন ম্যাচে ফিফটি করা স্যামসনই হন এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক কোচ কুম্বলে বলেন, রোহিত ও কোহলি- দুইজনের ভূমিকাই এবার পালন করেছেন স্যামসন।
“২০২৪ বিশ্বকাপের দিকে তাকালে, সেখানে ভিরাট কোহলি ও রোহিত শার্মা ছিল। তারা দুইজনই গ্রেট ক্রিকেটার এবং তাদের শূন্যস্থান পূরণ করা কঠিন। আমার মনে হয়, স্যামসন একদিক থেকে কোহলি ও রোহিতের সংমিশ্রণ। যখন কোহলির মতো পরিকল্পনা করে উইকেট বাঁচিয়ে খেলা প্রয়োজন, তখন সে তা করছে। আবার যখন পাওয়ার প্লেতে রানের গতি বাড়ানোর জন্য বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া দরকার, (রোহিতের মতো) তখন সেটাও করছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি মুগ্ধ স্যামসনের গেমপ্ল্যান দেখে।
“সে দারুণ ফর্মে আছে এটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এবং সে তার খেলার ধরনে অবিচল। যেন মনে হচ্ছে, তার আগের ইনিংসটিই দেখছি। এটা স্রেফ তার গেমপ্ল্যান (কতটা নিখুঁত) ফুটিয়ে তুলছে।”
“নিজের শক্তি জায়গা কোথায় এবং কোন জায়গায় রান করতে চায় না, সে তার পরিকল্পনায় একদমই পরিষ্কার। তার ব্যাটিংয়ের ছন্দও চমৎকার। অতিরিক্ত জোর দিয়ে বল মারার চেষ্টা করছে, এমন মনে হয় না।”
