Published : 09 Feb 2026, 11:31 PM
র্যাঙ্কিং আর শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলের পার্থক্য বিশাল। মাঠের ক্রিকেটেও ফুটে উঠল সেটি। কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় ধারেকাছেও যেতে পারল না কানাডা। লুঙ্গি এনগিডির দারুণ বোলিংয়ে বড় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল প্রোটিয়ারা।
আসরে দুই দলের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৫৭ রানে।
আহমেদাবাদে সোমবার ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২১৩ রান। বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ এটি। ২০১৬ আসরে ওয়াংখেড়েতে ২২৯ সর্বোচ্চ।
জবাবে ১৫৬ পর্যন্ত যেতে পারে কানাডা।
১০ চার ও এক ছক্কায় ৩২ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার সুর বেঁধে দেন অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। ডেভিড মিলার তিন ছক্কা ও এক চারে করেন ২৩ বলে ৩৯। দুটি করে চার ও ছক্কা ১৯ বলে ৩৪ রান করেন ট্রিস্টান স্টাবস। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩৯ বলে আসে ৭৫ রান।
ম্যাচের সর্বোচ্চ ইনিংস অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার কারো নয়। তিন নম্বরে নেমে সাত চার ও এক ছক্কায় ৪৯ বলে ৬৪ রান করেন কানাডার নাভনিত ঢালিওয়াল।
চার ওভারে ৩১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার এনগিডি। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জেতেন ২৯ বছর বয়সী এই পেসার।
সেই ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা। তারপর এই প্রথম দল দুটির দেখা হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার।
সাত মাস পর এই সংস্করণে খেলতে নামা কানাডা বোলিং নেয় টস জিতে। তৃতীয় ওভারে উইকেটও পেতে পারত তারা, কিন্তু কুইন্টন ডি ককের ক্যাচ ফেলেন আনশ প্যাটেল। ৫ রানে জীবন পেয়ে এগিয়ে যান ডি কক। আরেক প্রান্তে ঝড় তোলেন মার্করাম।

পাওয়ার প্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকা করে বিনা উইকেটে ৬৬ রান। পরের ওভারে বিদায় নেন ডি কক (২২ বলে ২৫)।
দ্বিতীয় উইকেটে রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন মার্করাম। প্রোটিয়া অধিনায়ক ফিফটি করেন ২৮ বলে। তার বিদায়ে থামে ২৯ বলে ৫৬ রানের জুটি।
একই ওভারে রিকেলটন (২১ বলে ৩৩) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে ফেরান আনশ। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর, বিস্ফোরক জুটিতে দলের স্কোর দুইশ পার করেন মিলার ও স্টাবস।
মিলারের দুটি ও স্টাবসের একটি ছক্কায় শেষ ওভারে আসে ২১ রান।
৩১ রানে ৩ উইকেট নেন কানাডার বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার আনশ। তার জন্ম ভারতের গুজরাটে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল তার পরিবারের সদস্যরা।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই অধিনায়ক দিলপ্রিত বাজওয়াকে হারায় কানাডা। বাজওয়াকে ফিরিয়ে শিকার ধরা শুরু করা এনগিডি পরের ওভারে বিদায় করেন ইউভরাজ সামরা ও নিকোলাস কার্টনকে।
শ্রেয়াস মোভাকেও পাওয়ার প্লের মধ্যে হারিয়ে ফেলে কানাডা। ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর, পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের জুটিতে দলকে টানেন ঢালিওয়াল ও হার্শ ঠাকার। দুজনই খেলেন চমৎকার কিছু শট। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারেননি কেউই।
দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৯ বলে ৩৩ রান করেন হার্শ। শেষ ওভারে আউট হন ঢালিওয়াল। তার ৬৪ রান বিশ্বকাপে কানাডার হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস। আগের রেকর্ডটিও ছিল তার নিজেরই, গত আসরে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৬১।
এই ম্যাচে দুটি ক্যাচ নিয়ে, বিশ্বকাপে কিপারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ডে মাহেন্দ্র সিং ধোনির পাশে বসেছেন ডি কক; দুজনেরই ৩২টি করে। ডি ককের এককভাবে চূড়ায় ওঠা কেবল সময়ের ব্যাপার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ২১৩/৪ (মার্করাম ৫৯, ডি কক ২৫, রিকেলটন ৩৩, ব্রেভিস ৬, মিলার ৩৯*, স্টাবস ৩৪*; কালিম ৪-০-৩৮-০, হেইলিগার ১-০-১৩-০, জাফার ৩-০-৩৮-০, বাজওয়া ৪-০-৪০-১, জাসকারান ৪-০-৪৯-০, আনশ ৪-০-৩১-৩)
কানাডা: ২০ ওভারে ১৫৬/৮ (বাজওয়া ০, ইউভরাজ ১২, ঢালিওয়াল ৬৪, কার্টন ৪, হার্শ ৩৩, জাফার ১১, জাসকারান ০, হেইলিগার ৪*, কালিম ৫*; এনগিডি ৪-০-৩১-৪, ইয়ানসেন ৪-০-৩০-২, রাবাদা ৪-০-৪০-১, বশ ৪-০-২৭-১, মহারাজ ৪-০-২৮-০)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: লুঙ্গি এনগিডি