Published : 20 Feb 2026, 01:47 PM
বেশ সহজই ছিল ক্যাচটি। কিপার রাহমানউল্লাহ গুরবাজ বলের নিচেও গেলেন ঠিকঠাক। কিন্তু মুঠোয় জমাতে পারলেন না বল। গুরবাজ নিজে, আশেপাশে থাকা ফিল্ডাররা, এমনকি বোলার নিজে, সবাই হাসতে থাকলেন। আফগানিস্তান তখন বড় জয়ের পথে। ওই ক্যাচ ছাড়ায় ক্ষতি তেমন কিছু হয়নি। তাই হয়তো সবাই মজার দিকটিই দেখলেন। তবে ম্যাচে প্রভাব না পড়লেও বড় একটি মাইলফলক হাতছাড়া হয়ে গেল বোলারের। প্রথমবার ৫ উইকেট পাওয়া হলো না!
বোলারের নাম মোহাম্মাদ নাবি। ৫ উইকেট না হওয়ার আক্ষেপ কিছু তার থাকতেই পারে। তবু তিনি হাসতে পারছেন। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং যে করেছেন এই ম্যাচেই! ৪১ বছর ৪৯ দিন বয়সে নিজেকে ছাড়িয়ে আফগান কিংবদন্তি নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়েও। তার এমন পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক রাশিদ খান বলছেন, নাবির অবসর এখনও অনেক দূরে।
বিশ্বকাপে আগের ম্যাচগুলিতে খুব ভালো করতে পারেননি নাবি। প্রথম ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন একটি, পরের ম্যাচে একটিও নয়। তৃতীয় ম্যাচে তো বল হাতে নেওয়ারই সুযোগ পাননি। তবে শেষ ম্যাচে দেখালেন নিজের সেরাটা। কানাডার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে ৪ ওভারে ৪ উইকেট নিলেন মাত্র ৭ রান দিয়ে।
১৫২ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই নিয়ে চতুর্থবার ম্যাচে ৪ উইকেট নিতে পারলেন নাবি। আগের সেরা ছিল ১০ রানে ৪ উইকেট।
অনুমিতভাবেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে ৪ উইকেট শিকার করা বোলার এখন তিনি।
আগের রেকর্ডটি এই বিশ্বকাপেই দুই দফায় গড়েছিলেন শাডলি ফন ষ্কল্কভাইক। যুক্তরাষ্ট্রের পেসার ভারতের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট নেন ৩৭ বছর ১৮৬ দিন বয়সে। পরে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ঠিক ২৫ রানেই ৪ উইকেট নেন ৮৬ বছর ১৮৯ দিন বয়সে।
এখন যদিও আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রাশিদ, তবে তাদের প্রথম বৈশ্বিক তারকা বলতে হবে নাবিকেই। আফগান ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলিতে, সেই আইসিসি ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড ডিভিশন ফাইভ থেকে দেশের ক্রিকেটের সঙ্গী তিনি। সময়ের সঙ্গে তিনি নেতৃত্ব পেয়েছেন, হয়ে উঠেছেন আফগান ক্রিকেটের এগিয়ে চলার প্রতীক। প্রতিটি ধাপে, প্রতিটি উত্থানপতনে, আফগান ক্রিকেটের প্রতিটি অর্জনে মিশে ছিলেন তিনি। আছেন এখনও। প্রশ্ন হলো, থাকবেন কতদিন?
বয়স যখন ৪১ পেরিয়েছে, শেষ হয়েছে একটি বিশ্ব আসর, প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
তবে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের পর আইসিসি ডিজিটালে আলোচনায় রাশিদ বললেন, নাবিকে নিয়ে প্রশ্নের কোনো অবকাশ তাদের মধ্যে নেই।
“নিজেকে এত ফিট রেখেছেন তিনি! দলের প্রত্যেকের জন্য সে উদাহরণ, বিশেষ করে তরুণদের জন্য। মাঠে তাকালেই দেখতে পাবেন, তিনি এখনও প্রাণশক্তি বয়ে আনেন দলে, অভিজ্ঞতাও। আশা করি, তিনি আফগানিস্তানের হয়ে খেলে যাবেন আরও দীর্ঘদিন। যেটা বললাম, দলের সবার জন্যই শুধু নয়, আফগানিস্তানেও তরুণদের সামনে দারুণ এক উদাহরণ তিনি।”
সঞ্চালক এবার সরাসরিই প্রশ্ন করলেন, “এটা কি তাহলে ইঙ্গিত যে তিনি এখনই অবসর নিচ্ছেন না?” রাশিদের উত্তর, নাবির কোনো বিকল্পই এখনও নেই।
“তার চেয়ে ভালো কাউকে তো এখনও দেখি না! মাঠে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি… এমনকি তিনি নিজেও জানেন যে, বিকল্প কেউ এখনও নেই। যখনই এমন কেউ আসবে, তিনি সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু এখনও তিনি দলের যে কারও চেয়ে ভালোভাবে সেরাটা মেলে ধরছেন।”