Published : 05 Mar 2026, 10:04 PM
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জরিমানা করার খবর বিশ্বাসই করতে পারছেন না উসমান খাওয়াজা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান বলছেন, এতে বরং খেলোয়াড়দের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
চলমান বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। এরপরই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়, পাকিস্তান দলের প্রতি সদস্যকে ৫০ লাখ রুপি (১৮ হাজার মার্কিন ডলারের মতো) করে জরিমানা করা হয়েছে।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, গ্রুপ পর্বে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে বাজেভাবে হারার পরপরই ক্রিকেটারদের এই জরিমানা করা হয়। সেমি-ফাইনালে উঠতে পারলে জরিমানা মওকুফ করা হতে পারে, এমন কথাও নাকি বলা হয়েছিল ক্রিকেটারদের।
পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও জরিমানার খবর তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেটে। বিশ্ব ক্রিকেটেও বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে খাওয়াজা বললেন, এই খবর খুবই অবাক করেছে তাকে। পিসিবির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও তুললেন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া এই ব্যাটসম্যান।
“আমি মাত্রই শুনলাম যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের জরিমানা করা হয়েছে। আমি বলতে চাইছি, প্রথমে এটা বিশ্বাস করিনি, তবে এটা সত্যই হবে। সত্যিই আশ্চর্যজনক যে, পিসিবি এটাকে ভালো কিছু মনে করেছে। দুঃখিত, আমি হাসছি কারণ, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।”
“একটু ভাবুন তো, ক্রিকেটসহ, বিশ্বের উঁচু মানের কোন দল খেলোয়াড়দের ম্যাচ হারার জন্য জরিমানা করে? তারা তো ক্রিকেট ম্যাচ হারার চেষ্টা করছে না! এর ফলে তারা পরেরবার আরও ভালো পারফর্ম কীভাবে করবে? এর ফলে খেলোয়াড়দের ওপর আরও চাপ বাড়বে এবং মানসিক চাপ তৈরি হবে। তারা ইতোমধ্যেই যথেষ্ট চাপের মধ্যে আছে। তারা পাকিস্তানি খেলোয়াড়, পুরো দেশ দেখছে। অতীতে দল নির্বাচনগুলোও তাদের ওপর চাপ তৈরি করেছে, আর এখন তাদের জরিমানা করছেন? একেবারেই বাজে বিশৃঙ্খল অবস্থা। পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের জন্য সত্যিই আমার খারাপ লাগছে।”
খাওয়াজার মতে, পাকিস্তান ক্রিকেট যেন কোনো ‘ধারাবাহিক নাটক।’
“হ্যাঁ, সত্যি বলতে, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই কারণেই আমি এই ভিডিওটি তৈরি করেছি। বিশ্বাস করতে পারছি না। প্রতিবার যখন আমি মনে করি, পাকিস্তান আর আমাকে অবাক করবে না, তখনই তারা আমাকে তাই করে। এটা একটা ধারাবাহিক নাটক মতো। পরবর্তী পর্বের জন্য আমার তর সইছে না।”