Published : 11 Feb 2026, 07:10 PM
পুরো ম্যাচেই ফিফটি নেই একটিও। তবে সম্মিলিত চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়াকে মাঝারি পুঁজি এনে দিলেন ব্যাটসম্যানরা। পরে বল হাতে দ্যুতি ছড়ালেন ন্যাথান এলিস ও অ্যাডাম জ্যাম্পা। তাদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না আয়ারল্যান্ড।
কলম্বোতে বুধবার আইরিশদের ৬৭ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮২ রান করে প্রতিপক্ষকে ১১৫ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে স্রেফ ১২ রান দিয়ে চার উইকেট নেন চোট কাটিয়ে দলে ফেরা এলিস। ২৮ রান খরচায় চার উইকেট এই পেসারের আগের সেরা।
চমৎকার লেগ স্পিনে ২৩ রান দিয়ে চার শিকার ধরেন জ্যাম্পাও। তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে এলিসের হাতে। টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার ম্যাচ সেরা হলেন তিনি।
শেষের মতো শুরুটা ভালো ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। প্রথম ওভারে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া ট্রাভিস হেড বিদায় নেন পরের ওভারেই। রান আউটে কাটা পড়েন এই ম্যাচের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। চোট সমস্যায় খেলতে পারেননি নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
মার্ক অ্যাডায়ারকে চার মেরে রানের খাতা খোলা জশ ইংলিস তৃতীয় ওভারে ম্যাথু হামফ্রেজকে হাঁকান টানা তিন চার। ব্যারি ম্যাককার্থিকে চারের পর ছক্কায় ওড়ান ক্যামেরন গ্রিন। অ্যাডায়ারকে ছক্কা মারার পরের বলেই মিড-উইকেটে ধরা পড়েন তিনি, ভাঙে ৪৯ রানের জুটি।
পাওয়ার প্লের পরের ওভারেই বাজে ইংলিসের বিদায়ঘন্টা। এক ছক্কা ও ছয়টি চারে ৩৭ রান করেন তিনি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে টিকতে দেননি হ্যারি টেক্টর।
বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ম্যাট রেনশকে নিয়ে দলের রান বাড়ান মার্কাস স্টয়নিস। পঞ্চম উইকেটে ৬১ রানের জুটি গড়েন তারা দুইজন। সপ্তদশ ওভারে রেনশর (২ চারে ৩৭) বিদায়ে ভাঙে তাদের যুগলবন্দি। এক ছক্কা ও দুই চারে ৪৫ রান করা স্টয়নিসও ফিরে যান পরের ওভারে।
শেষ দুই ওভারে ২৩ রান তোলেন কুপার কনোলি ও জাভিয়ের বার্টলেট। তাতে ১৮০ ছাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার রান।
রান তাড়ায় প্রথম বলেই বড়সড় ধাক্কা খায় আয়ারল্যান্ড। বার্টলেটের ইয়র্কার কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন পল স্টার্লিং। কিন্তু পরক্ষণেই খোঁড়াতে দেখা যায় আইরিশ অধিনায়ককে। এরপর মাঠ ছেড়ে উঠে যান তিনি, আর নামেননি ব্যাটিংয়ে।
ক্রিজে গিয়ে মুখোমুখি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে বার্টলেটকে চার ও ছক্কা মারেন রস অ্যাডায়ার। পরের ওভারে ম্যাথু কুনেমানের বলে ফেরেন হ্যারি টেক্টর।
আক্রমণে এসে প্রথম বলেই রস অ্যাডায়ারের স্টাম্প ভেঙে দেন এলিস। পরের বলেই তাকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন কার্টিস ক্যাম্পার। প্রতিশোধ নিতে দেরি করেননি এলিস। পরের ডেলিভারিতেই ফিরিয়ে দেন তিনি ক্যাম্পারকে।
নিজের পরের ওভারে বেন কালিটজকে বোল্ড করে দেন এলিস। ২৭ রানে ৪ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ডকে আরও চেপে ধরেন জ্যাম্পা। প্রথম ওভার করতে এসে তিনি কট বিহাইন্ড করে দেন গ্যারেথ ডেলানিকে।
পঞ্চাশের আগে ৫ উইকেট হারানো আইরিশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। জ্যাম্পার ছোবলে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। পঞ্চদশ ওভারে জোড়া শিকার ধরেন জ্যাম্পা।
নিজের শেষ ওভারটি করতে এসে ব্যারি ম্যাককার্থিকে ফিরিয়ে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন এলিস। প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড, মিচেল স্টার্কের অনুপস্থিতি একদমই বুঝতে দেননি তিনি।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে দুই ছক্কা ও তিনটি চারে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন ডকরেল। ২৫ রানও করতে পারেননি আর কেউ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (হেড ৬, ইংলিশ ৩৭, গ্রিন ২১, রেনশ ৩৭, ম্যাক্সওয়েল ৯, স্টয়নিস ৪৫, কনোলি ১১*, বার্টলেট ১১*; হামফ্রেজ ৪-০-৩৩-১, অ্যাডায়ার ৪-০-৪৪-২, ম্যাককার্থি ৩-০-৩৭-০, ডেলানি ২-০-১২-০, ডকরেল ৪-০-৩১-১, টেক্টর ৩-০-২৪-১)
আয়ারল্যান্ড: ১৬.৫ ওভারে ১১৫ (স্টারলিং ১ আহত অবসর, রস অ্যাডায়ার ১২, টেক্টর ০, টাকার ২৪, ক্যাম্পার ৪, কালিটজ ২, ডেলানি ১১, ডকরেল ৪১, মার্ক অ্যাডায়ার ১২, ম্যাককার্থি ২, হামফ্রেজ ৩*; বার্টলেট ২-০-২২-০, কুনেমান ৪-০-২৯-১, এলিস ৩.৫-১-১২-৪, জ্যাম্পা ৪-০-২৩-৪, কনোলি ৩-০-২৬-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ন্যাথান এলিস।