Published : 09 Feb 2026, 09:36 AM
আসরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে হেরে গেছে নেদারল্যান্ডস। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ কাঁপিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইংল্যান্ডকে বাগে পেয়েও অল্পের জন্য পারেনি নেপাল। এইডেন মার্করামের মতে, আইসিসির সহযোগী ও টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান এখন আর খুব একটা নেই, অঘটন ঘটতে পারে যেকোনো দিনে। নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কানাডাকে নিয়ে তাই ভীষণ সতর্ক দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক।
আহমেদাবাদে সোমবার কানাডার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই এই ম্যাচে মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানার্সআপ তারা। এমনকি হয়ে যেতে পারত চ্যাম্পিয়নও; কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৩০ বলে ৩০ রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয় প্রোটিয়ারা।
পরের বছর তারা ২৭ বছরের আইসিসি ট্রফি-খরা কাটায় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। তাতে ঘুচে যায় তাদের সঙ্গে লেগে থাকা ‘চোকার’ তকমাও।
এই বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা যেমন বলেন, তাদের নিয়ে লোকজনের ধারণা এখন পাল্টে গেছে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া মার্করামও রাবাদার সঙ্গে একমত পোষণ করলেন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয় তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
“কেজি (কাগিসো রাবাদা) আমার তুলনায় সামাজিক মাধ্যমে অনেক বেশি সক্রিয়। আমি ফোনে বেশ অদক্ষ, কিন্তু ওই বিষয়টি মনে হয় এমনই।”
“কিন্তু তাই বলে এখানে এসে ভাবার সুযোগ নেই যে, হঠাৎ করেই সব সহজ হয়ে যাবে। আমাদের এখনও সেরাটা দিতে হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি অবশ্যই আমাদের দলের মধ্যে বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।”
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ১৯ নম্বরে থাকা কানাডা গত সাত মাস ধরে এই সংস্করণে কোনো ম্যাচ খেলেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা কখনোই টি-টোয়েন্টি খেলেনি কানাডার বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই দুই দলের একমাত্র মুখোমুখি লড়াই সেই ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কানাডা অচেনা এক প্রতিপক্ষ। এই ম্যাচে তাই নতুন চ্যালেঞ্জ দেখছেন মার্করাম।
“আমরা তাদের বিপক্ষে খেলিনি এবং আমরা শতভাগ নিশ্চিত নই যে, সামনে কী আসছে, আর এটাই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।”
“যখন ধারাবাহিকভাবে দলগুলোর সঙ্গে খেলেন, তখন তাদের খেলার ধরন, তাদের পরিকল্পনা, খেলোয়াড় ও সামর্থ্য সম্পর্কে মোটামুটি ভালো ধারণা থাকে। আমাদের দিক থেকে অবশ্য এ বিষয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। আমরা বরং আমাদের সামর্থ্য ও পরিকল্পনা এবং তা ভালোভাবে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাই। যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলে আমাদের ভালো সুযোগ থাকবে।”
তবে মার্করাম স্বীকার করে নিচ্ছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে যেকোনো কিছু হতে পারে।
“সহযোগী দেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে ব্যবধান অনেক কমে গেছে। এই সংস্করণে অঘটন ঘটতে স্রেফ এক বা দুজন খেলোয়াড়ের ভালো দিন কাটানোর প্রয়োজন হয়। এই বিশ্বকাপের শুরুতেও আমরা তা দেখেছি, কিছু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচ হয়েছে এবং ম্যাচগুলো যেকোনো দিকে ঘুরে যেতে পারত। এসব (লড়াই) দেখা আসলেই বেশ রোমাঞ্চকর।”