Published : 08 Mar 2026, 02:04 PM
আভিশেক শার্মা এই জ্বলে উঠল বলে, আশায় থেকে থেকে বিশ্বকাপই শেষ হওয়ার পথে। একটি ম্যাচে ফিফটি ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি মারকাটারি এই ব্যাটসম্যান। সুপার এইট থেকে একই চিত্র ভারুন চক্রবর্তির। তিনি যেন বোলিংই ভুলে গেছেন! আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে অবশ্য এখনও আছেন তারা দুজনই। তবে ফাইনালের ভারতীয় একাদশে তাদের কারও জায়গা দেখছেন না কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার।
বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচ খেলে আভিশেকের রান ৮০। গড় ১২.৭১। স্ট্রাইক রেট ১৩০.৮৮, তার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেটের তুলনায় যা অনেক কম।
বিশ্বকাপের আগে তাকে ঘিরে ছিল প্রবল প্রত্যাশা। রিকি পন্টিংসহ অনেকেরই ধারণা ছিল, এই বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন ভারতের এই ওপেনার। কিন্তু হয়েছে উল্টো। টানা তিন শূন্য দিয়ে শুরুর পর কিছু রান পেয়েছেন, একটি ম্যাচে ফিফটি করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপন চেহারা ফিরে পাননি।
তকে একাদশে রাখা উচিত কি না, এই আলোচনায় চলছে অনেক। ইন্ডিয়া টুডেকে গাভাস্কার বললেন, আভিশেকের ওপর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এই ওপেনারের বদলে ফাইনালে তিনি দেখতে চান রিঙ্কু সিংকে।
“খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত… আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান আভিশেক। তবে সে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি। সে বারবার একই জায়গায় আউট হচ্ছে, জায়গা বের করে হাত খুলতে পারছে না। বোলাররা তার ওই জায়গাটিকেই লক্ষ্য বানাচ্ছে এবং তাকে ভুল করতে বাধ্য করছে। আমার দুর্ভাবনার জায়গা হলো, সে এখনও মানিয়ে নিতে পারেনি কিংবা নিজেল ধরন বদলানোর সামর্থ্য নেই তার।”
“আমি দেখতে চাইব, সাঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ইনিংস শুরু করবে ইশান কিষান। একাদশে ঢুকবে রিঙ্কু সিং। রিঙ্কুর বিশ্বাসটা আছে… তার শরীরে ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনা’ ট্যাটু হয়তো দেখে থাকবে… কখনও কখনও তার মতো ক্রিকেটারদের জন্য এসব কাজে লেগে যায়।”
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রোববারের ফাইনালে আরেকটি পরিবর্তন দেখতে চান গাভাস্কার। গ্রুপ পর্বে ভালো করলেও সুপার এইট থেকে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন ভারুন। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা বোলার রান বিলিয়ে দিচ্ছেন দেদার। ম্যাচের পর ম্যাচ তাকে তুলাধুনা করছেন ব্যাটসম্যানরা। সেমি-ফাইনালে তো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খরুচে বোলিং করে ৪ ওভারে ৬৪ রান দিয়েছেন এই স্পিনার।
তার জায়গায় বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপকে দলে চান গাভাস্কার।
“আরেকটি যে বদল আমি বিবেচনা করব, সেটা হলো কুলদিপ ইয়াদাভকে দলে আনা। ভারুন চক্রবর্তির আত্মবিশ্বাস আপাতত চুরমার হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। সুপার এইট পর্বে তুলনামূলক শক্তিশালী দলগুলির বিপক্ষে সে ধুঁকেছে এবং প্রচুর রান বিলিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের মতো মাঠে, যেখানে সীমানা অনেক বড়, কুলদিপ সেখানে ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ নিষ্প্রাণ উইকেটেও সে বল ঘোরাতে পারে।”