Published : 19 Feb 2026, 03:41 PM
শেষ উইকেটের পতন হতেই চওড়া হাসি খেলে গেল শামার জোসেফের মুখে। ম্যাচ জয় তাদের নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বেশ আগেও। তবে তার উচ্ছ্বাসে মিশে থাকল ব্যক্তিগত প্রাপ্তির তৃপ্তিও। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেটের স্বাদ পেলেন। সঙ্গে নিয়েছেন ৪টি ক্যাচও। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ৩ হাজার ৭২৪ ম্যাচের ইতিহাসে এমন কীর্তি নেই আর কারও!
জয়ের ভিত অবশ্য আগেই গড়া হয়ে যায় দলের অধিনায়কের ব্যাটে। টপ ও মিডল অর্ডারের অন্যদের ব্যর্থতার দিনে শেই হোপ উপহার দেন দুর্দান্ত ইনিংস। এরপর জোসেফের জোড়া চারের যুগলবন্দিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়ে যায় বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ জয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইতালিকে ৪২ রানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করা ক্যারিবিয়ানরা অপরাজিত থেকেই যাচ্ছে পরের ধাপের অভিযানে।
কলকাতায় বৃহস্পতিবার ক্যারিবিয়ানরা ২০ ওভারে তোলে ১৬৫ রান। অধিনায়ক শেই হোপের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ৭৫ রান।
ম্যাচের মাঝবিরতিতে মাঠ ছাড়ার সময় বেশ উৎফুল্ল আর উজ্জীবিত মনে হচ্ছিল ইতালিয়ানদের। বেশ আঁটসাঁট বোলিং আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে প্রতিপক্ষকে মাঝারি স্কোরে আটকে রাখার পর উচ্ছ্বসিত হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বিশ্বকাপ অভিষেকে নজরকাড়া ইউরোপের দলটি মুখ থুবড়ে পড়ল ব্যাটিংয়ে। গুটিয়ে যায় তারা ১২৩ রানেই।
আগের ৩ ম্যাচ মিলিয়ে ৩টি উইকেট নেওয়া জোসেফ এবার এক ম্যাচেই শিকার করেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার ম্যাথু ফোর্ড ব্যাট হাতে ক্যামিও ইনিংস খেলার পর বল হাতে নেন ৩ উইকেট।
টসের সময় শেই হোপ বলেছিলেন, “প্রক্রিয়া ধরে রাখতে হবে…।” সেটির প্রমাণ দিতেই যেন আগের একাদশই ধরে রাখে তারা। আগেই সুপার এইট নিশ্চিত হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো পথ বেছে নেওয়া হয়নি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য কিছুটা পরীক্ষায় পড়ে যায় তারা। দ্বিতীয় ওভারেই বাঁহাতি পেসার আলি হাসানের দারুণ ডেলিভারিতে বিদায় নেন ব্র্যান্ডন কিং। একাদশে ফেরা টমাস ড্রাকা একটু পরে ফিরিয়ে দেন শিমরন হেটমায়ারকে।
রান আসছিল তখন কেবল হোপের ব্যাটেই। পাওয়ার প্লেতে দলের ৪৮ রানের ৩৯ আসে তার ব্যাট থেকেই।

তৃতীয় উইকেটে ৫০ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি রস্টন চেইসের সঙ্গে। তবে চেইস একদমই ছন্দ পাননি। আউটও হয়ে যান ২৫ বলে ২৪ রান করে। রভম্যান পাওয়েল আউট হয়ে যান একটি ছক্কার পরই।
পুরো সমটায় আরেক প্রান্ত থেকে দলকে এগিয়ে নেন হোপ। ১৫ ওভারে দলের রান যখন ১১৫, অধিনায়কের অবদান তাতে ৭৫।
লেগ স্পিনার কৃষান কালুগামাগের বলে স্লগ সুইপের চেষ্টায় শেষ হয় হোপের পথচলা। ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জেসন হোল্ডার থেমে যান একটি ছক্কা মেরেই।
শেষ দিকে কিছুটা রান বাড়ান শেরফেন রাদারফোর্ড (১৫ বলে ২৪*) ও ম্যাথু ফোর্ড (৮ বলে ১৬*)। শেষ ৫ ওভারে ৫০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সেই স্কোর নিয়ে তাদের শঙ্কার কারণ ছিল যথেষ্টই। আগের ম্যাচে এই মাঠেই ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়ে ১৭৮ রান তুলেছিল ইতালি, মুম্বাইয়ে নেপালের ১২৩ রান টপকে গিয়েছিল তারা ত্রয়োদশ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে। তবে শেষ ম্যাচটিতে সেই বারুদ দেখা গেল না তাদের ব্যাটে।
অ্যান্থনি মোস্কা শুরুটা ভালো করলেও আউট হয়ে যান ১২ বলে ১৯ রান করে। তার ছোট ভাই জাস্টিন মোস্কা ও তিনে নামা সৈয়দ নাকভি ফেরেন দ্রুতই।
ভালো করতে পারেননি অধিনায়ক হ্যারি ম্যানেন্টিও। জেজে স্মাটসের লড়াই শেষ হয় ২৭ বলে ২৪ করে। বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়া বেন ম্যানেন্টি পরের দিকে আরেকটু লড়াই করে ২১ বলে করেন ২৬।
৮ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের ইনিংস শেষ হয় ২ ওভার আগেই।
শেষ উইকেটটি নিয়ে ৪ উইকেট পূর্ণ করেন জোসেফ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে ৪ উইকেট ও ৪ ক্যাচ নেই আর কারও।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সোমবার সুপার এইট শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম বিশ্বকাপে একটি জয়, দারুণ কিছু লড়াই আর অনেক সম্ভাবনার ঝিলিক নিয়ে দেশে ফিরবে ইতালি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ :২০ ওভারে ১৬৫/৫ (কিং ৪, হোপ ৭৫, হেটমায়ার ১, চেইস ২৪, পাওয়েল ৯, রাদারফোর্ড ২৪*, হোল্ডার ৯, ফোর্ড ১৬*; স্মাটস ৪-০-২৭-০, হাসান ৩-০-২৪-১, ড্রাকা ২-০-২২-১, স্টুয়ার্ট ৩-০-৩০-০, বেন ম্যানেন্টি ৪-০-৩৭-২, কালুগামাগে ৪-০-২৫-২)।
ইতালি : ১৮ ওভারে ১২৩ (জাস্টিন মোস্কা ২, অ্যান্থনি মোস্কা ১৯, নাকভি ৬, স্মাটস ২৪, হ্যারি ম্যানেন্টি ৮, বেন ম্যানেন্টি ২৬, স্টুয়ার্ট ১২, মিড ৪, কালুগামাগে ২*, ড্রাকা ৫, হাসান ০ ; আকিল ৩-০-২৫-১, ফোর্ড ৪-০-১৯-৩, হোল্ডার ৩-০-১৯-০, মোটি ৪-০-২৪-২, জোসেফ ৪-০-৩০-৪)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেই হোপ।