Published : 08 Feb 2026, 07:21 PM
রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার পারদ তখন চূড়ায়। ইতিহাস গড়তে নেপালের প্রয়োজন শেষ বলে ছয় রান। ঝড় তুলে দলকে ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখানো লোকেশ বাম ছিলেন স্ট্রাইকে। কিন্তু স্যাম কারানের করা লো ফুলটস বলটিতে এক রানের বেশি নিতে পারলেন না তিনি। তাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারল না এশিয়ার দলটি।
কয়েক মাস আগেই টি-টোয়েন্টির দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই সংস্করণের সিরিজে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নেপাল। এবার দুইবারের শিরোপা জয়ী ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অবিস্মরণীয় জয়ের আশা জাগায় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় হেরে গেল স্রেফ ৪ রানে।
শেষ ১৫ বলে নেপালের যখন প্রয়োজন ৩৭ রান, পরপর দুই বলে জফ্রা আর্চারকে ছক্কায় ওড়ান লোকেশ। তাতে সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ২৪ রানের। ১৯তম ওভারে লুক উডকে দুটি চার মেরে লক্ষ্যের কাছে দলকে নিয়ে যান তিনি।
কিন্তু শেষ ওভারে কারানের অসাধারণ বোলিংয়ে ১০ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি লোকেশ। দুই ছক্কা ও চারটি চারে ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
ওই ওভারে একটি বাউন্ডারিও দেননি ইংলিশ অলরাউন্ডার কারান। শেষ বলটি করার পর হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন তিনি। তার নৈপুণ্যেই নেপালের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নেমে অঘটনের শিকার হওয়া থেকে বাঁচে ইংলিশরা।
শক্তি-সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে থাকা নেপালের বিপক্ষে ব্যাটিংটাও আশানুরূপ ছিল না ইংল্যান্ডের। চারটি করে ছক্কা-চারে জেকব বেথেল ৫৫ রান এবং তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে হ্যারি ব্রুক ৫৩ রান করেন বটে, কিন্তু শেষ দিকে উইল জ্যাকসের ক্যামিও ইনিংসটিই গড়ে দেয় ব্যবধান।
চারটি ছক্কা ও একটি চারে ১৮ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জ্যাকস। পরে অফ স্পিনে ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন এক উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তারই হাতে।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এদি টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, স্বীকৃত ক্রিকেটে নিজের অভিষেক ম্যাচে প্রথম বলেই ফিল সল্টকে ফিরিয়ে দেন শের মাল্লা। ওভারটি অবশ্য ভালোভাবে শেষ করতে পারেননি নেপালের অফ স্পিনার। তাকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন জেকব বেথেল।
ভালো শুরুর আভাস দিয়ে পাওয়ার প্লেতে ফিরে যান জস বাটলার। ৫ চারে ২৬ রান করে কট বিহাইন্ড হন ইংলিশ বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। সপ্তম ওভারে টম ব্যান্টনকে এলবিডব্লিউ করে দেন নেপালের ‘পোস্টার বয়’ লেগ স্পিনার সান্দিপ লামিছানে।
৫৭ রানে ৩ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডকে পথে রাখেন বেথেল ও হ্যারি ব্রুক। তাদের ব্যাটে দ্রুত আসতে থাকে রান। কুশাল ভুর্তেলকে টানা দুই ছক্কা মারেন বেথেল, দ্বিতীয়টিতে ২৮ বলে স্পর্শ করে ফিফটি।
পরের ওভারে লামিছানেকে পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান ব্রুক। দিপেন্দ্রা সিং আইরিকে আরেকটি ছক্কায় ওড়ান তিনি। ওই ওভারেই বেথেলের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ বলে ৭১ রানের জুটি।
কারান পারেননি টিকতে। ১৯তম ওভারে বিদায় নেন ব্রুকও। শেষ দিকের রানের চাহিদা পূরণ করেন জ্যাকস। শেষ ওভারে কারান কেসিকে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি।
রান তাড়ায় কুশালের ব্যাটে ভালো শুরু পায় নেপাল। দ্বিতীয় ওভারে আর্চারকে তিনি চার মারেন তিনি। পরের ওভারে উডকে ছক্কার পর হাঁকান চার।
চতুর্থ ওভারে স্পিন আক্রমণে আসতেই ভাঙে ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। লিয়াম ডসনকে সুইপ করে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন আসিফ শেখ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জ্যাকসকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন দারুণ খেলতে থাকা কুশাল।
অধিনায়ক রোহিত পাউডেল ও দিপেন্দ্রার ব্যাটে লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে নেপাল। ৫৪ বলে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৮২ রানের জুটি গড়েন তারা। এক ছক্কা ও ছয়টি চারে ২৯ বলে ৪৪ রান করা দিপেন্দ্রাকে বিদায় করেন কারান। পরের ওভারেই ডসন ভাঙেন রোহিতের (দুটি করে ছক্কা-চারে ৩৯) প্রতিরোধ।
শেষ চার ওভারে ৫৬ রানের লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে থাকেন লোকেশ। তার একার চেষ্টায় স্মরণীয় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে নেপাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (সল্ট ১, বাটলার ২৬, বেথেল ৫৫, ব্যান্টন ২, ব্রুক ৫৩, কারান ২, জ্যাকস ৩৯*, আর্চার ১, ডসন ০*; কারান ৩-০-৩৫-০, মাল্লা ৩-০-৩৫-১, দিপেন্দ্রা ৩-০-২৩-২, নান্দান ৩-০-২৫-২, লামিছানে ৪-০-২৫-১, কুশাল ৪-০-৪০-০)
নেপাল: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (কুশাল ২৯, আসিফ ৭, রোহিত ৩৯, দিপেন্দ্রা ৪৪, আরিফ ১০, লোকেশ ৩৯*, গুলশান ১, কারান ১*; উড ৩-০-৩১-১, আর্চার ৪-০-৪২-১, ডসন ৪-০-২১-২, জ্যাকস ২-০-১৭-১, রাশিদ ৩-০-৪২-০, কারান ৪-০-২৭-১)
ফল: ইংল্যান্ড ৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: উইল জ্যাকস।