Published : 24 Feb 2026, 05:37 PM
ব্যাটে-বলে জিম্বাবুয়েকে যেভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তা মনে ধরেছে আনিল কুম্বলের। ভারতীয় কিংবদন্তি স্পিনারের মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে কীভাবে খেলতে হবে, সেটা বেশ ভালো করেই জানে ক্যারিবিয়ানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হওয়া ভারতকেও দাপটের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে বলেছেন সাবেক এই কোচ।
অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দলকে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠেছে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। আফ্রিকার দলটির বোলারদের তুলাধুনা করে ২৫৪ রান করে ক্যারিবিয়ানরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এরপর দুর্দান্ত বোলিং উপহার দেন তাদের দুই বাঁহাতি স্পিনার গুডাকেশ মোটি ও আকিল হোসেন। জিম্বাবুয়ের সাত উইকেটই নেন তারা দুইজন। সমান ২৮ রান দিয়ে মোটি ৪টি ও আকিল ধরেন ৩টি শিকার।
তাদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে ১৪৭ রানে গুটিয়ে ১০৭ রানের বড় জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জিওস্টারে আলাপকালে এই দুই স্পিনারকে স্তুতির জোয়ারে ভাসান কুম্বলে।
“টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে জিততে হলে কী করতে হবে সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানে। তাদের বাঁহাতি স্পিনাররা দুর্দান্ত। গুডাকেশ মোটি দারুণ বোলিং করেছে। এই সংস্করণে ফিঙ্গার স্পিনাররা ব্যাটারদের জোন থেকে দূরে বল করার চেষ্টা করে, কিন্তু মোটি ও আকিল ছিল ব্যতিক্রম।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশাল এই রান গড়ার কারিগর শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েল। তিনে নেমে সাতটি করে ছক্কা-চারে ৩৪ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন হেটমায়ার। আর চারটি করে ছক্কা-চারে ৩৫ বলে ৫৯ রান করে পাওয়েল।
আলাদা করে এই দুইজনেরও কথা বলেন কুম্বলে।
“শিমরন হেটমায়ার দীর্ঘদিন ফিনিশারের দায়িত্ব পালন করছে এবং সে জানে কীভাবে সীমানা পার করতে হয়। তার পাওয়ার ও টেম্পারমেন্ট দুটোই আছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে ২০-৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে থেমে যায় না, সেগুলোকে বড় স্কোরে রূপ দেয়। সে যদি ৩০ রানে আউট হতো- ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়তো ২৫৪ করতে পারত না।”
“পাওয়েল আবারও প্রমাণ করেছে যে সে পাওয়ার-হিটার। সে শুরুতে সময় নেয়, আর যখন থিতু হয়ে যায়, অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। সে অনেক জোরে বল মারে।”
আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের মতো অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করা ভারত সুপার এইটে এসে খায় বড় ধাক্কা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮৮ রান তাড়ায় স্রেফ ১১১ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
৭৬ রানের বড় পরাজয় ভারতের রান রেটে ফেলেছে বিরূপ প্রভাব। সেমি-ফাইনালের ওঠার পথ শিরোপাধারীদের জন্য হয়ে উঠেছে কঠিন। পরের দুই ম্যাচ জিতলেও এখন তাদের নির্ভর করে থাকতে হবে অন্যদের পারফরম্যান্সের ওপর।
কুম্বলের মতে, আপাতত সব বাদ দিয়ে আসছে দুই ম্যাচে দাপটের সঙ্গে জেতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দলের।
“এই পর্যায়ে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাজেভাবে হেরেছে ভারত, কিন্তু এটা কেবল তাদের পরাজয়ের ব্যাপার নয়, তারা যেভাবে হেরেছে সেটা চিন্তার। এখন মূল ব্যাপারটা হলো, তারা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।”
“নেট রান রেট বাড়ানোর জন্য ভারতকে দাপটের সঙ্গে জিততে হবে, যেমনটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে। এরপর তাদেরকে অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে। মূল লক্ষ্য থাকতে হবে দুই ম্যাচই জেতা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যদি ভারতের হাতে থাকে তাহলে নেট রান রেট এমনিতেই বেড়ে যাবে।”
সুপার এইটে আগামী বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। পরে রোববার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে তারা।