ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ‘শুধু অংশ নিতেই এসেছে’
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো ক্রিকেটারই পাকিস্তান দলে দেখেন না ভারতের অফ স্পিনিং গ্রেট হারভাজান সিং।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এখন আর ক্রিকেটীয় লড়াই সেভাবে নেই। বেশ কয়েক বছর ধরেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে আসছে ভারত। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও প্রতিবেশিদের উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ভারতের অফ স্পিনিং গ্রেট হারভাজান সিংয়ের মতে, দুই দলের লড়াইয়ে এখন স্রেফ মাঠে হাজির হওয়া ছাড়া কিছুই করছে না পাকিস্তান।
কলম্বোতে রোববার পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে পৌঁছে গেছে ভারত। ম্যাচটিতে কোনো লড়াই করতেই পারেনি পাকিস্তান। ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তাড়ায় গুটিয়ে গেছে ১১৪ রানে।
পাকিস্তানকে হারানো এখন আর নতুন কিছু নয় ভারতের কাছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই এখন পর্যন্ত নয়বারের লড়াইয়ে আটবারই জিতেছে তারা। ওয়ানডে বিশ্বকাপে তো পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ভারতীয়রা।
একটা সময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হতো তুমুল লড়াই। কিন্তু এখন ভারতকে পরীক্ষায় ফেলার মতো পাকিস্তান দলে কোনো ক্রিকেটারই দেখেন না হারভাজান।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য বললেন, শুধু পারফরম্যান্সে নয়, পরিকল্পনায় অনেক গলদ রয়েছে পাকিস্তানের।
“পাকিস্তান আরও একবার এই ম্যাচে কেবল অংশ নিতেই এসেছে। তারা ম্যাচটি জিততে আসেনি। ম্যাচ জেতার মতো দল তাদের নেই। একটা সময় তারা লড়াই করত, কিন্তু এখন তাদের এমন কোনো ক্রিকেটার নেই যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। এমনকি তাদের কিংবদন্তিরাও বলছে যে, তাদের পরিকল্পনা ভুল। যে ক্রিকেটারের পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করার কথা, তাকে ওপেন করানো হচ্ছে।”
ম্যাচটিকে ঘিরে ছিল নানা আলোচনা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে কলম্বোতে খেলায় পাকিস্তানকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছিলেন অনেকে। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আশায় ছিলেন কেউ কেউ।
কিন্তু দুই দলের মধ্যে পার্থক্যটা যে এখন বিশাল, সেটাই আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেন হারভাজান।
“আমার তো খুবই মজা লেগেছে। লোকে বলছিল, পাকিস্তান এবার লড়াই করবে, তাদের দল এখন আগের চেয়ে ভালো, তারা কন্ডিশন সম্পর্কেও ভালো জানে, এমন অনেক কিছু। কিন্তু সত্যিটা হলো, এই দুই দলের মধ্যে এখন পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। ভারতকে ১৭৫ রানে আটকে দেওয়া পর পাকিস্তান ভেবেছিল তারা ম্যাচে আছে। কিন্তু ১৭৫ রান এই উইকেটে অনেক। লোকে বলছিল, এটা হবে, ওটা হবে। শেষ পর্যন্ত যা সবসময় হয়ে আসছে, তা-ই হলো।”
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দুই উইকেট নেওয়া জাসপ্রিত বুমরাহর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন হারভাজান। তার মতে, ভারতের বিপক্ষে ১৩০ রানের লক্ষ্যেও জিততে পারত না পাকিস্তান।
“বুমরাহকে নতুন বলে আক্রমণে আনা উচিত। যখন দলে বুমরাহর মতো বোলার থাকে, প্রতিপক্ষ ভয়ে থাকে। তাকে যদি পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আনা হয়, ততক্ষণে ব্যাটসম্যানরা থিতু হয়ে যায়। আজ সে যেভাবে বল করেছে, দুই ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে।”
“এই উইকেটে যদি পাকিস্তানকে ১৩০ রানও তাড়া করতে হতো, তাতেও তারা ধুঁকত। হার্দিক পান্ডিয়ার প্রথম উইকেটটি নেওয়া ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
