‘তারাও তো বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেননি’, ইউসুফ-আফ্রিদিকে খোঁচা শাদাবের
ভারতের কাছে পরাজয়ের পর পাকিস্তান দলের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন শাহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ ইউসুফের মতো সাবেকরা, এবার সেসবের জবাব দিলেন শাদাব খান।
শাদাব খান তির ছুড়লেন একদম জায়গামতো! ভারতের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই সমালোচনায় মুখর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকে। শাহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ ইউসুফরা নাম ধরেই তীব্র সমালোচনা করেছেন বেশ কজনের। তাদেরকে এবার জবাব দিলেন শাদাব খান। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ওই সাবেক ক্রিকেটারদের ব্যর্থতাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন এখনকার দলের এই অলরাউন্ডার।
ভারতের বিপক্ষে তুমুল আলোচিত লড়াইয়ে গত রোববার কলম্বোতে পাকিস্তান স্রেফ পাত্তাই পায়নি। ম্যাচটি হেরে গেছে তারা ৬১ রানে।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা এমনিতেই সবসময় দলকে তুলাধুনা করে থাকেন নানা ব্যর্থতায়। যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে এই ধারা। বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের কাছে হারার পর সমালোচনার মাত্রাটাও বেশি।
ওই পরাজয়ের পর প্রবল চাপে পড়ে যাওয়া পাকিস্তান গ্রুপের শেষ ম্যাচে বুধবার নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারিয়ে নিশ্চিত করেছেন সুপার এইট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলের জয়ে বড় অবদান রাখা শাদাব ম্যাচের পর কড়া জবাব দিলেন সাবেকদের সমালোচনার প্রসঙ্গে।
“আমাদের সাবেক ক্রিকেটারদের নিজস্ব মতামত আছে। তারা পাকিস্তানের হয়ে অনেক ভালো করেছেন। তবে দিনশেষে, তারাও তো এমন কিছু করতে পারেননি (বিশ্বকাপে ভারতকে হারানো)। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র জয়টি আমাদেরই । ব্যাপারটি (ব্যর্থতা) তো শুধু আমাদের নয়। সব মিলিয়েই বিশ্বকাপে আমরা কেবল একবারই হারিয়েছি ভারতকে।”
ওয়ানডেতে মুখোমুখি লড়াইয়ে এখনও ভারতের চেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান। কিন্তু বিশ্বকাপে চিত্রটি ভিন্ন। বিশ্ব আসরে ৮ ম্যাচের সবকটিই জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বির ১৭ ম্যাচে পাকিস্তান জিততে পেরেছে মোটে ৩টি। বিশ্বকাপের ৯ ম্যাচে ভারত এগিয়ে ৮-১ ব্যবধানে।
ওই একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০২১ আসরে দুবাইয়ে। ভিরাট কোহলির ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল বাবর আজমের পাকিস্তান। সেই ম্যাচে ভালো বোলিং করেছিলেন শাদাব।
এবার ভারতের কাছে হারার পর সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি বলেন, তার মেয়ের জামাই শাহিন শাহ আফ্রিদিসহ শাদাব খান, বাবর আজমকে বাদ দেওয়া উচিত টি-টোয়েন্টি দল থেকে। আরও একটু বাড়িয়ে সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, এই তিনজনে সময়ই শেষ হয়ে গেছে।
শাদাব এখানেও সরাসরি জবাব দিলেন ইউসুফকে, “তিনি একজন কিংবদন্তি। তবে তিনিও তো বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তেমন কিছু করতে পারেননি।”
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচই খেলেছেন ইউসুফ। ২০০৩ আসরের সেই ম্যাচে সেঞ্চুরিয়নে ৪২ বলে ২৫ রান করে আউট হয়েছিলেন স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার রেকর্ড খুব ভালো নয়। ১৩ ম্যাচ খেলে ব্যাটিং গড় ৩২.১৬। দুটি ফিফটি করতে পেরেছেন, একটি ১৯৯৯ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, আরেকটি ২০০৩ সালে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ১ ওভার বোলিং করে ১৭ রান দিয়েছিলেন শাদাব। তার মতে, স্রেফ ওই একটি ওভারের কারণেই এত সমালোচনা করা হচ্ছে তার।
“সমালোচনার কথা বললে, এসব তো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সবারই মতামত দেওয়ার অধিকার আছে। আমার মনে হয়, দলে ফেরার পর থেকে স্রেফ একটি ওভারই হয়তো ভালো হয়নি আমার। সেটির কারণেই প্রচুর সমালোচনার শিকার হয়েছি।”
“তবে সেটির ন্যায্যতা প্রমাণ করতে চাই না আমি। নিজে যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেসবে মনোযোগ দেই। একটি বাজে দিন আসতেই পারে, বাজে ওভার যেতেই পারে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কখনও অনেক রান খরচ হয়ে যাবে, কখনও উইকেটের দেখা মিলবে। এসব নিয়ে খুব ভাবি না আমি।”
এই দফায় দলে ফেরার পর থেক শাদাবের পারফরম্যান্স এখনও পর্যন্ত আসলেই বেশ ভালো। ৯ ইনিংসে ১৮৭ রান করেছেন তিনি ৩১.১৬ গড় ও ১৫৭.১৬ স্ট্রাইক রেটে এবং ১১ উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি সাতের কম রান দিয়ে।
