সিরিজ জিততে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, সমতার আশায় ভারত

দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ, ঘুরে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী ভারত।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Dec 2022, 04:40 PM
Updated : 6 Dec 2022, 04:40 PM

উচ্ছ্বাস-আনন্দের পালা শেষ। হতাশার অধ্যায়ও অতীত। দুই দলই এখন তাকিয়ে সামনের সম্ভাবনায়। দুয়ারে দাঁড়িয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আরেকটি ম্যাচ জিতলেই সাত বছর আগের মতো আবার সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ। সেই সিরিজের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে চাইবে ভারত। প্রথম ম্যাচে মুঠো থেকে ফসকে যাওয়ার পর তারা মাঠে নামবে সিরিজে টিকে থাকতে।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বুধবার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে যথারীতি দুপুর ১২টায় শুরু দিন-রাতের ম্যাচ।

২০১৫ সালে দেশের মাঠে প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। এবার সিরিজ জিতলে সেবারের মতো ঐতিহাসিক ও বিস্ময়কর হয়তো হবে না, তবে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় মানে তা সবসময়ই স্পেশাল। প্রথম ম্যাচ জিতে সেই অভিযানে বড় এক পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছেন লিটন কুমার দাস, সাকিব আল হাসানরা।

প্রথম ম্যাচে রোববার বাংলাদেশ এমনভাবে জিতেছে, সেটির রেশ সহসাই মুছে ফেলা কঠিন। শেষ জুটির রোমাঞ্চে ভেসে এমন জয়ের দেখা মেলে তো এক জীবনে একবার! তবে স্বপ্নের সেই জয়ের ঘোর থেকে বের হয়ে দল সামনের কঠিন বাস্তবতার জন্য তৈরি বলেই ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বললেন বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

“(গত ম্যাচের পর) ছেলেরা উচ্ছ্বসিত ছিল। খুবই খুশি ছিল। সেটিই তো উচিত। আমাদের জন্য দারুণ এক জয় ছিল এটি। তবে আজকে ওটা অতীত। লম্বা সময় ধরে বেশ ভালো আলোচনা হয়েছে আমাদের। আগের ম্যাচ থেকে ইতিবাচক ও শিক্ষণীয় ব্যাপারগুলিকে সঙ্গী করে সামনে এগোতে হবে আমাদের। কালকে প্রতিটি বিভাগে উন্নতির চেষ্টা করতে হবে আমাদের, কারণ আমরা জানি ম্যাচটি কঠিন হবে।”

২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের কাছে হারার পর দেশের মাঠে আর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। তিন সংস্করণের মধ্যে ওয়ানডেতেই বাংলাদেশ সবচেয়ে ধারাবাহিক ও এই সংস্করণে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত শক্তি। সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকাও তাই খুব স্বাভাবিক।

ভারত যে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে, বাংলাদেশ দলও তা জানে। তবে স্নায়ুর চাপ সামলাতে পারলে নিজেদের দলের জয়ই দেখছেন বাংলাদেশ কোচ ডমিঙ্গো।

“এই সংস্করণে বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাসী। দেশের মাঠে আমাদের রেকর্ড ভালো। ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামলে বাড়তি একটা রোমাঞ্চের ব্যাপারও আছে। তবে কাজটা সহজ হবে না। ভারত তো মানসম্পন্ন দল। শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে ওরা।”

“১-০তে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ম্যাচে যাওয়ার চেয়ে এগিয়ে থেকে যাওয়া অনেক ভালো। অবশ্যই আমাদের আগের ম্যাচের চেয়ে অনেক ভালো খেলতে হবে। যদি আমরা স্নায়ুর চাপ সামলে উঠতে পারি, আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”

সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উন্নতি প্রয়োজন ব্যাটিংয়ে। আগের ম্যাচে শেষ জুটির সাফল্যে আড়াল হয়েছে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা। প্রতিদিন যে তা হবে না, দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন কোচ ডমিঙ্গো।

“বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দলগুলির একটি ওরা। বিশ্বের সেরা দলগুলির একটির সঙ্গে নিজেরে পরখ করছি আমরা। ভারত যে প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা আমাদের জানা আছে। প্রথম ম্যাচের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে আমাদের, বিশেষ করে ব্যাট হাতে। প্রতিদিন আমরা পার পেয়ে যাব না।”

ভারত প্রথম ম্যাচে হেরে গেলেও আত্মবিশ্বাসে চোট লাগেনি বলেই দাবি শিখর ধাওয়ানের। অনুশীলনে বেশ ফুরফুরে দেখা গেছে ভারতীয়দের। প্রথম ম্যাচের জয়ে বাংলাদেশকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিয়েই ভারতের অভিজ্ঞ ওপেনার বললেন, নতুন দিনে নতুন কিছু করতে তারা প্রস্তুত।

“নতুন এক শুরু হতে যাচ্ছে কালকে এবং আমরা সেদিকেই তাকিয়ে আছি। খুবই ইতিবাচক আছি আমরা এবং ভালো মানসিকতায় আছি, কালকে ভালো ক্রিকেট খেলতে মুখিয়ে আছি।”

“কালকের ম্যাচ নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। এমন নয় যে সিরিজের প্রথম ম্যাচ আমরা প্রথমবার হেরেছি। এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার এবং আমরা জানি, কীভাবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। বাংলাদেশ অবশ্যই ভালো ক্রিকেট খেলছে। গত ম্যাচে তারা শেষ পর্যন্ত যেভাবে জিতেছে, এমনটা সচরাচর হয় না। তাদেরকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমরা বুঝতে পেরেছি করেছি কোথায় উন্নতি করতে হবে, মিটিংয়ে শুধরে নেওয়ার আলোচনা হয়েছে এবং মাঠেও তা দেখানোর চেষ্টা করব।”