৯ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে তরুণ পেসারের রেকর্ড
স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডে উঠে গেল ইকবাল হোসেনের নাম।
অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল টসে ছক্কায় ওড়ালেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। তাতে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেললেন ইকবাল হোসেন। তবে এটা এমন এক মাইলফলক, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। রান দেওয়ার সেঞ্চুরি কে করতে চায়!
পরের বলে আরেকটি রান দিয়ে অভিষেক ম্যাচেই বিব্রতকর রেকর্ডে উঠে গেল তরুণ পেসারের নাম।
আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইকবালের খরচ ৯ ওভারে ১০৪ রান। ২টি উইকেট পেলেও লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান খরচের রেকর্ড গড়েছেন ১৭ বছর বয়সী পেসার।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমির জার্সিতে স্বীকৃত ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে এমন তেতো অভিজ্ঞতা হয় ইকবালের।
এই সংস্করণে এত দিন বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ম্যাচে একশর বেশি রান দেওয়ার নজির ছিল শুধু শাহাদাত হোসেনের। ২০১১ সালে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১০৪ রান দেন দিয়েছিলেন এই পেসার।
এক যুগের বেশি সময় পর নিজের কোটার ১ ওভার কম বোলিং করে শাহাদাতের সমান রান দিলেন গত মাসে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ইকবাল।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ম্যাচে সবচেয়ে খরুচে বোলিংয়ে বিশ্ব রেকর্ডটি বাস ডে লেডের। গত বছর বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১৫ রান খরচ করেন নেদারল্যান্ডসের পেসার।
অভিষেক ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেন ইকবাল। নিজের প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ নাঈম শেখকে ফিরিয়ে তিনি পেয়ে যান প্রথম উইকেটের স্বাদ। পরে ৭৩ রান করা মাহমুদুল হাসান জয়কেও ফেরান তরুণ এই পেসার।
কিন্তু শেষ দিকে এলোমেলো হয়ে যায় সব। প্রথম ৬ ওভারে ৫২ রান দেওয়া ইকবাল পরের ৩ ওভারেই খরচ করেন আরও ৫২ রান। ৪৯তম ওভারে ৩ ছক্কা ও ১ চারে তিনি দেন ২৫ রান।
তার ওপর বেশি চড়াও হন জাকের আলি। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় তিনি নেন ১৯ বলে ৪৬ রান। আবাহনীর ওপেনার সাব্বির হোসেন ৮ বলে ৬ চারে নেন ২৪ রান। সব মিলিয়ে ১১টি চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা হজম করেন ইকবাল।
ইকবালের বিব্রতকর রেকর্ডের দিন ৭ উইকেটে ৩৪৩ রান করেছে আবাহনী। প্রথম রাউন্ডে ৫৯ বলে ৭১ রান করা সাব্বির এদিন খেলেন ৮০ বলে ৯৮ রানের ইনিংস। জয়ের ব্যাট থেকে আসে ১০৫ বলে ৭৩ রান। শেষ দিকে ৪৮ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন জাকের।
