৭ ছক্কার ইনিংসের পর হৃদয় বললেন, ‘ছয় মারা খুব কঠিন কিছু নয়’

অভ্যস্ত হয়ে গেলে ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও নিয়মিত অনেক ছক্কা মারতে পারবেন বলে বিশ্বাস বিপিএলে ঝড়ো সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানের।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 03:23 AM
Updated : 10 Feb 2024, 03:23 AM

“সিক্রেট কোনো রেসিপি আছে? ডিম খাওয়া বা এরকম কিছু…!” প্রশ্নটা ছিল মজা করে। তাওহিদ হৃদয় শুরুতে মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন। পরে মজাটা ধরতে পেরে হেসে উঠলেন সশব্দে। হাসতে হাসতেই তিনি বললেন, “সিক্রেট কিছুই নেই… আমি কেবল চেষ্টা করি বল যেদিকে, সেদিকে মারার জন্য।”

হৃদয়ের কাছে প্রশ্ন ছিল আসলে ছক্কা মারা নিয়ে। এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দেওয়ার পথে ৭টি ছক্কা মেরেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যাটসম্যান। চলতি আসরে এক ইনিংসে তার চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পারেননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। তার কাছে তাই জানতে চাওয়া হয় শক্তির রহস্য কোথায়।

মজা করে প্রশ্নটি হলেও এটির গভীরে একটি বাস্তবতাও লুকিয়ে আছে। শারীরিকভাবে শক্তপোক্ত নন বা পেশির জোর খুব বেশি নেই বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ছক্কার ঝড় তুলতে পারেন না, এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে এ দেশের ক্রিকেটে। এমনকি ক্রিকেটারদের বেশ কজনও ছক্কা মারায় নিজেদের ঘাটতি প্রসঙ্গে নানা সময়ে উদাহরণ টেনেছেন যে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের মতো অতটা বিশালদেহী নন।

বিশাল দেহ বা পেশির জোর থাকলে তা সহায়ক অবশ্যই। তবে সেটিই যে শেষ কথা নয়, তা তো ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে কতজনই প্রমাণ করে চলেছেন! বাংলাদেশের ক্রিকেটে হৃদয়ও তা আগে দেখিয়েছেন এবং দেখিয়ে চলেছেন। তার উচ্চতা খুব বেশি নয়, শারীরিক আকৃতিতে ছোটখাটো গড়নের। খুব পেশিবহুল শরীরও নয়। কিন্তু বড় বড় ছক্কা মারার সামর্থ্য তিনি দেখিয়েছেন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

যেমন দেখালেন শুক্রবার। বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির পথে যে ৭টি ছক্কা তিনি মেরেছেন, এর বেশির ভাগই বিশাল। এবারের বিপিএলে এখনও পর্যন্ত তার ছক্কা ১২টি, টুর্নামেন্টের যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ছক্কার প্রতি অনুরাগের কথা এই ইনিংস শেষেও হাসতে হাসতে বললেন হৃদয়, “ছয় মারলে তো ভালোই লাগে… চেষ্টা করি ছক্কা মারার।”

ছক্কা মারার ক্ষেত্রে শরীর যে বড় নিয়ামক নয়, সেটিও বললেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

“ছয় মারতে শক্তি বা অনেক বড় বড় ক্রিকেটার বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের যারা আছে, ওরাই বড় ছয় মারে… (তা নয়)। আমাদের দেশের ব্যাটসম্যানরাও বড় ছয় মারে। যদি খেয়াল করে থাকেন, আমাদের প্রতিটি ব্যাটসম্যানই বড় বড় ছয় মারে।”

বাংলাদেশের প্রতিটি ব্যাটসম্যানই বড় ছক্কা মারতে পারেন, এখানে সংশয় নেই। তবে কতটা নিয়মিত তারা পারছেন, কত বেশি পারছেন, ভালো বোলিং আক্রমণের সামনে কতটা পারছেন, চাপের মধ্যে কত বেশি পারছেন, সেখানে প্রশ্ন আর সংশয়ের পাহাড় জমেছে দিনে দিনে।

সেই বাস্তবতা এড়িয়ে যাচ্ছেন না হৃদয়ও। তবে ম্যাচ খেলতে খেলতেই সেটির সমাধান হবে বলে বিশ্বাস প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যানের।

“আমার কাছে মনে হয়, আমরা এরকম পরিস্থিতিতে কম অভ্যস্ত। আমরা যখন আস্তে আস্তে আরও খেলতে থাকব, আরও যখন ম্যাচে এরকম ছয় মারব, প্রতিটি ব্যাটসম্যান যখন মারবে, যখন আত্মবিশ্বাসটা আসবে যে ‘আমি মারলে ছয় হবে, পাঁচটা ফিল্ডার বাইরে থাকলেও (সীমানায়) আমি মারলে ছয় হবে’, এই বিশ্বাসটা পেলেই হবে।”

“আমি মনে করি, ছয় মারা খুব কঠিন কিছু নয়। প্রতিটি ক্রিকেটার ছয় মারতেই পারে, যারা ব্যাটসম্যান আছে। স্রেফ যদি আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে যে কোনো মাঠে যে কোনো সময়ই হবে।”

এবারের আসরে শুক্রবার পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৩ ছক্কা মেরেছেন যৌথভাবে খুলনা টাইগার্সের ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান এভিন লুইস ও দুর্দান্ত ঢাকার মোহাম্মদ নাঈম শেখ।