Published : 19 Apr 2026, 02:40 PM
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যখন টস করতে যাচ্ছেন, শরিফুল ইসলাম তখন যাচ্ছিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। একাদশে ছিল না তার নাম। পানি-তোয়ালে টানার প্রস্তুতিই নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু টসের ঠিক আগে জানতে পারলেন, মাঠে নামতে হবে তাকেই! প্রস্তুতির সময় তখন খুব একটা ছিল না। তবে শরিফুল জানতে, সুযোগটি তাকে লুফে নিতেই হবে।
তা তিনি লুফে নিয়েছেন বটে। আচমকা সুযোগ পেয়ে ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দারুণ বোলিং উপহার দিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। ১০ ওভারে ২ মেডেন নিয়ে ২৭ রানে ২টি উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনি।
পূর্ব নির্ধারিত একাদশে সেদিন বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ছিলেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। টসের ঠিক আগে ডান হাঁটুতে অস্বস্তির কথা জানান মুস্তাফিজুর রহমান। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। অধিনায়ক মিরাজ ততক্ষণে টসের জন্য রওনা হয়ে গেছেন।। কোচ ফিল সিমন্স ছুটে গিয়ে পরিবর্তিত তালিকা তুলে দেন অধিনায়কের হাতে। সেখানে মুস্তাফিজের বদলে রাখা হয় শরিফুলকে।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ম্যাচের আগের সেই ঘটনা তুলে ধরলেন শরিফুল।
“টস হওয়ার হয়তো দুই-এক সেকেন্ড আগে আমাকে বলা হলো যে আমি খেলব। রিশাদ তখন বলল, ‘হয়তো তোমার রিজিকে আছে।’ আমি ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি, তারপর রানআপ মেপেছি, ওয়ার্ম আপ বোলিং করেছি। কাজেই আলহামদুলিল্লাহ… আল্লাহ রিজিকে রেখেছিল, তার জন্য আর কী…।”
গত বছর বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ১৭ ম্যাচ খেললেও ওয়ানডেতে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্সেই তিনি জায়গা ফিরে পান ওয়ানডেতে। গত বিপিএলে রেকর্ড উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট হন। সম্প্রতি পাকিস্তান সুপার লিগেও ভালো বোলিং করেন।
“সবশেষ ওয়ানডে খেলছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে (২০২৪ সালের ডিসেম্বরে)… তারপর একটা গ্যাপ ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দলের বাইরে ছিলাম। তবে আমি সবসময় বেসিক কাজগুলা করার চেষ্টা করি আর সুযোগ এলে ভালো করার চেষ্টা করি। নিজের সঙ্গে লড়াই করেছি। সুযোগটা যখন এসেছে, ভালো করার চেষ্টা করেছি।”
তবে তার এই ফেরা পূর্ণতা পায়নি দল হেরে যাওয়ায়।
“আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটামুটি একটা বোলিং করেছি, তবে দিনশেষে আমরা ম্যাচটা হেরেছি।। সেক্ষেত্রে অবশ্যই খারাপ লাগার একটা বিষয় আছে।”