Published : 30 Jan 2026, 11:30 AM
“একটু ভুল করে ফেলেছিলাম, আমার কিছু ব্যাট ঘরে ফেলে এসেছিলাম। এজন্য ব্রেভিসের ব্যাট ব্যবহার করতে হয়েছে আমাকে। সে আমাকে বলল, ‘এটা বেশ ভালো ব্যাট, বাঁহাতির ব্যাটই দিয়েছি!’ ব্যাট ভালো, যদিও বুঝলাম না বাঁহাতির ব্যাট মানে কী…”, ম্যাচ-সেরার পুরস্কার নিয়ে হাসতে হাসতে বললেন কুইন্টন ডি কক। ব্যাট নিতে ভুলে গেলেও ২২ গজে নেমে ভুল খুব একটা করেননি তিনি। ক্যারিবিয়ান বোলারদের কচুকাটা করে স্মরণীয় করে রেখেছেন দেশের মাঠে প্রত্যাবর্তনকে।
অকাল অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফেরার পর দেশের মাঠে ডি ককের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এটি। প্রায় তিন বছর পর দেশের মাঠে টি-টোয়েন্টি। সেই উপলক্ষ রাঙিয়ে রাখলেন তিনি খুনে সেঞ্চুরিতে। রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে গড়লেন দুর্দান্ত জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের পাহাড় টপকে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতে গেল হেসেখেলে।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা।
টানা পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল গত বিশ্বকাপের রানার্স আপ দলটি। শুক্রি কনরাডের কোচিংয়ে তাদের প্রথম সিরিজ জয় এটিই। দেশের মাঠে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে চার সিরিজে প্রোটিয়াদের প্রথম জয়ও এটিই।

সেঞ্চুরিয়নে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে তোলে ২২১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা সেই রান টপকে যায় ১৫ বল বাকি রেখেই।
সুপার স্পোর্ট পার্কে বড় রান তাড়ার নজির অবশ্য নতুন কিছু নয়। এখানে দুইশর বেশি রান তাড়ার পঞ্চম ঘটনা এটি।
দেশের মাঠে নিজের সবশেষ সিরিজেই বছর তিনেক আগে এই মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ডি কক। সেদিন ২৫৯ রান তাড়ায় জিতেছিল দল। ফেরার ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন ঠিক বলেই। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১০ ছক্কায় ৪৯ বলে ১১৫ রান করে।
আউট হওয়া ডেলিভারিসহ মাত্র আটটি ডট বল ছিল তার ইনিংসে। এই সংস্করণে তার দ্বিতীয় শতরান এটি, ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও।
ইনিংসটির পথেই ফাফ দু প্লেসিকে টপকে এই সংস্করণে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম ব্যাটসম্যান হয়ে গেছেন ৩৩ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের মাইফলকও তিনি পেরিয়েছেন এ দিন। সব মিলিয়ে তার জন্য প্রাপ্তিতে টইটম্বুর ম্যাচ।

রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন তোলেন তিনি ৭২ বলে ১৬২ রানের জুটি। ৩৬ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন রিকেলটন, তারও এটি ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে তৃতীয় ওভারে হারানোর পর এই জুটিই এগিয়ে নেয় দলকে। ২১ বলে ফিফটি করেন ডি কক, ২৫ বলে রিকেলটন।
পঞ্চদশ ওভারে ডি ককের বিদায়ে যখন ভাঙে এই জুটি, দল তখন জয়ের প্রায় দুয়ারে। পরে ব্রেভিস আউট হলেও জেসন স্মিথকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন রিকেলটন।
ম্যাচের প্রথম ভাগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবিয়ানরা অধিনায়ক শেই হোপকে হারায় দ্বিতীয় ওভারে। দ্বিতীয় উইকেটে ৬২ বলে ১২৬ রানের জুটি গড়েন ব্র্যান্ডন কিং ও শিমরন হেটমায়ার।
৩০ বলে ৪৯ করে আউট হন কিং, হেটমায়ার ফেরেন ৪২ বলে ৭৫ করে। এরপর রভম্যান পাওয়েল দ্রুত ফিরলেনও শেষ দিকে ঝড় তোলেন শেরফেন রাদারফোর্ড ও রোমারিও শেফার্ড। ৩২ বলে ৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন।
২৪ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড, ১০ বলে ১৭ রানে শেফার্ড।
রানস্রোতের এই ম্যাচেও চার ওভারে মাত্র ২২ রানে দুটি উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার কেশাভ মহারাজ। উল্টো অভিজ্ঞতা হয় আনরিখ নরকিয়ার। ডি ককের মতো তিনিও প্রায় তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামলেন দেশের মাঠে। কিন্তু রান দেওয়ার ফিফটি করলেন ক্যারিয়ারে প্রথমবার, ৩ ওভারে ৫৯!
সেটি অবশ্য পরে পুষিয়ে দিয়েছেন তার দলের ব্যাটসম্যানরা। সিরিজের শেষ ম্যাচ শনিবার জোহানেসবার্গে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২২১/৪ (কিং ৪৯, হোপ ৪, হেটমায়ার ৭৫, পাওয়েল ২, রাদারফোর্ড ৫৭*, শেফার্ড ১৭*; রাবাদা ৪-০-৩৫-১, ইয়ানসেন ৪-০-৩৯-১, নরকিয়া ৩-০-৫৯-০, মাফাকা ৩-০-৩৯-০, মহারাজ ৪-০-২২-২, মার্করাম ২-০-১৯-০)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৭.৩ ওভারে ২২৫/৩ (মার্করাম ১৫, ডি কক ১১৫, রিকেলটন ৭৭*, ব্রেভিস ৪, স্মিথ ৬*; ফোর্ড ৩.৩-০-৩৪-১, সিলস ২-০-৩৮-০, চেইস ৩-০-৪০-০, হোল্ডার ৩-০-৩৭-০, শেফার্ড ২-০-৩৫-০, আকিল ৪-০-৪১-২)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক।