Published : 29 Jun 2026, 12:29 AM
কঠিন লক্ষ্যে নেমে আবার ব্যাটিং ধসে পড়েছে ইংল্যান্ড। তাতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ও সিরিজ জিতে বেন স্টোকসের বিদায়টা রাঙানোর লক্ষ্য এখন পাহাড়সম কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের চতুর্থ দিন ৩ উইকেটে ১২০ রান নিয়ে খেলতে নেমে, ৯ উইকেটে ২৮৮ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসের ৮৪ রানের লিড মিলিয়ে তারা ইংলিশদের সামনে লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ৩৭৩ রানের।
ওপেনিংয়ে নামা বেন স্টোকসের সঙ্গে বেন ডাকেটের জুটিতে শুরুটা বেশ ভালোই হয় ইংলিশদের। তবে সেটা স্থায়ী হয়নি। ৩৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে এখন ধুঁকছে দলটি। ৪ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে তারা।
জয়ের জন্য শেষ দিনে ইংল্যান্ডের চাই আরও ২৭০ রান, নিউ জিল্যান্ডের ছয় উইকেট।
প্রতিপক্ষকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার কারিগর ড্যারিল মিচেল ও রাচিন রাভ্রিন্দ্র। তিন বছরের বেশি সময় পর সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন মিচেল। অল্পের জন্য তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি রাভিন্দ্রা, করেন ৯৪ রান।
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্ট দিনের শুরুতেই খবরের শিরোনামে চলে আসে, মাঠের লড়াইয়ের কারণে নয়, স্টোকসের হুট করে অবসরের গুঞ্জনে। চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে, এই টেস্ট দিয়ে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন স্টোকস।
দ্রুতই সেই গুঞ্জন পাকাপোক্ত হয়। গণমাধ্যমে খবরটি আসার পরপরই, ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়।
ক্যারিয়ারে আগেও বেশ কয়েকবার অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে খবরে এসেছেন ইংলিশ ক্রিকেটের এই তারকা। চলতি সিরিজের প্রথম টেস্ট জয়ের পরও আবার এমন একটি ঘটনা সামনে আসে। ‘নাইটক্লাব কান্ডে’ নিষিদ্ধ হন পরের টেস্টে এবং ম্যাচটি হেরে যায় ইংল্যান্ড। অনেক আলোচনা-সমালোচনার মাঝে ক্ষমা চেয়ে অধিনায়ক হিসেবে দলে ফেরেন স্টোকস এবং খেলতে নামেন ম্যাচটি।
প্রথম ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডের বড় রান তাড়ায় দারুণ শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু পরে তালগোল পাকিয়ে গুটিয়ে যায় ৩৫৪ রানে।
লিড পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে নিউ জিল্যান্ড। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা তাদের ভালো ছিল না। তবে রাভিন্দ্রা ও মিচেলের ব্যাটে ধাক্কা সামলে নেয় তারা। আগের দিনের ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি এদিন তারা আরও অনেকটা এগিয়ে নেন।
আগের দিনের ৬০ রান নিয়ে খেলতে নামা রাভিন্দ্রা দারুণ ব্যাটিংয়ে শতকের সম্ভাবনা জাগান; কিন্তু কাছে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। লাঞ্চের এক ওভার আগে, স্পিনার শোয়েব বাশিরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন রাভিন্দ্রা, ১৪৯ বলে ১২টি চারে ৯৪ রান করে।
মিচেল অবশ্য হাল ছাড়েননি, পরে আর কোনো বড় জুটি গড়ে না উঠলেও দেখেশুনে এগিয়ে যান তিনি। তুলে নেন ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। এর আগে সবশেষ তিনি তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন ২০২৩ সালের মার্চে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
লাল বলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই চারটি সেঞ্চুরি করলেন মিচেল, ২০২২ সালের সফরে করেছিলেন তিনটি। তার অন্য দুটি সেঞ্চুরি পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
সতীর্থের সেঞ্চুরির দুই বল পরই ইনিংসের ইতি টেনে দেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। ২৪১ বলে ১০টি চার ও এক ছক্কায় ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন মিচেল।
খুব কঠিন চ্যালেঞ্জে দলকে পথ দেখাতে শুরুতেই ব্যাট হাতে নেমে পড়েন স্টোকস। এবং শুরুটা বেশ মনমতোই হয় তার। জ্যাক ফোসকের করা ইনিংসের ১১তম বল বোলারের মাথার ওপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠান তিনি, কোনো টেস্টে কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যানের এটাই দ্রুততম ছক্কার ঘটনা।
চতুর্থ ওভারে আরেকটি ছক্কা মারেন স্টোকস। তবে তার ঝড় বেশিক্ষণ থাকেনি। ২০ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩০ রান করে, ফোকসের বলেই মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটাররা করমর্দন করে তাকে বিদায় জানান, শেষবারের মতো ট্রেন্ট ব্রিজ ছেড়ে যান তিনি, দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিনন্দন জানায়।
তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে জ্যাকব বেথেল রানের খাতাই খুলতে পারেননি। হ্যারি ব্রুকও আগ্রাসী শুরু করেন, কিন্তু টিকতে পারেননি। ৯ বলে ২১ রান করেন তিনি। পরে বেন ডাকেটও ফিরে যান, ৩৬ রান করে।
জো রুট ও এমিলিও গে দিনের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেন। ম্যাচে ইংলিশদের সম্ভাবনা যা আছে, তার অনেকটাই এই জুটিতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৩৮
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৫৪
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৯৪ ওভারে ২৮৮/৯ (ডি.) (আগের দিন ১২০/৩ (রাভিন্দ্রা ৯৪, মিচেল ১০০, ব্লান্ডেল ১৮, স্যান্টনার ০, স্মিথ ১, ফোকস ৬, সিয়ার্স ১৯*, ও’রোক ০; আর্চার ২০-৪-৫৩-৪, অ্যাটকিনসন ২২-৬-৫০-২, টাং ১৪-০-৭৫-০, বাশির ১৩-১-৪২-১, স্টোকস ২৫-৫-৪৯-২)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৭৩) ১৫ ওভারে ১০৩/৪ (ডাকেট ৩৬, স্টোকস ৩০, বেথেল ০, ব্রুক ২১, রুট ৯*, গে ৬*; স্মিথ ৭-২-৪৮-০, ও’রোক ০.১-০-২-০, টিকনার ১-০-৩-১, স্যান্টনার ১-০-৭-০)