Published : 08 Nov 2025, 09:06 PM
বিকেল তখন পৌনে চারটা। মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীরা তখন জড়ো হলেন একসঙ্গে। তবে তাদের সেই চেনা তৎপরতা নেই। বরং তাদেরকে দেখা গেল ভিন্ন রূপে। তাদের দীর্ঘদিনের ‘বস’ গামিনি সিলভার বিদায়ী আয়োজন সেখানে।
আয়োজনে ছিলেন বিসিবির কর্তারাও। বিদায় পর্বের শুরুটা হলো গ্রাউন্ডস বিভাগের নতুন চেয়ারম্যানের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে। এরপর কথা বললেন কয়েকজন সিনিয়র মাঠকর্মী। কেউ স্মৃতিকথা শোনালেন, ভিজে আসা চোখের জল কেউ লুকাতে চাইলেন হাসির আড়ালে। কেউ মনে করলেন তর্ক-বিতর্কের মুহূর্তগুলো, কেউ স্বীকার করলেন নিজের দায়।
আর গামিনি? তিনি বারবার মাথা নেড়ে বললেন, কোনো আক্ষেপ-অভিমান-অভিযোগ নেই তার। শেষটায় দাঁড়িয়ে শুধু নি:শর্ত বিদায়।
মাঠকর্মীরা গামিনিকে ঘিরে ধরলেন শেষবারের মতো। ছবি তোলার পালা চলল। তার হাতে তুলে দেওয়া হলো ক্রেস্ট, কিছু উপহার আর ফ্রেমবন্দি ছবি, যেন স্মৃতির একটি অংশ নিজেদের কাছেই রেখে দিতে চান তারা। বিদায়বেলায় আবেগ স্পর্শ করার কথা তাকেও। এই দেশ, এই মাঠের সঙ্গে প্রায় ১৬ বছরের সম্পর্কের শেষ হতে চলেছে!
২০০৯ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে পা রেখে মিরপুরের উইকেটের সঙ্গে শুরু হয়েছিল তার সম্পর্ক। মাঠ আর উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বছরের পর বছর ধরে তার ছিল সঙ্গী। কালো মাটির উইকেটে বাংলাদেশ কখনও দাপট দেখিয়েছে, কখনও ব্যর্থতার গল্প লিখেছে।

গত কয়েক বছর সেই সমালোচনার মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে নানা সময়ে। গত অগাস্টে টার্ফ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রধান হিসেবে টনি হেমিংকে নিয়োগ দেয় বিসিবি। শেরে বাংলা স্টেডিয়াম থেকে গামিনিকে সরিয়ে রাজশাহী স্টেডিয়াম দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সেখানেও শ্রীলঙ্কান এই কিউরেটরের কাজে সন্তুষ্ট নয় বিসিবি। চুক্তি শেষের আগেই তাই বিদায় নিতে হচ্ছে তাকে।
শুধু মাঠকর্মীরাই নয়, বিসিবির পক্ষ থেকেও ছিল ছোট্ট আয়োজন। বিসিবির বোর্ডরুমে ছোট্ট অনুষ্ঠানে গামিনির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি সুজন। পাশে ছিলেন বিসিবির কয়েকজন পরিচালক, ছিলেন সিনিয়র ভেন্যু ম্যানেজার আব্দুল বাতেন।
চার বছর ধরে মাঠকর্মীর কারে যাওয়া রায়হান আহমেদ স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন নিজের অম্লমধুর অনুভূতি।
“তিনি কঠোরও ছিলেন, হাসিও দিয়েছিলেন, বকা দিয়েছেন, আবার আদর করেছেন। আজকে তিনিও আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বলেছে সবাইকে মনে রাখবে। আমরা ভুলগুলো তার কাছে মানলাম, তিনি আমাদের কাছে বললেন নানা কিছু। দেশের ক্রিকেটের জন্যই সব করেছে…।”