Published : 08 Sep 2025, 03:46 PM
সিরিজ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাপ্তি কম নয়। ২৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। তবে শেষ ম্যাচে যেভাবে গুঁড়িয়ে গেছে তাদের ব্যাটিং, অসহায় আত্মসমর্পণ করে যেভাবে হেরে গেছে তারা, তা মানতে পারছেন না দলটির কোচ শুক্রি কনরাড।
সাউথ্যাম্পটনে রোববার তৃতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংলিশদের ৪১৪ রানের জবাবে ২০.৫ ওভারে স্রেফ ৭২ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। এই সংস্করণে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর এটি, সর্বনিম্ন স্কোরের চেয়ে মাত্র ৩ রান বেশি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ হেরেছে ৩৪২ রানে। ওয়ানডে ইতিহাসেই রানের হিসেবে কোনো দলের সবচেয়ে বড় হার এটি। দক্ষিণ আফ্রিকার আগের বড় হার ছিল ২৭৬ রানে, সপ্তাহ দুয়েক আগে ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বড় দুটি পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল তারা।
পিঠেপিঠি দুটি সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় দুটিই হারই এলো মূলত ‘ডেড রাবার’ ম্যাচে। দুটি সিরিজেই তারা প্রথম দুই ম্যাচ জিতে নিশ্চিত করে সিরিজ জয়। তাই প্রশ্ন উঠছে, কত দ্রুত আর নাটকীয়ভাবে বদলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা, বিশেষ করে যে ম্যাচে ফলাফল অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ।
“আজ অবশ্যই ভালো ছিলাম না আমরা। আর ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের বিপক্ষে যখন নিজেদের সেরাটা দিতে না পারবেন, তখন মুখ থুবড়ে পড়বেন।”
“এমনটা অস্ট্রেলিয়াতেও হয়েছে, সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা পুরোপুরি পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। তারাও ৪০০- এর বেশি রান করেছিল। তবে, কোনো এক ম্যাচে যদি আমাদের বাজে পারফরম্যান্স হয়েই যায়, তাহলে সেটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে না হলেই ভালো। আজকের হারকে আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। এটা বিব্রতকর।”
ওই দুই হারের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের দুর্দশা তো ছিলই, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং ও ফিল্ডিংও ছিল বাজে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা ওয়াইড ডেলিভারি করে ১৫টি। ক্যাচ ফেলে দেয় অ্যালেক্স কেয়ারির, যিনি করেন ঝড়ো ফিফটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা ওয়াইড দেয় ১৯টি, ক্যাচ ফেলে দুটি। ২৩ রানে জীবন পেয়ে ফিফটি করেন জেমি স্মিথ, ৪৪ রানে জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করেন জ্যাকব বেথেল।
কনরাডের মতে, বোলিং ভালো না হলে সেটার প্রভাব পড়ে ফিল্ডিংয়েও। তবে এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না তিনি।
“বোলিংটা ফিল্ডিংকে প্রভাবিত করে, কিন্তু ১০ বারের মধ্যে ৯ বারই ম্যাথু ব্রিটস্কি (কাভারে স্মিথের ক্যাচ ফেলেন) ওই ক্যাচটি নিতে পারে। আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, কারণ এমনটা হওয়ার কথা নয়, তবে ফিল্ডিং আমাদের মানের ছিল না। সব মিলিয়ে, হ্যাঁ, বিব্রতকর পারফরম্যান্স ছিল মাঠে।"