Published : 26 Dec 2025, 05:03 PM
চার বছর আগে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর, এই সংস্করণে শুক্রবারের আগ পর্যন্ত খেলতে পেরেছেন আর মোটে দুটি ম্যাচ। গুরুতর এক চোটের ছোবলে মাস কয়েক আগেও মাইকেল নিসার সংশয়ে ছিলেন, আর কখনও টেস্ট খেলতে পারবেন কি-না। সেই তিনিই বক্সিং ডে টেস্টে সুযোগ পেয়ে হয়ে উঠলেন দলের মধ্যমণি, ব্যাটে-বলে দ্যুতি ছড়িয়ে প্রথম দিনের নায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার দাপটের বিপরীতে ইংলিশদের বর্ণহীন ক্রিকেটে প্রথম তিন টেস্টেই এবারের অ্যাশেজের জয়ী নির্ধারণ হয়ে গেছে। সিরিজের প্রথম ১১ দিনের লড়াইয়েই বিখ্যাত ‘ছাইদানি’ ধরে রাখা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
সফরকারীদের সামনে এখন কেবলই হতাশাময় সফরটা কিছুটা ভালো করার লড়াই। সেই লক্ষ্যে মেলবোর্ন টেস্টে দিনের প্রথমভাগে অসাধারণভাবে নিজেদের মেলে ধরে তারা। প্রথম দুই সেশনে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেয় ১৫২ রানে; সতীর্থদের আসা যাওয়ার মাঝে আট নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ ৪৯ বলে ৩৫ রান করেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিসার।
পরে নিজের আসল কাজটাও দুর্দান্তভাবে করেন নিসার। তাতে ইংল্যান্ডের দিনের শুরুর আনন্দ তৃতীয় সেশনে চরম হতাশায় রূপ নেয়। সতীর্থ বোলারদের উইকেট শিকারের সঙ্গে যোগ দিয়ে একে একে জ্যাকব বেথেল, জো রুট ও বেন স্টোকসকে ফিরিয়ে দেন নিসার। পরে ব্রাইডন কার্সকেও ফেরান তিনি। ৪৫ রানে তার শিকার ৪ উইকেট।
২৯ ওভার ৫ বল খেলেই ১১০ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ রানের লিড পায় অস্ট্রেলিয়া।
আর মাস তিনেক পরেই ৩৬ বছর পূর্ণ হবে নিসারের। তাই বয়সের একটা চোখরাঙানি তো আছেই। সেই সঙ্গে আরেক বাধা হয়ে আসে গত বছর হ্যামস্টিংয়ের গুরুতর চোটে পড়া। সব মিলিয়ে এবারের গ্রীষ্মের শুরুতে টেস্ট দলের বিবেচনায় ছিলেন না তিনি। পার্থে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের ১৫ জনের স্কোয়াডের বাইরে ছিলেন।
তবে জশ হেইজেলউড ও শন অ্যাবটের চোটে কপাল খুলে যায় নিসারের, ডাক পান ব্রিজবেনের গোলাপি বলের টেস্টে। একাদশে সুযোগ পেয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পান ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ। ওই দারুণ পারফরম্যান্সের পরও, প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন ফেরায় অ্যাডিলেইড টেস্টে দলে জায়গা হয়নি তার।
ওই দুইজনই চোট সমস্যায় খেলছেন না মেলবোর্নে, তাতেই আবার সুযোগ চলে আসে নিসারের সামনে। গোলাপি বলে ক্যারিয়ারের প্রথম তিন টেস্ট খেলার পর, এবার লাল বলে সুযোগ পেয়েই রেকর্ড ৯৪ হাজার ১৯৯ জন দর্শকের সামনে প্রথম দিনের সেরা পারফরমার হয়ে গেলেন তিনি।
দিনের খেলা শেষে উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন নিসার। পেছন ফিরে তাকালেন জীবনের শুরুর সময়ে।
“অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবার খেলতে পারব কি-না এবং এখন যে অবস্থায় আছি, সেসব (কিছুদিন আগেও) কিছুই জানতাম না। অবিশ্বাস্য লাগছে।”
“ছেলেবেলায় এই স্বপ্ন দেখেছি। প্রতি বক্সিং ডেতে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতাম এবং আমি ও আমার ভাই কয়েক ঘণ্টা ক্রিকেট খেলতাম, এরপর বাড়ি ফিরে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতাম। আমাদের জন্য দিনজুড়েই ক্রিকেট, আর এখন এখানে এর অংশ হতে পারা, স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। এই ভাবনাটাই আমার মনকে আন্দোলিত করছে।”
২০ উইকেট পতনের পাগলাটে দিনের একেবারে শেষ সময় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪ রান করে, ৪৬ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে তারা।