Published : 22 Jan 2026, 08:49 PM
বাংলাদেশের মতো তুমুল ক্রিকেটপ্রিয় দেশ যদি বিশ্বকাপে খেলতে না পারে, তাহলে আইসিসিই সেই ঘাটতি অনুভব করবে বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়ে দেন তিনি।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কথা আবার জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ছিলেন তার পাশেই। ক্রীড়া উপদেষ্টা চলে যাওয়ার পর বেশ লম্বা বক্তব্যে বিসিবি সভাপতি তুলে ধরেন গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ, তাদের দাবির প্রেক্ষাপট ও প্রাসঙ্গিক নানা কিছু।
বিসিবি সভাপতির পুরো বক্তব্য তুলে দেওয়া হলো এখানে।
“আপনাদের অবশ্যই জানা উচিত যে, গতকালকে আইসিসির একটা মিটিং ছিল এবং কমিউনিকেশনটা শুরু হয়েছিল সেখান থেকে, যখন মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেওয়া হলো। মুস্তাফিজ ওয়াজ নট ইনজুরড। মুস্তাফিজ নিজে থেকে নাম প্রত্যাহার করেনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার এনওসি (অনাপত্তিপত্র) বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএলের একটা দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।”
“পরবর্তীতে আমরা সরকারের মাধ্যমে জানতে পারলাম এবং আমরা উপলব্ধি করেছি, সিকিউরিটি একটা বড় ইস্যু এই বিশ্বকাপের জন্য। জানার সাথে সাথে আমরা আইসিসির সাথে যোগাযোগ করেছি। ৪ জানুয়ারি আমরা জানিয়েছি যে, পরিস্থিতি এরকম, বিকল্প ভেন্যু দিন আমাদেরকে, ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।”
“পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে এবং যোগাযোগের এক পর্যায়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলাম যে, এই সিকিউরিটির কারণে আইসিসি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আইসিসি বিভিন্ন সময়ে, ১৯৯৬, ২০০৩, যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, সেগুলো বলার চেষ্টা করেছে। আমরা আইসিসিকে বলেছি যে সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং আইসিসির যে পদক্ষেপগুলো ছিল, সেগুলো তাদেরকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি চোখে আঙুল দিয়ে।”
“গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যখন একটা দেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তখন সেই দেশের সরকারের অনুমতি নিয়ে আইসিসিকে যখন জানানো হয়েছিল, তখন তাদের জন্য একটা নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিল। সেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তারা একটা হোটেলে থেকে, একটা মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছিল। ইট ওয়াজ আ প্রিভিলেজ।।”
“পরবর্তীতে যে আপনারা জানেন যে হাইব্রিড মডেলটা যেটা এখন হচ্ছে, আমরা সকলে বলছি যে, শ্রীলঙ্কা কো-হোস্ট’, আসলে শ্রীলঙ্কা কো-হোস্ট না। শ্রীলঙ্কা হাইব্রিড মডেলের একটা অংশ, যেখানে অন্যান্য দেশের খেলাগুলো হচ্ছে সেখানে। সেই দিকে তাকিয়ে আমরা বলেছিলাম যে, যেহেতু এটা হাইব্রিড মডেলটাও হয়েছে নিরাপত্তার কারণে ও এবং সরকারের অনীহার কারণে, আমরা সেই লাইনেও আইসিসিকে বলার চেষ্টা করেছি এবং বুঝিয়েছি। কিন্তু তারপরেও আমাদের আবেদনকে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।”
“আমরা আবারও চেষ্টা করব আজকে, আর কী কী পথ আছে আইসিসিকে বলার। আপনারা হয়তো গতকালকে শুনেছেন যে একটা ভোট হয়েছে। ভোটের নাম্বারটা অফিসিয়ালি আমি বলতে চাচ্ছি না, কেননা আইসিসি সেটা বলতে বারণ করেছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় ভোটের একটা নাম্বার দেখতে পাচ্ছি। আমরা খুব সন্দিহান... বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমরা খুব গর্ববোধ করি, কিন্তু ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট নিয়ে আমরা সন্দিহান। যেখানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে, সেখানে আইসিসি প্রায় ২০০ মিলিয়ন লোকের খেলা দেখার বা খেলার যে একটা স্পৃহা... প্রত্যেকদিন আমরা বিশ্বাস করতাম, আমাদের প্রত্যেকটা লোক সকালবেলা উঠে শুনতে পাবে যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলছে এবং আইসিসি বাংলাদেশের আবেদনটা মেনে নিয়েছে।”
“কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশ খেলতে যাচ্ছে না বা বাংলাদেশকে একটা আল্টিমেটাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তারপরেও আমরা সর্বস্ব চেষ্টা করে যাব। যেখানে এর আগেও বলছিলাম যে বিশ্বে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটা দেশ, বাংলাদেশের মতো একটা ক্রিকেট লাভিং দেশ যদি মিস করে, আইসিসি বড় একটা মিস করবে। যেখানে ক্রিকেট বড় হচ্ছে, ক্রিকেট অলিম্পিকে যাচ্ছে ২০২৮ সালে, ২০৩২ সালে ব্রিজবেন হোস্ট করছে, ২০৩৬ সালে ভারত অলিম্পিকস বিড করছে, কমনওয়েলথ গেমস তারা বিড করছে, সেখানে এরকম একটা জনবহুল ক্রিকেট লাভিং কান্ট্রি যদি না যায়, এটা মনে হচ্ছে যে স্বাগতিক দেশের জন্য এটা একটা ব্যর্থতা।”
“আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাব। আমরা এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আবার আজকে যোগাযোগ করব আরও কিছু জিনিস নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমরা ভারতে যেতে চাই না, আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমরা এখনও রেডি, আমাদের দল রেডি আছে।”
বিসিবি সভাপতির বক্তব্যের পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা। বুধবার আইসিসি সভার পর দৈনিক কালের কণ্ঠকে আমিনুল বলেছিলেন, আইসিসি সভায় সময় চেয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য উল্টো কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন আইসিসিকেই।
“একটা বৈশ্বিক সংস্থা এভাবে ২৪ ঘণ্টা বেঁধে দিতে পারে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
আইসিসির সভার পর সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কড়া বার্তা ছিল বাংলাদেশের প্রতি। সেই ভাষা শকিং ছিল কি না জানতে চাইলে বোর্ডপ্রধান বলেন, “আমরা প্রেস রিলিজটা দেখিনি। তবে যে মিটিংটা হয়েছিল, সেখানে কিছু শকিং বিষয় ঘটেছিল।”