Published : 01 May 2026, 03:42 PM
শুধু ম্যাচই নয়, অনুশীলনেও শামীম হোসেনের ব্যাটিং দেখাটা রোমাঞ্চকর। অদ্ভুত সব শট খেলতে দেখা যায় তাকে। মিরপুরে শুক্রবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলনেও দেখা গেল নানা উদ্ভাবনী শট খেলতে। শটের ফাঁকে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে কথাও বললেন বারবার। চেষ্টা করে গেলেন শটগুলি নিখুঁত করতে। খেলতে দেখা গেল ওই শটটি খেলতেও।
‘ওই’ শট মানে কোনটি, তা নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না! বাংলাদেশের ক্রিকেট সামান্যতম অনুসরণ করলেও তা বুঝে যাওয়ার কথা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে যে ‘নো লুক’ শটে ছক্কা মেরেছিলেন শামীম।
ওই ম্যাচের পর চার দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু শটটি নিয়ে চর্চা কমেনি। বৃষ্টিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভেস্তে যাওয়ায় নতুন কিছুর খোরাক মেলেনি, এটি একটি কারণ। তবে আরেকটি বড় কারণ, শটটি ছিলই আসলে এত আলোচনা হওয়ার মতোই।
বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তবতায় অবশ্য এই শট বা এমন শট খুব আলোচিত কিছু নয় এখন। হরহামেশাই এসব দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখনও তা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে ওঠেনি। শামীম ছাড়া আর কাউকে সেভাবে ধারাবাহিক এসব শট খেলতে বা খেলার চেষ্টা করতে দেখা যায় না খুব একটা।
শামীমের ব্যাটিং ব্যাকরণ একদমই তার নিজস্ব। অনেক কিছুরই চেষ্টা করেন তিনি। তবে তার ব্যাটিংয়েরে ধরন বিবেচনাতেও ওট শট ছিল দারুণ এবং চোখধাঁধানো। ন্যাথান স্মিথের স্লোয়ার শর্ট ডেলিভারিতে বলের নিচে গিয়ে পুল বা স্কুপের মাঝমাঝি কিছু করে ব্যাট চালিয়ে দেন তিনি। ব্যাট-বলের সংযোগের সময় বলের দিকে চোখ ছিল না তার। চোখের পলকে কিপারের পেছন বল উড়ে যায় সীমানা পেরিয়ে।
আধুনিক ক্রিকেটে শটের পরিধি বেড়েছে অনেক। নিত্য নতুন শট বের হচ্ছে এবং আকর্ষণীয় সব নামও পেয়ে যাচ্ছে। এই শটের নাম কি?
উত্তর দেওয়ার জন্য শামীমই তো উপযুক্ত ব্যক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু মিরপুরে শুক্রবার ওই শট অনেকবার অনুশীলন করে সংবাদ সম্মেলনে এসে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বললেন, শটের নাম জানা নেই তারও।
“শটটার নাম তো আমি জানি না, সত্যি কথা বলতে। এটা আমি সবসময় অনুশীলন করি নেটে। কারণ, আমি জানি, যখন ব্যাটিংয়ে নামি, ইমপ্রোভাইজড শট খেলতে খুব পছন্দ করি। আমি এগুলা অনুশীলন করি সবসময়।”
“ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করি, সেই ইনটেন্ট ধরে রাখার জন্য অনুশীলনেও এভাবেই খেলি।”
পরিস্থিতি যেমনই থাকুক, ব্যাটিংয়ের একটি ধরনই জানা শামীমের। আক্রমণই তার কাছে শেষ কথা। যদিও অনেক শটে তিনি সমৃদ্ধ নন এখনও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বড় কিছু করতেও পারেননি। তবে একটি জায়গায় তিনি আলাদা। এই ঘরানার ব্যাটসম্যান এই দেশে খুবই বিরল। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় রাখার মতো এই ঘরানার ব্যাটসম্যান সত্যি বলতে নেই একজনও।
তার এসব উদ্ভাবনী শটই শুধু নয়, তিনি আলাদা তার মানসিকতার কারণেও। সেটিই তুলে ধরলেন ছোট্ট করে। ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জানেন, তিনি চালিয়ে খেললেই দলের উপকার।
“আমি যখনই ব্যাটিংয়ে যাই, ইতিবাচক চিন্তা নিয়েই যাই যে, মারার বল পেলে মেরে দেব। আমি যদি একটু চালু খেলতে পারি, আমার দলের জন্যই অনেক ভালো।”
“আমার ভাবনাতেই থাকে যে, এরকম করে খেলব, একটু দ্রুতগতিতে খেলব। টি-টোয়েন্টিতে এটিই চিন্তা করি সবসময়।”