Published : 30 Dec 2025, 10:28 PM
পাওয়ার প্লে শেষের পর বোলিংয়ে এলেন সাকিব আল হাসান। কোনো উইকেট তিনি পেলেন না, রান দিলেন ১০। পরে আর বোলিং পেলেন না অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। খুনে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করলেন আন্দ্রিয়েস হাউস।
আইএল টি-টোয়েন্টির প্রথম কোয়ালিফায়ারে সাকিবদের এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে ডেজাট ভাইপার্সের হয়ে ৫৮ বলে অপরাজিত ১২০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাটসম্যানের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির ইনিংসটি গড়া ৯ ছক্কা ও ৭ চারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এটি। ২০২৩ সালে ভাইপার্সের হয়েই আবু ধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে অ্যালেক্স হেলসের ১১০ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
সাকিবের মতো এমিরেটসের অন্য বোলারদের জন্যও দিনটা ভালো কাটেনি। আবু ধাবিতে মঙ্গলবার ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৩৩ রানের বড় পুঁজি গড়েছে ভাইপার্স।
প্রতিযোগিতাটিতে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি। এবারের আসরের শুরুর দিকে শারজাহ ওয়ারিয়র্জের বিপক্ষে ২৩৩ রান করেছিল নাইট রাইডার্স। ২০২৩ সালে ভাইপার্সের বিপক্ষে এমিরেটস করেছিল ২৪১।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙতেই এমিরেটসের লেগে যায় ১৬ ওভার। হাউস ও ফাখার জামানের শুরুর জুটিতে আসে ১৫৭ রান, প্রতিযোগিতাটিতে যা উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড। ২০২৩ সালে এমিরেটসের হয়ে ভাইপার্সের বিপক্ষে মুহাম্মাদ ওয়াসিম ও আন্দ্রে ফ্লেচারের ১৪১ রানের জুটি ছিল আগের সর্বোচ্চ।
এমিরেটসের হয়ে বোলিং করেন মোট আট জন। একমাত্র উইকেটটি নিতে পারেন এএম গাজানফার। আফগান রহস্য স্পিনার ৪ ওভারে দেন ৩৭ রান। আফগান পেসার ফাজালহাক ফারুকি ৪ ওভারে দেন ৩৮।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে হাউস ও ফাখারের ব্যাটে ভালো শুরু পায় ভাইপার্স। পাওয়ার প্লেতে আসে ৪৭ রান।
পরের ওভারে সাকিবের প্রথম তিন বলে আসে দুটি সিঙ্গল। চতুর্থ বলে ২ রান নেওয়া ফাখার পরের বলে মারেন চার। একটি ওয়াইড দেওয়ার পর শেষ বলে এক রান দেন সাকিব।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে হাউস ফিফটি পূর্ণ করেন ২৯ বলে। পঞ্চাশ ছুঁতে ফাখারের লাগে ৩৬ বল।
জুটি ভাঙার কোনো পথই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না এমিরেটস। অবশেষে ষোড়শ ওভারের পঞ্চম বলে ফাখারের বিদায়ে থামে রেকর্ড জুটি। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৬৯ রান করেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান।
১৯তম ওভারে ৯৮ থেকে রোমারিও শেফার্ডের বলে ২ রান নিয়ে হাউস সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৫৩ বলে। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইএল টি-টোয়েন্টিতে প্লে-অফে সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
ওই ওভারে পরে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন হাউস। শেষ ওভারে আর স্ট্রাইক পাননি তিনি। এই ওভারে জাহুর খানের টানা চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মারেন স্যাম কারান।
৪ ছক্কা ও ২ চারে ১২ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার ও ভাইপার্স অধিনায়ক।