Published : 20 Jan 2026, 09:24 PM
শেষ বলে ছক্কায় ম্যাচ জেতানোর সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জাভেদ মিয়াঁদাদের। ১৯৮৬ সালে শারজাহতে অস্ট্রেল-এশিয়া কাপের ফাইনালে চেতান শার্মার লো ফুল টস বলটিতে মিয়াঁদাদ বুঝে গিয়েছিলেন ছক্কা হচ্ছেই। বল সীমানা ছাড়ানোর আগেই দুহাত উঁচিয়ে ছুটতে শুরু করেছিলেন মিয়াদাঁদ। এবার সেই ঘটনাই যেন মনে করিয়ে দিলেন ক্রিস ওকস।
মিয়াঁদাদের ক্ষেত্রে শেষ বলে প্রয়োজন ছিল চার রানের। বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে মঙ্গলবার রংপুর রাইডার্সে বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সের প্রয়োজন ছিল ছয় রানই। ফাহিম আশরাফের বলে চোখধাঁধানো শটে ছক্কায় স্মরণীয় এক জয়ের অধ্যায় রচনা করেন ওকস।
অফ স্টাম্পের বাইরে হাফ ভলির মতো বলটিতে শট খেলেই যেন বুঝে গিয়েছিলেন ওকস। বল সীমানা ছাড়া হওয়ার আগেই হাত উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেও ইংলিশ অলরাউন্ডার বললেন সেটিই।
“শট খেলা মাত্রই বুঝে গিয়েছিলাম… জানতাম ছক্কা হবেই। তবে কঠিন ম্যাচ ছিল, পিচ ছিল বেশ ‘ট্রিকি।’ স্যাম বিলিংস ও আমাদের অধিনায়কের জুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের। আমি সৌভাগ্যবান যে শেষ বলে উতরে যেতে পেরেছি, তবে ওদের দুজনের জন্য খুব ভালো ছিল।”
১১২ রান তাড়ায় ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল সিলেট।। পঞ্চম উইকেটে স্যাম বিলিংস ও মেহেদি হাসান মিরাজ গড়েন ৫০ রানের জুটি। সেই জুটিকেই কৃতিত্ব দিচ্ছিলেন ওকস।
শেষ বলে ছক্কার আগে ওভারের পঞ্চম বলটিতে স্ট্রাইকে ছিলেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। সেই বলে দুই রান নেওয়ার সুযোগ ছিল। দ্বিতীয় রান নিতে ছুটছিলেন খালেদ। কিন্তু তাকে থামিয়ে দেন ওকস। শেষ বলে স্ট্রাইক রাখেন তিনি নিজে।

শেষ বলে ছক্কার পর বীরের মর্যাদা তিনি পাচ্ছেন। তবে ওই সময় নিজে স্ট্রাইক রাখার পেছনে ভাবনাও শোনালেন ৩৬ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
“দুই রান হয়তো নিতে পারতাম। তবে তখন মনে হলো, এটায় আসলে কিছু যায়-আসে না। দুই নিলেও শেষ বলে ছক্কাই প্রয়োজন হতো আমাদের। খুব একটা পার্থক্য তাই থাকত না। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। উইকেটে আমার সঙ্গী মাত্রই এসেছে তখন, মাত্র একটি বল খেলেছে। আমি কয়েকটি বল খেলেছি ততক্ষণে।”
“এটা অনেকটা লটারির মতো ছিল, আমাদের দুজনের যে কেউ থাকতে পারতাম। আমার মনে হয়েছিল, দায়িত্ব আমিই নেব এবং চান্স নিয়ে দেখব। সৌভাগ্যবশত কাজে লেগে গেছে।”
শেষ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। মূল ভরসা ছিলেন তখন মইন আলি। প্রথম বলে দুটি রান নেন তিনি। কিন্তু পরের দুই ডেলিভারিকে ফাহিমে কাটারে ব্যাটে-বলেই করতে পারেননি ইংলিশ এই ক্রিকেটার। চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান তিনি।
দুই বলে তখন প্রয়োজন সাত রান। ওকসের তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি বুঝি ফসকেই গেল। তবে মনের কোণে একটু আশার উঁকিঝুঁকিও ছিল।
“(মইনের বিদায়ের পর) তখন তো একটু মনে হচ্ছিলই যে ম্যাচ বেরিয়ে যাচ্ছে। তবে কেবল একটি শটেরই ব্যাপার ছিল, সেটা চার হোক বা ছক্কা। বোলাররের দিক থেকে ভাবলে, সেও তখন প্রবল চাপে ছিল। দলকে জেতানোর জন্য টানা ছয়টি দারুণ ডেলিভারি করার কাজটাও কঠিন। কাজেই সেটাও অনুভব করছিলাম যে বোলার চাপে আছে। ম্যাচ বেরিয়ে যাচ্ছিল বলে মনে হয়েছিল বটে। তবে জানতাম, যখন কেবল একটি শটেরই ব্যাপার, তখন সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।”
শেষ ওভারের প্রথম পাঁচটি ডেলিভারিই স্লোয়ার বা কাটার করেছিলেন ফাহিম। ওকস ধারণা করেছিলেন, শেষ বলটিও তেমনই হবে।
“আমি আসলে ধারণা করছিলাম, স্লোয়ার বল আসবে। কাটার ধরনের কিছু হবে বলে ভেবেছিলাম। সেটির জন্যও প্রস্তত ছিলাম। এরপর যখন দেখলাম গতিময় ডেলিভারি, স্রেফ সেভাবেই সাড়া দিয়েছি।”
গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ওককের বিপিএল অভিষেক হলো এই ম্যাচ দিয়েই। ম্যাচটি তাই হৃদয়ে আরও বেশি করে লালন করবেন ওকস।
“খুবই রোমাঞ্চকর। শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জিততে পারা সবসময়ই দারুণ। আমি আগে কখনও করতে পারিনি। শেষ বলে ছক্কা প্রয়োজন, এমন পরিস্থিতি আগেও পেয়েছি, কিন্তু পারিনি। এবার পেরেছি, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে আমার কাছে।”
“এছাড়াও বিপিএলে আমার প্রথম ম্যাচ এটি, এই দলের হয়েও প্রথম ম্যাচ। এটি আরও বেশি স্পেশাল।”