Published : 06 Jun 2026, 12:26 AM
প্রথম দিন উইকেট পড়েছিল ১৬টি, দ্বিতীয় দিন পড়ল আরও একটি বেশি। পেসারদের দাপটের লর্ডস টেস্টে আরেকটি ঘটনাবহুল দিন শেষে জয়ের সম্ভাবনায় সুবিধাজনক অবস্থানে এখন ইংল্যান্ড।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিন দিনেই হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে আলোচিত এই টেস্ট। ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুক্রবারের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৬ রান।
জয়ের জন্য সফরকারীদের প্রয়োজন এখনও ২১৮ রান, ইংল্যান্ডের চাই ৭ উইকেট।
এই ম্যাচের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২২৬। এতেই পরিষ্কার, শেষ ইনিংসে রান তাড়ার কাজটা নিউ জিল্যান্ডের জন্য কতটা কঠিন।
উইকেটে মুভমেন্ট তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে অসম বাউন্স। উইকেট নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের আলোচনা-সমালোচনাও বাড়ছে।
৬ উইকেটে ৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ১১৩ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড।

প্রথম দিন ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের সফলতম বোলার ছিলেন যিনি, সেই পেসার কাইল জেমিসন ব্যাট হাতেও দলের সফলতম ব্যাটসম্যান! ৯ নম্বরে নেমে তিন ছক্কা ও দুই চারে ২৯ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত রয়ে যান তিনি।
৩৯ রানে ৫ উইকেট নেন ইংল্যান্ডের পেসার অলি রবিনসন। টেস্টে চতুর্থবার এই স্বাদ পেলেন ৩২ বছর বয়সী পেসার।
প্রথম ইনিংসে ১৪০ রান করেও ২৭ রানের মূল্যবান লিড নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে, অভিষিক্ত এমিলিও গের ফিফটিতে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১২৬। কিন্তু ১১ বল আর ১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১২৭!
সেখান থেকে কিপার জেমি স্মিথ ও ও লেজের ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় দুইশ পার করে নিউ জিল্যান্ডকে আড়াইশ ছাড়ানো লক্ষ্য দিতে পারে স্বাগতিকরা।
দারুণ বোলিংয়ে ৭০ রানে ৬ উইকেট নেন ন্যাথান স্মিথ। পরপর দুই টেস্টে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই পেসার। কদিন আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ৪০ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে গে ও বেন ডাকেটের ব্যাটে শুরুটা ভালো করে ইংল্যান্ড। যদিও গে আউট হতে পারতেন শূন্য রানে, স্লিপে তার ক্যাচ ফেলেন টম ল্যাথাম।
৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ডাকেটকে (৪৬ বলে ৩৩) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন উইল ও’রোক।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গে ও জ্যাকব বেথেল যোগ করেন ৪৭ রান। থিতু হয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি বেথেল (৩৫ বলে ১৪)।
স্মিথের এক ওভারে তিনটি চার মারার পথে গে ফিফটি করেন ৮৪ বলে। ২০০৪ সালে লর্ডসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের (১১২) পর প্রথম ইংলিশ ওপেনার হিসেবে ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেকে পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি।
পরে স্মিথের বলে গের (৯৫ বলে ৫৭) বিদায়েই ইংল্যান্ডের ওই ছোট্ট ধসের শুরুটা হয়। পরের ওভারে হ্যারি ব্রুককে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ও’রোক। স্মিথের পরের ওভারে জো রুট এলবিডব্লিউ হওয়ার পর, শূন্য রানে বোল্ড হয়ে যান বেন স্টোকস।
দ্রুত চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন জেমি স্মিথ। অ্যাটকিনসনকে নিয়ে ইনিংস সেরা ৫৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। অ্যাটকিনসনকে ফিরতি ক্যাচে জুটি ভাঙেন জেমিসন।
জেমি স্মিথকে (৫২ বলে ৩৯) বোল্ড করে থামান ন্যাথান স্মিথ। পরে জশ টংকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। রবিনসনকে (৩০ বলে ২৯) ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসও গুটিয়ে দেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই অ্যাটকিনসনের বলে শূন্য রানে স্লিপে ধরা পড়েন কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম। ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু টংয়ের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান উইলিয়ামসন। লর্ডসে শেষ টেস্ট ইনিংসে সাবেক কিউই অধিনায়ক করেন ৩৬ বলে ১৮ রান।
‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে নেমে পরের ওভারে অ্যাটকিনসনের বলে বিদায় নেন ও’রোক। দিনের খেলাও শেষ হয়ে যায় সেখানে।
তৃতীয় দিনে নিউ জিল্যান্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৪০
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯.৫ ওভারে ১১৩ (আগের দিন ৬১/৬) (ফিলিপস ৩৪, স্মিথ ১৫, জেমিসন ৩৮*, ও’রোক ১, হেনরি ০; অ্যাটকিনসন ৫-০-৯-২, রবিনসন ১০.৫-৩-৩৯-৫, টং ১০-০-৪০-৩, স্টোকস ৪-০-২২-০)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ২২৬ (ডাকেট ৩৩, গে ৫৭, বেথেল ১৪, রুট ৮, ব্রুক ০, স্মিথ ৩৯, স্টোকস ০, অ্যাটকিনসন ১৪, রবিনসন ২৯, টং ৫, বাশির ০*; জেমিসন ১২-২-৪১-১, স্মিথ ১৭-০-৭০-৬, ও’রোক ১৬-৪-৪৬-২, হেনরি ১১-১-৪৩-১)
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৫৪) ১১.৫ ওভারে ৩৬/৩ (ল্যাথাম ০, কনওয়ে ১২*, উইলিয়ামসন ১৮, ও’রোক ০; আটকিনসন ৩.৫-০-১০-২, রবিনসন ৫-১-১১-০, টং ৩-১-১০-১)