Published : 06 May 2026, 06:22 PM
বাংলাদেশ দলের অনুশীলন তখন শেষের দিকে। মিরপুরের ইনডোরের পাশের নেট থেকে বোলিং সেশন শেষ করে ড্রেসিং রুমের দিকে ফিরছিলেন নাহিদ রানা। উইকেটের কাছাকাছি এসে হঠাৎ থমকে গেলেন। বেশ কাছ থেকে উইকেট দেখলেন। পরে বল ছাড়াই হাত ঘুরিয়ে বল করার মতো ভঙ্গি করলেন। মনে হলো, উইকেটের সবুজাভ চেহারা দেখে বোলিং করতে আর তর সইছে না তার।
এই দৃশ্য বুধবার বিকেলের। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ শুরু শুক্রবার। টেস্ট শুরুর আগে উইকেটের ঘাস কমে যাবে নিশ্চিতভাবেই। তার পরও উইকেট যেমন থাকবে, তাতে ঝড় তোলার উপকরণ যথেষ্টই থাকবে নাহিদ রানার।
অবশ্য উইকেট যদি একদম নিষ্প্রাণ থাকে বা ব্যাটিং সহায়ক থাকে, তার পরও নাহিদকে খেলানোর প্রবণতা দলের থাকবেই। মরা উইকেটেও প্রাণের সঞ্চার তো তিনিই করতে পারেন!
নাহিদ রানা এখন দলের জন্য এরকমই সম্পদ। সব উইকেটে, সব কন্ডিশনে, সব সংস্করণেই তাকে মাঠে নামাতে চাইবে দল। বোলিং আক্রমণে তাকে পেতে চাইবেন অধিনায়করা। নাহিদের যে বয়স, তিনি নিজেও সব ম্যাচে খেলতে মুখিয়ে থাকবেন। কিন্তু এখানেই সতর্ক থাকবে দলকে। সোনার ডিম পাড়া হাঁসের পেট কানার আয়োজন তো করা যাবে না!
বরং সতর্কতায়য় সামলাতে হবে তাকে। ম্যাচ খেলাতে হবে বেছে বেছে, বিশ্রাম ও রিকভারির সময় দিতে হবে পর্যাপ্ত। টিম ম্যানেজমেন্টও সেটা ভালো করেই জানে বলেই জানালেন কোচ ফিল সিমন্স।
নাহিদের পরিণত মানসিকতা দেখে অবশ্য মুগ্ধ সিমন্স। ২৩ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মোটে ২২টি। কিন্তু তার বোধ দারুণ প্রখর বলেই মনে হয়েছে কোচের।
“আমি আপনাকে বলি, নাহিদ রানার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে কোথায় আছে এবং তাকে কী করতে হবে, তা বোঝার ক্ষমতা। যে কি না মাত্র কদিন হলো ক্রিকেটে এসেছে, এমন একজন ক্রিকেটার হয়েও সে জানে এখন কোন অবস্থানে আছে এবং প্রস্তুতির জন্য কী করতে হবে। তার এই মানসিকতা আমার মতে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত।”
নাহিদ রানা এতটা দারুণ বলেই তাকে অনেক যত্নে সামলাতে হবে, জানেন কোচ। ঝুঁকি থাকলে তাকে খেলানো হয় না বলেও তিনি নিশ্চিত করলেন।
“তাকে আমাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। সে যখন পুরো ফিট থাকে, তখন আমরা তাকে টেস্ট ম্যাচে খেলাই না, কারণ আমরা বলছি যে, তাকে চাই এবং তার গতি চাই। আমাদের বেশ কয়েকজন ভালো ফাস্ট বোলার আছে। গতির দিক থেকে সে এখন এগিয়ে আছে, তাই আমাদের তার দিকে নজর রাখতে হবে।”
শেষ মুহূর্তে কোনো সমস্যা না জেগে উঠলে মিরপুর টেস্টে নাহিদের খেলা নিশ্চিত। পরের টেস্টে সিলেটে তাকে খেলানো হবে কি না, সিদ্ধান্ত হবে প্রথম টেস্টের পর।
“যেটা বললাম যে, তাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রথম টেস্টের পর তার অবস্থা দেখব আমরা, কত ওভার সে বোলিং করছে, শরীরের ওপর কতটা ধকল পড়ছে। ওয়ার্কলোড ব্যাপারটি এভাবেই কাজ করে। আমরা তার ওয়ার্কলোডে নজর রাখব এবং দেখব, তাকে পরের টেস্টে খেলাতে পারব নাকি বিশ্রাম দিতে হবে।”
মিরপুর টেস্ট শুরু শুক্রবার।