Published : 23 Nov 2025, 10:34 PM
আগের ম্যাচ যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন সাহিবজাদা ফারহান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তিনি করলেন টানা দ্বিতীয় ফিফটি। আরেকবার পঞ্চাশ ছুঁয়ে বাবর আজম স্পর্শ করলেন একটি রেকর্ড। তাদের শতরানের জুটি আর ফাখার জামানের শেষের ঝড়ের পর উসমান তারিকের চমৎকার বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে অনায়াসে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল পাকিস্তান।
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় দেখায় পাকিস্তানের জয় ৬৯ রানে। প্রাথমিক পর্বে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই জিতল সালমান আলি আগার দল।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার ২০ ওভারে ১৯৫ রানের পুঁজি গড়ে পাকিস্তান।
জবাবে ৬৩ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলা জিম্বাবুয়ে ১২৬ পর্যন্ত যেতে পারে রায়ান বার্লের অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসের সুবাদে। দলটির ৯ জন যেতে পারেনি দুই অঙ্কে।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন বাবর। ৭ চার ও ২ ছক্কায় গড়া তার ৫২ বলের ইনিংস। আগের ম্যাচে ৪৫ বলে অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস খেলা সাহিবজাদা এবার ৪১ বলে করেন ৬৩, যেখানে ৪টি চারের পাশে ছক্কা ৩টি।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে হ্যাটট্রিকসহ চার ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট নেন উসমান তারিক। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জেতেন ২৭ বছর বয়সী এই অফ স্পিনার।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। তৃতীয় ওভারে তারা হারায় উইকেট। ব্র্যাড ইভান্সকে পরপর দুই ছক্কার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সাইম আইয়ুব।

দ্বিতীয় উইকেটে বড় জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাহিবজাদা ও বাবর। ৩৫ বলে ফিফটি করেন সাহিবজাদা। বাবর পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৪২ বলে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সফলতম ব্যাটসম্যান বাবরের ফিফটি হলো ৩৮টি, যা এই সংস্করণে সর্বোচ্চ। সমান ৩৮টি ফিফটি করা ভারতীয় তারকা ভিরাট কোহলির পাশে বসলেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার পর ৬ ইনিংসের মধ্যে বাবরের দ্বিতীয় ফিফটি এটি।
সিকান্দার রাজাকে ছক্কা মারার পরের বলে সাহিবজাদা বোল্ড হলে ভাঙে ৭৭ বলে ১০৩ রানের জুটি।
ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ ভালো করতে পারেননি। এর মাঝে আউট হয়ে যান বাবরও। শেষ ওভারে ইভান্সকে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে দলকে দুইশর কাছে নিয়ে যান ফাখার (১০ বলে ২৭*)।
বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ইনিংসের শেষ বলে ফিল্ডারের হাতে ধরা পড়েও বেঁচে যান বোলার ‘ওভারস্টেপ’ করায়, ‘নো’ বলের কল্যাণে। ফ্রি হিট পেয়ে ছক্কায় শেষ করেন তিনি ইনিংস।
রান তাড়ায় প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার টাডিওয়ানশে মারুমানি ও ব্রায়ান বেনেটকে হারায় জিম্বাবুয়ে। তিনে নামা ব্রেন্ডান টেইলর ফেরেন চতুর্থ ওভারে।
চতুর্থ উইকেটে ৩৪ রানের জুটিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন রাজা ও বার্ল। কিন্তু ২৩ রান করে রাজার বিদায়ের পর দ্রুত আরও ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে।
দশম ওভারে পরপর তিন বলে টনি মুনিয়োঙ্গা, টাশিঙ্গা মুসেকিওয়া ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন উসমান। এই ওভারে কোনো রানই দেননি তিনি।
এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করা পাকিস্তানের চতুর্থ বোলার উসমান। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাহিম আশরাফ ও একই দলের বিপক্ষে ২০১৯ সালে মোহাম্মদ হাসনাইন এবং গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মোহাম্মদ নাওয়াজ টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়েছিলেন।
নিজের কোটার শেষ বলে টিনোটেন্ডা মাপোসাকে বোল্ড করে চতুর্থ শিকার ধরেন উসমান।
তখন ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে রিচার্ড এনগারাভাকে নিয়ে ইনিংস সেরা ও দশম উইকেটে জিম্বাবুয়ের রেকর্ড ৪৪ রানের জুটি গড়েন বার্ল।
২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ডোনাল্ড টিরিপানো ও ক্রিস এমপোফুর ২৯ রানের জুটি ছিল দশম উইকেটে জিম্বাবুয়ের আগের রেকর্ড।
এনগারাভার রান আউটে ভাঙে জুটি। ৪৯ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় গড়া বার্লের ৬৭ রানের ইনিংস।
প্রাথমিক পর্বে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে, দুই দলেরই ম্যাচ বাকি একটি করে এবং সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
প্রথম দেখায় শ্রীলঙ্কাকে হারানো জিম্বাবুয়ে মঙ্গলবার পরের ম্যাচে জিতলে ফাইনালে উঠে যাবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৫/৫ (সাহিবজাদা ৬৩, সাইম ১৩, বাবর ৭৪, ফাহিম ৩, নাওয়াজ ৪, সালমান ১*, ফাখার ২৭*; এনগারাভা ৪-০-৩৪-১, মাপোসা ৩-০-২০-০, ইভান্স ৪-০-৫৯-১, মাসাকাদজা ৪-০-২৭-০, বার্ল ১-০-১১-০, রাজা ৪-০-৩৯-২)
জিম্বাবুয়ে: ১৯ ওভারে ১২৬ (বেনেট ৯, মারুমানি ৪, টেইলর ৮, রাজা ২৩, বার্ল ৬৭*, মুনিয়োঙ্গা ১, মুসেকিওয়া ০, মাসাকাদজা ০, ইভান্স ২, মাপোসা ৩, এনগারাভা ৫; নাসিম ৪-০-৩১-১, ওয়াসিম ৪-০-২৫-১, ফাহিম ৩-০-৩০-১, নাওয়াজ ৪-০-২১-২, উসমান তারিক ৪-১-১৮-৪)
ফল: পাকিস্তান ৬৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: উসমান তারিক