Published : 27 Mar 2026, 08:07 AM
ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শুবমান গিলের টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা উত্থান-পতনের। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা হারান তিনি। আসন্ন আইপিএলে ভালো খেলে আবার এই সংস্করণের জাতীয় দলে ফেরার দাবি জানানোর সুযোগ তার সামনে। তবে গুজরাট টাইটান্স অধিনায়ক বলছেন, কাউকে প্রমাণ দেওয়ার কিছু নেই তার। এই মুহূর্তে তার একমাত্র ব্যক্তিগত লক্ষ্য দলকে আইপিএল জেতানো।
২০২২ সাল থেকে আইপিএলে ৪৬.২ গড় ও ১৪৯.৭৮ স্ট্রাইক রেটে মোট দুই হাজার ৪৪৯ রান করেছেন গিল। এই সময়ে ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে তার চেয়ে বেশি রান কেউ করতে পারেননি। দুই হাজার ৩৭৮ রান নিয়ে তার পরে আছেন ভিরাট কোহলি।
এবারের আইপিএল শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এই টুর্নামেন্টে নিজের গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্সের দিকটিই তুলে ধরলেন গিল।
“আমার মনে হয়, গত তিন-চারটি মৌসুমের দিকে তাকালে দেখবেন, আইপিএলে আমার রানই সবচেয়ে বেশি। তাই বিশেষ করে এই মৌসুমে আমার কিছু প্রমাণ করার আছে বলে মনে হয় না। আর এই দলের হয়ে আমি যে চার বছর খেলেছি, আমার মনে হয় দল হিসেবে আমরা বেশ ভালোই করেছি। ব্যাটসম্যান হিসেবেও আমি বেশ ভালো খেলেছি।”
“তাই আমার মনে হয় না, আমার যোগ্যতা কাউকে প্রমাণ করার প্রয়োজন আছে। গত চার বছর ধরে আমি যা করে আসছি, সেটাই আমার করা উচিত। আর দল হিসেবে আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে, যা আমরা হয়েছি। আমরা যদি এভাবে চালিয়ে যাই, আমার মনে হয় আজ হোক বা কাল, ওই ট্রফিটা আমরা আরও একবার জিতব।”
আইপিএলের গত আসরে ১৫ ম্যাচে ৬৫০ রান করে গুজরাটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন গিল। সেবার এলিমিনেটর ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় তার দল।
ওই আসর এবং অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর, এক বছরের বেশি সময় পর গিলকে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো হয় সহ-অধিনায়ক হিসেবে। এশিয়া কাপের দলে ফেরার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ ম্যাচের সিরিজের অংশ ছিলেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম তিনটিতে খেলেন।
কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংস্করণে ১৫ ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়, ঘরের মাঠে যে বিশ্বকাপটি জিতে নেয় ভারত।
২৬ বছর বয়সী গিল বললেন, ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে খুব একটা ভাবেন না তিনি।
“সত্যি বলতে ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে আমি খুব বেশি মাথা ঘামাই না। আমি যে দলের হয়েই খেলি না কেন, সেটা আমার দেশের হয়ে হোক বা গুজরাটের হয়ে, আমি চাই তারা জিতুক। আর সেখান থেকেই আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য শুরু হয় এবং সেখানেই তা শেষ হয়।”
“এই মুহূর্তে আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য অবশ্যই আইপিএল জেতা। সেটা শেষ হয়ে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের আরও কিছু টুর্নামেন্ট থাকবে, তখন আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলো সেদিকেই পরিবর্তিত হবে। আর এভাবেই আমার লক্ষ্যগুলোকে দেখতে পছন্দ করি আমি।”