Published : 19 Sep 2025, 05:00 PM
মুখোমুখি চতুর্থ বলে মিচেল পেরিকে ছক্কায় ওড়ালেন ম্যাথু ওয়েড। এরপর যেন খোলসে ঢুকে পড়লেন তিনি। পরের ২০ বলে মারতে পারলেন না কোনো বাউন্ডারি। পরে গা ঝাড়া দিয়ে, প্রতিপক্ষের বোলারদের কচুকাটা করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। খুনে ব্যাটিংয়ে উপহার দিলেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট ওয়ানডে কাপে শুক্রবার ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ১০৫ রান করেন ওয়েড। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৬৮ বলের বিস্ফোরক ইনিংসটি ৬টি ছক্কা ও ৮টি চারে সাজান তাসমানিয়ার কিপার-ব্যাটসম্যান।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি ওয়েডের দশম সেঞ্চুরি। পেশাদার ক্যারিয়ারে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পেলেন তিনি প্রথম শতকের স্বাদ। তার শতক ছোঁয়া আগের ইনিংসটিও ছিল ১০৫ রানের, সেটিও এই ওয়ানডে কাপেই।
গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন ওয়েড। পরে কোচিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। তবে সীমিত ওভারের টুর্নামেন্টগুলোয় এখনও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৭ বছর বয়সী ওয়েড। সেই ধারায় এখন তিনি খেলছেন ওয়ানডে কাপে।
অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল ও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ওয়েড। গত নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কোচিং স্টাফে ছিলেন তিনি। পরে জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পালন করেন অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করে সফরকারীরা।
গত আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের সহকারী কোচ ছিলেন ওয়েড। আসরে প্রাথমিক পর্বে ১৪ ম্যাচের ৯টি জেতা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এলিমিনেটর ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে হেরে যায়।
ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তিন মৌসুম খেলেছেন ওয়েড। দুইবার গুজরাটের হয়ে, ২০২২ ও ২০২৪ আসরে। ১৫ ম্যাচের আইপিএল ক্যারিয়ারে ১২টি খেলেছেন তিনি গুজরাটের জার্সিতে।
কোচিং পেশায় যোগ দিলেও ব্যাট হাতে ধার যে এখনও কমেনি, সেটা ওয়ানডে কাপে দেখাচ্ছেন ওয়েড। আগের ম্যাচে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৫ চারে ৪১ বলে ৪০ রান করেন তিনি। এবার পেলেন তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া।
ব্রিজবেনে এদিন ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন ওয়েড। তখন ২০ ওভার শেষে তাসমানিয়ার রান ৪ উইকেট ১৩৪। সেখান থেকে দলটির রান চারশর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ায় বড় অবদান রাখেন ওয়েড।
মন্থর ব্যাটিংয়ে ইনিংস শুরু করা ওয়েড পরে তাণ্ডব চালান। স্যাম এলিয়টকে টানা দুই চারের পর হ্যারি ডিক্সনকে মারেন দুটি ছক্কা। এই দুই ছক্কার প্রথমটিতে ৩৭ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন প্রথম ২৪ বলে ২১ রান করা ওয়েড।
ফিফটির পর আরও দ্রুত রান বাড়ান তিনি। পঞ্চাশ থেকে একশতে পৌঁছাতে তার লাগে স্রেফ ২৮ বল। ৯৬ রান থেকে ক্যালাম স্টোকে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি ৬৫ বলে। ওই ওভারের শেষ বলে থামে তার পথচলা।
ওয়েডের সেঞ্চুরি, মিচেল ওয়েনের ২১ বলে ৫৩, জ্যাক ওয়েথালারাল্ডের ৮১ ও নিখিল চৌধুরির ৬৭ রানের সৌজন্যে ৩৮১ রান করে তাসমানিয়া। ওয়ানডে কাপের ইতিহাসে এনিয়ে দ্বাদশবার দেখা গেল ৩৮০ রানের পুঁজি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি তাসমানিয়ার, ২০২৩ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রান করেছিল তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে আইএলটি-টোয়েন্টিতে ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলেছিলেন ওয়েড। বিগ ব্যাশের গত আসরে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতা হোবার্ট হারিকেন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি।