এশিয়া কাপ
Published : 09 Sep 2025, 09:09 PM
‘এই মুহূর্তে আমার খুব ঘুম পাচ্ছে’, এশিয়া কাপের অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে হাসি মুখে বললেন চারিথ আসালাঙ্কা। জিম্বাবুয়েতে টানা দুই দিনে ম্যাচ খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে দুবাইয়ে গিয়ে শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের শরীরে ভর করেছে ক্লান্তি। এমন ঠাসা সূচিকে ক্রিকেটারদের জন্য একদমই আদর্শ মনে করছেন না তিনি।
আফগানিস্তান অধিনায়ক রাশিদ খানেরও একই মত। তবে বাস্তবতাও তুলে ধরলেন তিনি। তারকা এই লেগ স্পিনারের মতে, পেশাদার ক্রিকেটারদের এসব মেনে নিয়েই খেলা চালিয়ে যেতে হবে।
গত শনি ও রোববার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জয়ের পরই শুরু হয়ে যায় তাদের ভ্রমণ। ম্যাচের পর হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দিতে হয় দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে গন্তব্যে পৌঁছেও বিশ্রামের সুযোগ নেই আসালাঙ্কার। এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর অধিনায়কদের মঙ্গলবারের ফটোসেশন ও সংবাদ সম্মেলনে যে যোগ দিতে হয়েছে তাকে।
আসালাঙ্কার জন্য কিছুটা স্বস্তির হলো, দুয়েক দিনের মধ্যে মাঠে নামতে হচ্ছে না তাকে। এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার প্রথম ম্যাচে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। অর্থাৎ মাঝে চার দিনের বিরতি পাচ্ছে লঙ্কানরা।
এমন ঠাসা সূচি মানতে কষ্ট হচ্ছে আসালাঙ্কার। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের ফিটনেসের দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
“আমার মনে হয়, প্রশ্নের উত্তর আমার আগামীকাল দেওয়া উচিত। পরপর দুটি ম্যাচ খেলা এবং তারপরই ভ্রমণ করা, সত্যিই কঠিন। আমার মনে হয়, আমাদের সত্যিই কয়েকদিনের ছুটি দরকার। আশা করি, কোচ সেটা দেবেন।”
“নিজেদের ফিটনেসের প্রতি খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, এখানে বাইরে অনেক গরম। আমার কাছে, সতেজ থেকে প্রথম ম্যাচে শতভাগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”
আফগানিস্তানও যে খুব বেশি বিশ্রাম পাচ্ছে তা নয়, গত রোববার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলেছে তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেটা অবশ্য হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই। তবে হেরে যাওয়া ওই ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার আবার মাঠে নামতে হয়েছে আফগানদের, উদ্বোধনী ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে।
ম্যাচটির ভেন্যু আবু ধাবি। আর অধিনায়কদের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ম্যাচ শুরুর ৬ ঘণ্টা আগেও দুবাইয়ে ছিলেন রাশিদ। সব কিছু মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তারও।
তবে এসব নিয়ে অভিযোগ করার পক্ষে নন রাশিদ। বললেন, সবকিছু মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই তাদের।
“আমারও মনে হয় না, এটা আদর্শ কিছু নয়। এর আগেও আমরা এই বিষয়ে কথা বলছিলাম (অন্য অধিনায়কদের সঙ্গে)। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এসব বিষয় মেনে নিতে হবে।”
“একবার মাঠে ঢুকে গেলে, অন্য কিছু মনে থাকে না। অন্য দেশগুলোয়, প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা বিমানে চড়ে এরপর সরাসরি মাঠে নামতে হয়। আমার মনে আছে, একবার বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরাসরি খেলেছিলাম।”
রাশিদ বললেন, মাঠে ঢুকলে এসব নিয়ে ভাবেন না তিনি ও তার দল। কেবল শতভাগ দিয়ে দলকে জেতাতে মরিয়া থাকেন তারা।
“আমাদের ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং মানসিকভাবে খুব শক্তিশালী হতে হবে, এজন্যই আমরা পেশাদার। অনেক ভ্রমণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করলে, তা মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করে। মাঠে পা রাখার পর সামর্থ্যের সবটুকু দেওয়ার ওপর মনোযোগ থাকে আমরা। যেখানেই যাই না কেন, মাঠের বাইরে যা কিছু ঘটে, সেসব ভুলে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শতভাগ দেওয়া এবং ম্যাচ জেতা।”