অ্যাশেজ
Published : 31 Dec 2025, 07:17 PM
উসমান খাওয়াজার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মাঝে অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মাইকেল ভন এবং সেটা চলতি অ্যাশেজের সিডনি টেস্টের পরই।
আগামী রোববার শুরু হবে অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট। এই ম্যাচ দিয়ে খাওয়াজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার চেয়ে ভালো উপলক্ষ আর দেখেন না ভন।
এখন কেবল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টেই সুযোগ পান খাওয়াজা। ওয়ানডেতে সবশেষ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি ২০১৯ সালে। এর তিন বছর আগে খেলেছেন দেশের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টি।
খাওয়াজার সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তাই শেষ ধরেই নেওয়া যায়। এখন অনিশ্চয়তায় তার টেস্ট ক্যারিয়ারও। যে সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি সাফল্য; সেটিরও গোধূলি দেখছেন অনেকে।
অনেকদিন ধরেই টেস্টে সেরা চেহারায় নেই ৩৯ বছর বয়সী খাওয়াজা। গত দুই বছরে এই সংস্করণে ব্যাট হাতে খুব ভুগেছেন তিনি। ২০২৪ সালে ৯ টেস্ট খেলে ৪১৫ রান করেছেন ২৫.৯৩ গড়ে। পাননি কোনো সেঞ্চুরি স্বাদ, ফিফটি ছুঁতে পেরেছেন কেবল দুইবার।
২০২৫ সালটাও খাওয়াজার ভালো কাটেনি। চলতি বছরে ১০ টেস্টে ৬১৪ রান করেছেন তিনি ৩৬.১১ গড়ে। করেছেন একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি।
পারফরম্যান্সে ভাটার টান থাকলেও উপযুক্ত বিকল্প নেই বলে পড়ন্তবেলার খাওয়াজাকেই এতদিন বয়ে বেড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এবারও যেমন অ্যাশেজ শুরু করেছিলেন তিনি অস্ট্রেলিয়ার মূল ওপেনার হিসেবে। কিন্তু সিরিজটি শুরু হওয়ার পর বদলে যায় অনেক কিছু।
পিঠের অস্বস্তির কারণে পার্থে প্রথম টেস্টের কোনো ইনিংসেই ওপেন করতে পারেননি খাওয়াজা। প্রথম ইনিংসে জ্যাক ওয়েদেরল্ডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ভালো করতে পারেননি মার্নাস লাবুশেনও।
দ্বিতীয় ইনিংসে তাই রান তাড়ায় ট্রাভিস হেডকে ওপেন করতে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরিতে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দিয়ে সুযোগটা কাজে লাগান তিনি। এরপর থেকে ওয়েদেরল্ডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু করছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পিঠের সমস্যা কাটিয়ে না ওঠায় ব্রিজবেনে দ্বিতীয় টেস্টে খাওয়াজাকে একাদশে রাখেনি অস্ট্রেলিয়া। পরে ফিট হয়ে উঠলেও শুরুতে অ্যাডিলেইড টেস্টের একাদশে তাকে ফেরায়নি দল। তখন থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন জোরেশোরে শুরু হয়।
শেষ মুহূর্তে স্টিভেন স্মিথ ছিটকে গেলে সুযোগ পান খাওয়াজা। ওই ম্যাচে চারে খেলানো হয় তাকে। যেখানে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮২ ও ৪০ রান করে দলের অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত করতে অবদান রাখেন তিনি।
মেলবোর্নে দুই ইনিংসেই পাঁচে ব্যাটিং করে তেমন কিছু করতে পারেননি খাওয়াজা, আউট হন ২৯ ও শূন্য রানে। ধারণা করা হচ্ছে, সিডনিতেও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবেন তিনি।
অনেকের মতো, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের মনে হচ্ছে, সিডনি টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন খাওয়াজা। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোলান্ড বলেছেন, এমন কোনো ইঙ্গিত তারা পাননি।
এবার সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে ভন বললেন, সিডনিতে ঘরের দর্শকদের সামনে বিদায় বলার এমন সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না খাওয়াজার।
“আমি উসমানকে বলব, ‘তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে দিও না। তোমার ভাগ্য তুমি নির্ধারণ করো।’ যখন কেউ এত লম্বা সময় ধরে খেলছে, আমাদের উচিত তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া। উসমানের ক্যারিয়ার অসাধারণ এবং নিজের আঙিনায় নিজের ইচ্ছায় বিদায় বলার সুযোগ অনেকেই পায় না।”
ইংল্যান্ডের হয়ে ৮২ টেস্ট ও ৮৬ ওয়ানডে খেলা ভনের মতে, এবার বিদায় না নিলে মাঠ থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ হয়তো আর পাবেন না খাওয়াজা।
“আর সে যদি এটা না করে, তাহলে নিজের ইচ্ছায় ক্যারিয়ারের ইতি টানতে না পারার ঝুঁকিতে পড়বে। অ্যাশেজ সিরিজে নিজের ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। আর যদি উজির (উসমানের) মধ্যে সত্যিই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি ও সামর্থ্য থাকে, হ্যাঁ, আমার মনে হচ্ছে তেমন কিছুই হবে। তবে অ্যাশেজ সিরিজে সিডনিতে বিদায় বলতে পারাটা আমার চোখে দারুণ।”