Published : 28 Jan 2026, 12:16 PM
হ্যারি ব্রুকের ইনিংস নিয়ে যখন তোলপাড়, জো রুট আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে বলতেই পারেন, ‘আমিও আছি!’ সেঞ্চুরি করেছেন তিনিও এবং সেটি বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই। কিন্তু ব্রুকের ইনিংস এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে অনেকটা চাপাই পড়ে গেছেন রুট। ঠিক যেমন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ঝলমলে আলোয় অনেক সময়ই আঁধারে পড়ে থাকে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার।
ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান রুট। অনেকের মতে, তিনিই সর্বকালের সেরা ইংলিশ ব্যাটসম্যান। সাচিন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসেরও সফলতম হয়ে যাবেন একদিন, সেই বিশ্বাসও বাড়ছে ক্রমেই। তবে অনেকেরই মনে থাকে না, ওয়ানডেতেও ইংল্যান্ডের সফলতম তিনিই এবং সেটি সবাইকে অনেকটা ব্যবধানে পেছনে ফেলেই।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মঙ্গলবার ৫৭ বলে সেঞ্চুরি ও ৬৬ বলে ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ব্রুক। তার সঙ্গে ১৯১ রানের রেকর্ড জুটি গড়া রুটও খুব পিছিয়ে ছিলেন না। তিনি অপরাজিত থাকেন ১০৮ বলে ১১১ রান করে।
রুটের ২০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি এটি। ইংল্যান্ডের আর কোনো ব্যাটসম্যানের ১৪টি সেঞ্চুরিও নেই। এছাড়া দার ৪৫ ফিফটিও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ।
এই সেঞ্চুরির পথে ওয়ানডে ক্রিকেটে সাড়ে ৭ হাজার রান পেরিয়ে গেছেন রুট। আর কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যান কখনও সাত হাজারের সীমানায় পা রাখতে পারেননি।
১৮৯ ওয়ানডে খেলে এখন তার রান ৭ হাজার ৫৭৭। ব্যাটিং গড় ৪৯.৫২। ইংল্যান্ডের হয়ে অন্তত তিন হাজার রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার ব্যাটিং গড়ই সেরা। খারাপ নয় তার ক্যারিয়ার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট (৮৭.৫৯)।
তার ২০ সেঞ্চুরির ১০টিই দেশের বাইরে। বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিলিয়ে বৈশ্বিক আসরে করেছে ৫টি সেঞ্চুরি।

সব মিলিয়ে প্রায় পরিপূর্ণ রেকর্ডই বলা যায়। তার পরও বেশির ভাগ সময়ই তার টেস্ট পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে কিছুটা ম্লান হয়ে থাকে ওয়ানডের ছবিটা। অনেকটা জেমস অ্যান্ডারসনের মতোই। ১৮৮ টেস্ট খেলে ৭০৪ উইকেটের অকল্পনীয় কীর্তি গড়া পেসার তিনি। এসব নিয়ে চর্চার শেষ নেই। অনেকেরই মনে থাকে না, ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসেও সফলতম বোলার তিনি (২৬৯), যদিও ২০১৫ বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণে আর দেখা যায়নি তাকে।
অনেকেই ভুলে গেলেও সতীর্থরা তো ভোলেন না। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর অধিনায়ক ও ম্যাচের সেরা হ্যারি ব্রুক ঠিকই কৃতিত্ব দিলেন রুটকে।
“রুটি (রুট) অসাধারণ খেলেছে। তার মতো একজনকে দলে পাওয়াটা প্রতিটি দিনই দলকে সহায়তা করে। দুর্দান্ত পারফরমার সে।”
“গতকালকেই নেটে রুটির সঙ্গে কিছু ব্যাপার নিয়ে কাজ করছিলাম, আজকে ম্যাচে তা কাজে লেগে গেছে।”
সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরির আগে প্রথম দুই ম্যাচে রুট করেছেন ৬১ ও ৭৫। সিরিজে ২৪৭ রান করে ও ২টি উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা সিরিজ তিনিই।
এই নিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার সিরিজ-সেরা হলেন রুট। এটিও যে ইংল্যান্ডের রেকর্ড, তা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না! ৫ বার সেরা হতে পারেননি আর কেউ।