Published : 28 Jun 2026, 08:45 PM
ম্যাচ শেষে মাঠময় ঘুরে বেড়ালেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। মজা করলেন, ছবি তুললেন ছুটে বেড়ালেন। দেখে বোঝা কঠিন, জয়ী দল কোনটি আর হেরেছে কারা! চ্যাম্পিয়ন বগুড়ার বিআইআইটি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রিকেটাররা তো ম্যাচ শেষে উল্লাসে মেতে উঠেছেই। রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুলের ছেলেরাও হারের হতাশাকে পাশে সরিয়ে মাঠে স্মৃতিতে ধরে রাখতে চেয়েছে মুহূর্তগুলো। এই সুযোগ তো আর রোজ রোজ আসে না!
উপলক্ষ এমনিতেই বড়, প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ। তবে এই ক্রিকেটাদের জন্য ম্যাচটি আরও স্পেশাল হয়ে উঠেছে ভেন্যুর কারণেও। হোম অব ক্রিকেটে খেলার সুযোগ তো স্বপ্নের মতোই। তাদের স্বপ্নের তারকারা যে মাঠে নিয়মিত খেলেন, যে ড্রেসিংরুম ব্যবহার করেন, সেখানেই একদিনের জন্য রাজত্ব ছিল এই খুদে ক্রিকেটারদের। তাদের চোখেমুখে মিশে থাকল সেই উচ্ছ্বাস।
প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট উৎসব। এবারের আসরে যেমন অংশ নিয়েছে ৩৪৭ স্কুল ও ৬ হাজার ৯৪০ জন ক্রিকেটার। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় শেষে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার ছিল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। ৯১ রানের জয়ে শিরোপা জিতে নয় বগুড়া বিআইআইটি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪২ রানে অলআউট হয় বগুড়ার স্কুলটি। ৮ নম্বরে নেমে চারটি চার ও আট ছয়ে ৫৩ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন গোলাম রসুল । ছয়ে নেমে বায়েজিদের ব্যাটে ৭৩ বলে আসে ৫০ রান। ৪৮ রান করেন তাহমিদ করিম।
রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুলের হয়ে ৪৬ রানে ৪ উইকেট নেন সিফাত আলি।
রান তাড়ায় রাজশাহীর স্কুলটি অলআউট হয় ১৫১ রানে। তিনে নামা অধিনায়ক সারাফাত সাদিদ করেন সর্বোচ্চ ৪৩ রান। জয়ী দলের আব্দুর রহমান ইরফান ৩৪ রানে নেন ৪ উইকেট।

বগুড়ার গোলাম রসুল একাই পান তিনটি পুরস্কার। ফাইনাল সেরার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরা ও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।
ফাইনাল শেষে ট্রফি নিয়ে বাধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা। মুহূর্তগুলি ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা। তাদের মধ্যে অনেকেই নিশ্চয়ই স্বপ্নটাও গেঁথে নিয়েছেন মনে, একদিন এই মাঠেই খেলতে হবে দেশের জার্সিতে!