Published : 26 Apr 2026, 05:01 PM
জাতীয় দলের হয়ে প্রথম অনুশীলন সেশনে বোলারদের ‘ইয়র্কার’ মারার খেলায় জিতেছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সেটা নিয়ে বেশ মজা-টজাও হয়ে গেছে দলের ভেতর। তার বোলিংয়ের মূল শক্তির জায়গা অবশ্য কার্যকর স্লোয়ার ডেলিভারি। তবে তার কাছে লিটন কুমার দাসের চাওয়া আরও বেশি কিছু। বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে সাকলাইনের পরিচয় শুধুই পেস বোলার নয়, বরং একজন অলরাউন্ডার।
টেপ টেনিসের জগৎ থেকে উঠে আসা সাকলাইন দেশের ক্রিকেটে এই সময়ে আলোচিত নামগুলির একটি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে দারুণ পারফর্ম করে এবার জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাংলাদেশ দলে ঠাঁই পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
সিরিজ শুরুর আগের দিন লিটন যা বললেন, তাতে সিরিজের শুরুতেই হয়তো খেলার সুযোগ পাবেন না সাকলাইন। তবে তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাখলেন অধিনায়ক।
“সাকলাইন আমার চোখে অলরাউন্ডারের ক্যাটেগরিতে। ও বিপিএল লিগে খুবই ভালো খেলেছে রাজশাহীর হয়ে। যেখান থেকেই কিন্তু এই... ‘আই ক্যাচিং’ বলে একটা ব্যাপার আছে না, সেখান থেকেই। কাজেই চেষ্টা করব এখানে গ্রুমিং করে করে দলের সঙ্গে রেখে রেখে যেন একটা সময়ে গিয়ে তাকে আমরা খেলাতে পারি এবং খেলায় যেন সে আমাদেরকে ফিডব্যাক দিতে পারে।”
সাকলাইনের ব্যাটিং পরিসংখ্যান থেকে যদিও আশার জায়গা খুব একটা নেই। স্বীকৃত ক্রিকেটে কোনো ফিফটি তিনি এখনও করতে পারেননি। তবে ব্যাটের ধার তিনি দেখিয়েছেন নানা সময়ে। বিশেষ করে, ছক্কা মারার সহজাত সমর্থ্য তার ব্যাটিংয়ে গেছে। গত নভেম্বরে কাতারে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রবল চাপের মধ্যে শেষ দিকে এক ওভারে দুটি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। গত বিপিএলে চট্টগ্রামের বিপক্ষে করেছিলেন ৩ ছক্কায় ১৫ বলে ৩২।
শুধু সাকলাইন নয়, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন আরেক নবীন রিপন মন্ডল। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের মতো অভিজ্ঞ দুই পেসারকে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিবেচনায় দলে রাখা হয়নি গতি তারকা নাহিদ রানাকেও।
অধিনায়ক বললেন, এভাবে সুযোগ পেলে কোনো না কোনো ফাঁক কাজিয়ে লাগিয়ে রিপন-সাকলাইনদের ম্যাচ খেলিয়ে তৈরি করে নিতে চান তারা।
“আমার সবগুলা বোলারই খুবই ভালো। যদি দেখেন মুস্তাফিজ তো মুস্তাফিজই, তার জায়গা পূরণ করাটা খুবই কঠিন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, যেদিন মুস্তাফিজ খেলবে না, কোন কারণে ইনজুরড হয়ে গেলে কোনো না কোনো ক্রিকেটারকে তো খেলতে হবে। ওই চেষ্টাটা করেই আমরা কিন্তু এই দলটা তৈরি করার চেষ্টা করছি।”
“এই ছেলেরা যত গেম টাইম পাবে, তারাও একটা সময়ে উন্নতি করে মুস্তাফিজের মত না হলেও হয়তো কাছাকাছি যেতে পারবে।