Published : 18 Apr 2026, 08:24 PM
জয়ের জন্য শেষ চার বলে প্রয়োজন ১৩ রান। কয়েক দিন আগে শেষ দুই বলে দুই রানের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হওয়া ডেভিড মিলার তখন ব্যাটিংয়ে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান দেখালেন কব্জির জোর। ছক্কা, ছক্কা ও চারে দলকে জিতিয়ে দিলেন তিনি এক বল বাকি থাকতেই।
আইপিএলে শনিবার ১৭৫ রানের পুঁজি নিয়েও দারুণভাবে লড়াই জমিয়ে তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি তারা অসাধারণ কিছু করে দেখাতে। দিল্লি ক্যাপিটালস জিতে যায় ৬ উইকেটে।
শেষ ওভারে দিল্লির প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। বেঙ্গালুরুর তিন পেসার ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হেইজেলউড, রাসিখ সালাম ও বাঁহাতি স্পিনার ক্রুনাল পান্ডিয়ার কোটার চার ওভার করে ততক্ষণে শেষ। তিন ওভারে ৩১ রান দেওয়া লেগ স্পিনার সুয়াশ শার্মাকে আর বোলিং দেননি বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রাজাত পাতিদার। তিনি প্রথমবার বল তুলে দেন ক্যারিবিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার রোমারিও শেফার্ডের হাতে।
প্রথম দুটি বল বেশ ভালো করেন শেফার্ড। প্রথম বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি মিলার, লেগ বাই থেকে আসে এক রান। পরের বলে এক রান নেন স্ট্রিস্টান স্টাবস। তখন চার বলে দরকার ১৩ রান।
তৃতীয় বলটি শেফার্ড করেন ফুল টস। সুযোগ হাতছাড়া করেননি মিলার, ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ৮৭ মিটার লম্বা ছক্কায় বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরের বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ ডেলিভারি, আবার বলের আশ্রয় গ্যালারিতে, কাভারের ওপর দিয়ে।
পঞ্চম বলটি ফের ফুল টস করেন শেফার্ড। সজোরে লেগ সাইডে খেলেন মিলার, ডিপ মিডউইকেট দিয়ে গুলির বেগে বাউন্ডারিতে চলে যায় বল। সঙ্গী স্টাবসকে জড়িয়ে ধরেন মিলার। মাঠ ছাড়েন তারা হাসি মুখে।
এক ম্যাচ আগে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে দিল্লিকে দারুণ এক জয়ের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন মিলার। সেদিন শেষ ওভারে দিল্লির প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। শেষ তিন বলে দরকার যখন ৮ রান, চতুর্থ বলে বিশাল এক ছক্কায় জয় নাগালে নিয়ে আসেন মিলার। ২ বলে চাই ২ রান। পঞ্চম বলটি তিনি ঠিকঠাক টাইমিং করতে না পারলেও এক রান নিয়ে স্কোর লেভেল করতে পারতেন। কিন্তু সিঙ্গল না নিয়ে ভরসা রাখেন নিজের ওপর। শেষ বল তিনি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি, ১ রানে হেরে যায় দিল্লি।
২০ বলে ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মিলার হার নিয়ে যেমন মাঠ ছাড়েন, তেমনি ওই সিঙ্গল না নেওয়ায় সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি। ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান এবার দেখালেন, কেন তাকে সময়ের সেরা ফিনিশারদের কাতারে রাখা হয়।
এবার দুই ছক্কা ও এক চারে ১০ বলে ২২ রান করেন মিলার। এক ছক্কা ও চারটি চারে ৪৭ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে তার সঙ্গে জয় নিয়ে ফেরেন স্টাবস।
বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাসোয়ামি স্টেডিয়ামে কিছুটা মন্থর রান তাড়ায় দিল্লিকে পথ দেখান মূলত ওপেনার লোকেশ রাহুল। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলে দেন ভুবনেশ্বর। সেখান থেকে ৩৪তম জন্মদিনে ৩৪ বলে ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন রাহুল।
স্টাবসের সঙ্গে ৬৯ রানের জুটি গড়ে রাহুল যখন বিদায় নেন, তখন দিল্লির দরকার ৫৯ বলে ৮৯ রান। সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেন স্টাবস ও আকসার প্যাটেল।
শেষ ছয় ওভারে দরকার ছিল ৫১ রান। ১৫তম ওভারে পান্ডিয়া দেন কেবল ৫ রান। পরের ওভারে ভুবনেশ্বরও ৫ রানের বেশি দেননি। ওই ওভারে পায়ে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যান আকসার। এরপরই ব্যাটিংয়ে যান মিলার, দলের দরকার তখন ২৫ বলে ৪২ রান।
১৭তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্রেফ ৪ রান দেন হেইজেলউড। পরের ওভারে ভুবনেশ্বরকে একটি ছক্কা মারেন স্টাবস, রান আসে ১২। ১৯তম ওভারে স্টাবসের একটি চারে আসে ১০ রান।
এরপর মিলারের শেষের ঝড় আর দিল্লির রোমাঞ্চকর জয়।