১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বেথেলের ১৩৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার দিনে ঝড়ো ইনিংসে নায়ক সল্ট

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেছে ইংলিশরা।

বেথেলের ১৩৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙার দিনে ঝড়ো ইনিংসে নায়ক সল্ট
৮৯ রানের ইনিংস খেলার পথে ফিল সল্ট। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2025, 11:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

টস করতে নেমেই ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়কের রেকর্ড নিজের করে নিলেন জ্যাকব বেথেল। তার কীর্তি গড়ার দিনে জ্বলে উঠলেন ফিল সল্ট। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে প্রায় একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন ইংলিশ ওপেনার।

ডাবলিনে বুধবার আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের ১৯৬ রান ১৪ বল আগেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।

সেই ১৮৮৯ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টে ইংল্যান্ডকে ২৩ বছর ১৪৪ দিন বয়সে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মন্টি বাউডেন। এতদিন তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইংলিশদের অধিনায়কত্ব করা অধিনায়ক। ২১ বছর ৩২৯ দিন বয়সে নেতৃত্ব দিয়ে ১৩৬ বছর পুরনো সেই রেকর্ড এবার ভেঙে দিলেন বেথেল।

তার স্মরণীয় দিনটি আরও রঙিন হলো দলের জয়ে। যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন সল্ট। আগের টি-টোয়েন্টিতেই রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই ম্যাচের ফর্ম আইরিশ ম্যাচেও বয়ে আনলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

৪টি ছক্কা ও ১০টি চারে ৪৬ বলে ৮৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন সল্ট। আবার একটি ক্যাচও নেন। দ্যুতিময় পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা তিনিই।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আশা জাগানিয়া ছিল আয়ারল্যান্ডের জন্য। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান করে তারা। স্বাগতিকদের ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে অষ্টম ওভারে রস অ্যাডায়ারের (২৫ বলে ২৬) বিদায়ে।

পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আরেক ওপেনার পল স্টার্লিংও। আদিল রাশিদের বলে লং-অনে ধরা পড়েন তিনি ৪টি ছক্কা ও ১ চারে ২২ বলে ৩৪ রান করে।

এরপর রেকর্ড গড়া ১২৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান লর্কান টাকার ও হ্যারি টেক্টর। টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় উইকেটে প্রথমবারের মতো শতরানের জুটি পায় আইরিশরা।

অনেকটা নতুন চেহারার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের মেলে ধরে দারুণ ব্যাটিং করেন টাকার ও টেক্টর। দুইজনেই স্পর্শ করেন ফিফটি, টেক্টর ৩১ বলে ও টাকার ৩৫ বলে।

৪টি ছক্কা ও ৩টি চারে ৩৬ বলে ৫৫ রান করে বিদায় নেন টাকার। শেষ পর্যন্ত খেলে ২ ছক্কা ও ৬টি চারে ৩৬বলে ৬১ রান করেন টেক্টর।

লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসী শুরু করেন সল্ট ও বাটলার। ইনিংসের প্রথম ওভারে একটি করে চার মারেন দুই ওপেনার। দ্বিতীয় ওভার গ্রাহাম হিউমের ওপর ঝড় বইয়ে দেন বাটলার। চারটি চারের সঙ্গে মারেন একটি ছক্কা। ওভারটি থেকে আসে ২২ রান।

উইল ইয়াংকে টানা দুই চার মারা সল্ট একটি চার ও ছক্কা হাঁকান ম্যাথু হামফ্রেজের ওভারে। হামফ্রেজের ওই ওভারেই ফিরে যান ঝড়ের আভাস দেওয়া বাটলার (১০ বলে ২৮)। তার বিদায়ে ভাঙে ৭৪ রানের শুরুর জুটি।

ব্যারি ম্যাককার্থিকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন বেথেল। ওই ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে ২০ বলে ফিফটিতে পা রাখেন সল্ট। পাওয়ার প্লে শেষে ইংল্যান্ডের রান ১ উইকেটে ৮৪।

টেক্টরকে টানা দুটি চার ও একটি ছক্কা মারা বেথেল পরের বলেই ধরা পড়েন কাভারে। নেতৃত্বের অভিষেকে ১৬ বলে ২৪ রান করে ফেরেন তিনি। রেহান আহমেদের বিদায়ের পর সল্টকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়ে ফেরেন স্যাম কারানও।

ততক্ষণে অবশ্য জয়ের কাছে পৌঁছে গেছে ইংলিশরা। লক্ষ্য যখন আর কেবল ১৬ রান দূরে, হিউমের বলে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দেন সল্ট। পরের ওভারে ফিরে যান টম ব্যান্টনও। দুই ওভারে ৩ উইকেট হারালেও জিততে বেগ পেতে হয়নি ইংল্যান্ডের।

একই মাঠে পরের ম্যাচ আগামী শুক্রবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৯৬/৩ (স্টার্লিং ৩৪, অ্যাডায়ার ২৬, টেক্টর ৬১, টাকার ৫৫, ডকরেল ৬; উড ৩-০-২৪-০, ওভারটন ৪-০-৪০-১, ডসন ৪-০-৩৯-১, কারান ৪-০-৪৩-০, রাশিদ ৪-০-৩৬-১, রেহান ১-০-৯-০)

ইংল্যান্ড: ১৭.৪ ওভারে ১৯৭/৬ (সল্ট ৮৯, বাটলার ২৮, বেথেল ২৪, রেহান ৮, ব্যান্টন ১১, জ্যাকস ১, ওভারটন ৪; হামফ্রেজ ৪-০-৪৪-২, ম্যাককার্থি ৩.৪-০-৪৩-০, হিউম ২-০-৩৬-২, ইয়াং ৩-০-২৬-০, টেক্টর ২-০-২২-১, ক্যাম্পার ১-০-১৩-০, ডেলানি ২-০-১৩-১)

ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ফিল সল্ট

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে ইংল্যান্ড