ত্রিদেশীয় সিরিজ
Published : 24 Jul 2025, 08:36 PM
ম্যাচের প্রথমভাগটা ছিল টিম সাইফার্ট ও রাচিন রাভিন্দ্রার। তাদের ঝড়ো পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংসে বড় সংগ্রহ পেল নিউ জিল্যান্ড। পরে অবশ্য সব আলো কেড়ে নিলেন ইশ সোধি। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল কিউইরা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে বৃহস্পতিবার ৬০ রানের বড় জয় পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড। ১৯০ রানের পুঁজি গড়ে স্বাগতিকদের তারা থামিয়ে দিয়েছে ১৩০ রানে।
টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আটবারের দেখায় সবকটিতে জয়ের স্বাদ পেল কিউইরা। আর এই ত্রিদেশীয় সিরিজে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে চারটিই জিতল দলটি।
হারারেতে দলটির এদিনের জয়ের নায়ক সোধি। চমৎকার বোলিংয়ে স্রেফ ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সেরা ২৮ রানে ৪ উইকেট।
আরেকটি কীর্তি গড়েন সোধি। নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে নিউ জিল্যান্ডের টিম সাউদি (১৬৪) ও আফগানিস্তানের রাশিদ খানের (১৬১)।
কিউইদের এই জয়ে অবদান কম নয় সাইফার্ট ও রাভিন্দ্রারও। ১ ছক্কা ও ৯ চারে ৪৫ বলে ৭৫ রান করেন সাইফার্ট। ৩৯ বলে ৬৩ রান করতে রাভিন্দ্রা মারেন ২ ছক্কা ও ৭টি চার। তাদের দুইজনের জুটিতে আসে ৬৮ বলে ১০৮ রান।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারেই টিম রবিনসনকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। তবে দলকে চাপে পড়তে দেননি সাইফার্ট ও রাভিন্দ্রা। ক্রিজে গিয়েই রাভিন্দ্রা শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি।
আরেক প্রান্তে দ্রুত রান বাড়ান সাইফার্টও। পঞ্চম ওভারে তাকে ফেরানোর সুযোগ পায় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু মাপোসার বলে ১৩ রানে থাকা ব্যাটসম্যানের ক্যাচ নিতে পারেননি মুনিয়োঙ্গা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ম্যাচে শূন্য রানে জীবন পেয়ে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সাইফার্ট। এবারও বেঁচে গিয়ে জিম্বাবুয়েকে ভোগান নিউ জিল্যান্ড ওপেনার।
৩২ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি স্পর্শ করেন রাভিন্দ্রা। পরের ওভারে একই স্বাদ পান সাইফার্টও। কিউইদের হয়ে তার দ্বাদশ টি-টোয়েন্টি পঞ্চাশ আসে ৩৩ বলে।
রাভিন্দ্রাকে ফিরিয়ে জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন মাপোসা। এক বল পর এই পেসার শূন্য রানে বিদায় করেন মার্ক চ্যাপম্যানকে।
সপ্তদশ ওভারে ফের জোড়া উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড। তিন বলের মধ্যে বেভন জ্যাকবস ও মিচেল স্যান্টনারকে ড্রেসিং রুমে পাঠান রিচার্ড এনগারাভা। মাইকেল ব্রেসওয়েলের ১৬ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে দুইশর কাছে যায় সফরকারীরা।
রান তাড়ায় জিম্বাবুয়েকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ডিওন মেয়ার্স। প্রথম ওভারে ম্যাট হেনরিকে তিনটি চার মারেন তিনি। পরের ওভারে জ্যাক ফউকসকে মারেন আরেকটি।
এরপরই জিম্বাবুয়ের বুকে আঘাত হানেন সোধি। আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে দেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ধরেন জোড়া শিকার; ক্লাইভ মাডান্ডে ও মেয়ার্সকে করেন বোল্ড।
ভীষণ বিপদে পড়া দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লও। ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়া দলকে কিছুটা টানেন টনি মুনিয়োঙ্গা ও তাশিনগা মুসেকিওয়া। দুইজনে গড়েন ৩৪ বলে ৫১ রানের জুটি।
তাদের বিদায়ের পর আর বেশিদূর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৪০ রান করেন মুনিয়োঙ্গা। ১ চারে ২১ রান করেন মুসেকিওয়া।
আগামী শনিবার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৯০/৬ (সাইফার্ট ৭৫, রবিনসন ১০, রাভিন্দ্রা ৬৩, চ্যাপম্যান ০, ব্রেসওয়েল ২৬, জ্যাকবস ০, স্যান্টনার ৭, ফউকস ১; এনগারাভা ৪-০-৩৪-৪, মাপোসা ৪-০-৩৩-২, গুয়ান্ডু ৫-০-৫১-০, মেয়ার্স ২-০-১৫-০, রাজা ৪-০-৩৪-০, মাসাকাদজা ২-০-২৩-০)
জিম্বাবুয়ে: ১৮.৫ ওভারে ১৩০ (মেয়ার্স ২২, বেনেট ১, মাডান্ডে ২, রাজা ৯, বার্ল ৫, মুনিয়োঙ্গা ৪০, মুসেকিওয়া ২১, মাসাকাদজা ২, মাপোসা ৮*, এনগারাভা ৬, গুয়ান্ডু ২; হেনরি ৩-০-৩৪-২, ফউকস ৩.৫-০-১৪-১, সোধি ৪-০-১২-৪, ও’রোক ৩-০-১৯-১, ব্রেসওয়েল ২-০-১৬-১, স্যান্টনার ৩-০-৩০-০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৬০ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইশ সোধি