Published : 21 Mar 2026, 03:42 PM
বোর্ড সভার আলোচ্যসূচিতে সাধারণত বেশ কিছু ব্যাপারই থাকে। তবে গত বুধবার ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের বোর্ড সভা ছিল স্রেফ একটি বিষয় নিয়েই। ৯০ মিনিটের সেই সভায় শুধু আলোচনা হয়েছে, ঘরের মাঠে তারা আফগানিস্তানকে আতিথ্য দেবে কি না। শেষ পর্যন্ত আফগানদের সঙ্গে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। তবে সেখানে মিশে আছে অনেক অস্বস্তি।
আফগানিস্তানের সঙ্গে দেশের মাঠে খেলতে আলাদা সভা ও এমন অস্বস্তির কারণ, সেখানকার থমকে থাকা নারী ক্রিকেট। আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার শর্তগুলোর একটি ছেলে ও মেয়ে, দুটিই দলই থাকতে হবে এবং এই শর্ত পূরণ করার কথা দিয়েই ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পেয়েছিল আফগানিস্তান। সেই সময়ের আফগান সরকার ধীরে ধীরে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, মেয়েরা টুকটাক ক্রিকেট খেলছিলেন। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ২৫ নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনা হয়েছিল এবং ওমানে প্রথম সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু সবকিছু ভেস্তে যায় পরের বছরই।
তালেবানরা ক্ষমতায় ফেরার পর ক্রমে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, পুরুষ ডাক্তারের কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ হয়, এমনকি প্রকাশ্যে মেয়েদের কণ্ঠই শোনা যায় না সেখানে। ক্রিকেট খেলা তো এখন রূপকথার মতো ব্যাপার।
নারী ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়ায় নৈতিক অবস্থান থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘরের মাঠে সিরিজ বাতিল করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। আফগানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না ইংল্যান্ডও।
আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের এই বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী অগাস্টে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে তারা।
এই সিদ্ধান্ত অনেক আলোচনা হবে জেনেই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ কিন।
“ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড এই বছর বেলফাস্টে আফগানিস্তানের সাথে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বলে এড়িয়ে যেতে চাই না যে, এর পেছনে আর্থিক বা আইনি কারণ আছে। আসলে তা নেই। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড সিদ্ধান্তটি নিয়েছে এবং বোর্ডের বিশ্বাস, পুরো সংস্থার সর্বোত্তম স্বার্থেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।”
“শুরুতেই স্বীকার করে নিতে চাই যে, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আমরা সবাই এক ধরনের নৈতিক অস্বস্তিতে আছি এবং বিশেষ করে নারীদের প্রতি তাদের শাসকগোষ্ঠীর আচরণের প্রতি আমাদের তীব্র ধিক্কার রয়েছে, কিন্তু আমরা এটিকে আফগান নারী দল, সেই স্থানচ্যুত দলটিকে স্মরণ করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছি।”
আফগানিস্তানে এখন নারী ক্রিকেট বা নারীদের খেলাধুলার নামগন্ধ নেই। তবু ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী জানালেন, আফগান নারী দলের সঙ্গেও তারা সিরিজ খেলতে চান।
“আমরা শুধু আফগান পুরুষ দলকেই আমন্ত্রণ জানাইনি, আফগান নারী দলকেও এখানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং কীভাবে তা সম্ভব হতে পারে, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বছর সময় বের করা কঠিন হবে, কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটা যেন আলোচ্যসূচি থেকে বাদ না পড়ে, না খেলার সিদ্ধান্ত নিলে এবং এ বিষয়ে কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিলে সেটি আলোচ্যসূচিতে থাকবে না।”
"আফগান নারী দলের দুর্দশার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে জোরালভাবে থাকা প্রয়োজন। তাদের সমর্থন করা প্রয়োজন। তাদের সহায়তা করার জন্য একটি তহবিল গঠনের লক্ষ্যে আইসিসি ও অন্যান্যরা অনেক কাজ করেছে।”
রাশিয়ান ক্রীড়াবিদদের প্রতি অলিম্পিক আন্দোলনের সাম্প্রতিক নমনীয়তা, সেটিও ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের সিদ্ধান্তকে কিছুটা প্রভাবিত করেছিল বলে জানালেন কিন, “এই মুহূর্তে সকল আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে সাধারণ বৈশ্বিক নীতি হলো যে, ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দেরকে তাদের সরকারের থেকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে।”