Published : 14 Feb 2026, 09:53 AM
উইকেট ছিল শুষ্ক ও মন্থর। বল কিছুটা থমকে এসেছে। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এরকম উইকেট অনেক সময়ই দেখা যায়। অন্যান্য মাঠের মাঝারি স্কোরও তাই এখানে অনেক সময় হয়ে ওঠে বড় স্কোর। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭০ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার জেতা উচিত ছিল বলেই মনে করেন ম্যাট রেনশ। পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যান কাঠগড়ায় তুলছেন ব্যাটসম্যানদেরই।
কলম্বোতে শুক্রবার জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানে আটকে রেখে জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল ২৩ রানে হেরে গেছে ১১ নম্বর দল জিম্বাবুয়ের কাছে।
রান তাড়ায় প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরে রেনশ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল গড়েন ৭৭ রানের জুটি। তবে এ জুটিতে দুজন মিলে খেলে ফেলেন প্রায় ১০ ওভার। শেষ সময়ে দ্রুত রানের দাবি তাই ক্রমেই বাড়ছিল। সেই দাবি যখন মেটানোর কথা, আউট হয়ে যান ম্যাক্সওয়েল। তার মতো আগ্রাসী ব্যাটসম্যানও ৩১ রান করেন ৩২ বল খেলে, এটিই বলে দিচ্ছে কতটা অস্বস্তিতে ছিল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা।
ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল রেনশ। পঞ্চম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা ব্যাটসম্যান প্রথম ফিফটির স্বাদ পান ৩৪ বলে। তবে অন্য প্রান্ত থেকে রান আসেনি। রেনশ একা পারেননি পরিস্থিতির চাওয়া মেটাতে। আউট হয়ে যান ৪৪ বলে ৬৫ রান করে।
প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিয়ে ম্যাচের পর রেনশ বললেন, ব্যাটিং ব্যর্থতাই ডুবিয়েছে তাদের।
“আমাদের সম্ভবত এই লক্ষ্য তাড়া করা উচিত ছিল। আমার মনে হয় না, বোলিং গ্রুপকে এখানে দায় দেওয়া যায়।”
“জিম্বাবুয়ে শুরুতে খুব ভালো বল করেছে, দ্রুত কিছু উইকেট নিয়েছে এবং যখনই আমরা মোমেন্টাম গড়ার চেষ্টা করেছি, তারা ব্রেক থ্রু পেয়েছে। ম্যাক্সির (ম্যাক্সওয়েল) সঙ্গে ওই জুটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রান তাড়ার মতো যথেষ্ট মোমেন্টাম আমরা গড়তে পারিনি। শেষ পর্যন্ত একটু বেশিই (বাকি) রয়ে গেছে।”
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া পায়নি মিচেল মার্শকে। অধিনায়কের ফেরার সম্ভাব্য সময় এখনও অজানা। ওপেনিংয়ে মার্শ না থাকায় জশ ইংলিসকে দিয়ে ইনিংস শুরু করানো হয়েছে দুই ম্যাচেই। তাতে নিচের দিকের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও নাড়াচাড়া করতে হয়েছে।
রেনশ বললেন, মার্শের না থাকার ধাক্কাটা বেশ জোরেই লেগেছে দলে।
“মিচ (মার্শ) না থাকাটা বড় ক্ষতি অবশ্যই এবং আমরা জানি না, কবে নাগাদ সে ফিরতে পারবে। ব্যাটিং ওপেনিংয়ের কথা ভাবলে সে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন এবং সে যখন নেই, অন্য কাউকে তো ওপেন করতেই হবে। কাজেই দলের ভেতর দোলাচল চলছে কে কোথায় ব্যাট করবে।”
বিশ্বকাপে আসার আগেই অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে প্যাট কামিন্স ও জশ হেইজেলউডকে। কামিন্সের বদলি নেওয়া হলেও হেইজেলউডের কোনো বদলি এখনও ঘোষণা করেনি তারা। বোলিং আক্রমণে নতুন কাউকে যোগ করার প্রয়োজনীয়তা আপাতত দেখছেন না রেনশ।
“বোলারদের যে গ্রুপ এখানে আছে, আমার মনে হয় তা যথেষ্ট ভালো। বিশ্ব ক্রিকেটে তাদেরকে অনেকবারই পারফর্ম করতে দেখেছেন। কখনও কখনও এরকম হয় যে, উইকেট ধরা দেয় না, ক্যাচ উঠলেও ফাঁকা জায়গা পড়ে যায়।”
মার্শ চোটে পড়ার পর ‘কাভার’ হিসেবে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে স্টিভেন স্মিথকে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে মূল স্কোয়াডে জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সেটা মার্শের বদলি হয়ে নাকি হেইজেলউডের, তা বোঝা যাবে সময়ে।
অস্ট্রেলিয়ার পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সোমবার।