২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রান উৎসবের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দ. আফ্রিকার

টেম্বা বাভুমা ও ডেভিড মিলারের সেঞ্চুরিতে বড় পুঁজি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।

রান উৎসবের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ দ. আফ্রিকার

ছবি: ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 10:27 PM

Updated : 27 Sep 2026, 10:54 PM

ম্যাচের প্রথম বলেই ফিরে গেলেন এইডেন মার্করাম। ধাক্কা সামলে সেঞ্চুরির দীর্ঘ খরা কাটালেন টেম্বা বাভুমা। সঙ্গে ডেভিড মিলারের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়ায় উড়ন্ত সূচনা পাওয়ার পর ভেঙে পড়ল অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার। শেষ দিকে ঝড়ো ইনিংস খেলে কিছুটা আশা জাগালেন জাভিয়ের বার্টলেট। তাকে থামিয়ে আরও একবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারের তেতো স্বাদ দিল স্বাগতিকরা।

জোহানেসবার্গে রোববার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩২ রানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৬৫ রানের পুঁজি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৩৩ রানে গুটিয়ে দিয়েছে প্রোটিয়ারা।

টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচে ৬৭ রানে জয় পায় তারা।

ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে দুটি ছক্কা ও ১০টি চারে ১০৩ রান করে, তিন বছর ও ২৮ ইনিংসের অপেক্ষার অবসান করেন বাভুমা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই আগের সেঞ্চুরিটি করেন তিনি।

বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ৯৩ বলে ১৪২ রান করতে ৯টি ছক্কা ও ১২টি চার মারেন মিলার। ওয়ানডেতে তার আগের সেরা ইনিংসটিও ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০১৮ সালে হোবার্টে ১৩৯ রানের।

রান তাড়ায় মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের ১৩০ রানের উদ্বোধনী জুটির পর পথ হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। পরের ১২১ রান করতে ৬ উইকেট হারায় তারা। তিনশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়া দলকে আশা দেখান বার্টলেট। পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে ২৮ বলে ৫০ রান করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার এই প্রচেষ্টা কেবল হারের ব্যবধান কমাতেই কাজে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম বলেই পয়েন্ট-কাভারে কুপার কনোলির দুর্দান্ত ক্যাচ বিদায় নেন দলে ফেরা মার্করাম। দুই ছক্কা মেরে কট বিহাইন্ড হন কুইন্টন ডি কক। দুটি উইকেটই নেন জশ হেইজেলউড।

বাভুমাকে ফিফটির আগেই ফেরানোর সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অ্যাডাম জ্যাম্পার বলে বাউন্ডারিতে তার ক্যাচ ছাড়েন এডওয়ার্ডস, তখন ৩৩ রানে খেলছিলেন বাভুমা।

প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাথু ব্রিটস্কি এদিনও আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন। কিন্তু এবার তাকে ইনিংস বড় করতে দেননি এডওয়ার্ডস। এরপর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন বাভুমা ও মিলার।

২০তম ওভারে ফিফটি স্পর্শ করেন বাভুমা, ৬১ বলে। শুরুর মন্থর ব্যাটিং পরে পুষিয়ে ৪৫ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন মিলার।

পঞ্চাশের পর রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে ১১২ বলে ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন বাভুমা। অধিনায়ক হিসেবে এই স্বাদ পেলেন পঞ্চমবার। কিছুক্ষণ পরই বিদায় নেন তিনি, এডওয়ার্ডসকে জায়গা বানিয়ে ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়েন ডিপ কাভারে। তাতে ভাঙে ১৫৬ রানের জুটি।

ক্রিজে গিয়ে কিছু করতে পারেননি ট্রিস্টান স্টাবস। দুটি ছক্কা ও একটি চারে ১৯ রান করে ফেরেন মার্কো ইয়ানসেন।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে রান বাড়ানোর দায়িত্ব নেন মিলার। পঞ্চাশের পর তার ব্যাটে আরও দ্রুত আসতে থাকে রান। ৭৩ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি। পরের পঞ্চাশ রান করতে তার লাগে ২৮ বল।

চার মেরে শতক ছোঁয়ার এক বল পর জাভিয়ের বার্টলেটকে ছক্কায় ওড়ান মিলার। পরের ওভারে জশ হেইজেলউডকে মারেন দুটি চার। বার্টলেটের পরের ওভারে দুটি ছক্কার পর এডওয়ার্ডসকে মারেন আরেকটি।

পরের বলেই বাজে মিলারের বিদায় ঘণ্টা। পয়েন্ট থেকে পেছনের দিকে দৌড়ে তার ক্যাচ মুঠোয় জমান ক্যামেরন গ্রিন। মিলারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এডওয়ার্ডস। দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমেই এই স্বাদ পেলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার।

রান তাড়ায় আরও একবার দলকে ভালো শুরু এনে দেন মার্শ ও হেড। তাদের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ৭৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। পরের ওভারে সিঙ্গল নিয়ে ৩২ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন মার্শ। আগের ম্যাচেও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।

দ্রুত রান বাড়ানো মার্শের সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু বিয়ন ফোরটানের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৮৪ রানে। ৫৩ বলের ইনিংসে পাঁচটি ছক্কা ও ১০টি চার মারেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

কিছুক্ষণ পর ফিফটি করেন হেড, ৫৫ বলে। দুটি চার মেরে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন কনোলি। মার্করামের পরপর দুই ওভারে দুইবার জীবন পান হেড। প্রথমবার ব্যাটের কানায় লাগা বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি ডি কক। এরপর পয়েন্টে সহজ ক্যাচ ছাড়েন ফোরটান।

৬৩ ও ৬৬ রান বেঁচে গিয়েও অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি হেড। মার্করামের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে বাজে তার বিদায় ঘন্টা। একটি ছক্কা ও ১২ চারে ৮৪ রানে করেন তিনি।

অ্যালেক্স কেয়ারি, ম্যাট রেনশকে এলবিডব্লিউ করে দেন অভিজ্ঞ স্পিনার কেশাভ মহারাজ। ক্যামেরন গ্রিনকে টিকতে দেননি ফোরটান।

ক্রিজে গিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন বার্টলেট। ফোরটানকে চারের পর ওড়ান ছক্কায়। ডুয়ান ইয়ানসেনের দুই ওভারে একটি করে ছক্কা মারেন বার্টলেট ও এডওয়ার্ডস। ৪৬তম ওভারে ফোরটানকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন বার্টলেট।

পরের ওভারে টানা দুই বলে এডওয়ার্ডস ও অ্যাডাম জ্যাম্পাকে ফিরিয়ে দেন মার্কো ইয়ানসেন। শেষ তিন ওভারে ৫২ রানের প্রয়োজনে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন বার্টলেট। কিন্তু ওই ওভারের চতুর্থ বলে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তাকে এলবিডব্লিউ করে দেন লিজাড উইলিয়ামস। এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

দুই দলের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী বুধবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৬৫/৯ (মার্করাম ০, ডি কক ১৫, বাভুমা ১০৩, ব্রিটস্কি ৩৪, মিলার ১৪২, স্টাবস ৬, মার্কো ইয়ানসেন ১৯, ডুয়ান ইয়ানসেন ২৭*, ফোরটান ৫, মহারাজ ৪, উইলিয়ামস ১*; হেইজেলউড ১০-০-৭০-৩, বার্টলেট ১০-১-৭০-১, এলিস ৪-০-২২-০, জ্যাম্পা ৯-০-৭৭-০, কনোলি ৪-০-২৭-০, এডওয়ার্ডস ১০-০-৬৭-৫, রেনশ ৩-০-২৯-০)

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ (মার্শ ৮৪, হেড ৮৪, কনোলি ১০, কেয়ারি ১৭, রেনশ ৩২, গ্রিন ১৭, এডওয়ার্ডস ২৫, বার্টলেট ৫০, জ্যাম্পা ০, এলিস ৭*, হেইজেলউড ২; মার্কো ইয়ানসেন ৭-০-৫৩-২, উইলিয়ামস ৭.৫-০-৫৪-৩, ডুয়ান ইয়ানসেন ৫-০-৪৪-০, মহারাজ ১০-০-৫৪-২, মার্করাম ১০-০-৫৫-১, ফোরটান ১০-০-৭০-২)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড মিলার

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা