মিল্ন-সাইফার্ট-ফিলিপসের নৈপুণ্যে ভারতকে ফের হারাল নিউ জিল্যান্ড
প্রথম তিন ম্যাচেই সিরিজ জেতা ভারতের শেষটা হলো পরপর দুই হারে।
বল হাতে জ্বলে উঠলেন অ্যাডাম মিল্ন। ভারতকে দুইশর আগে থামাতে রাখলেন বড় ভূমিকা। ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে টিম সাইফার্ট জাগালেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। যদিও অল্পের জন্য তিন অঙ্ক ছোঁয়া হলো না তার। পরে গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে আবার ভারতকে হারাল নিউ জিল্যান্ড।
হ্যামিল্টনে রোববার পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে কিউইদের জয় ৭ উইকেটে। ভারতের ১৯১ রান ১২ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় তারা।
প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর, ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দুই জয়ে সিরিজ শেষ করল নিউ জিল্যান্ড। ভারত সিরিজ জিতল ৩-২ ব্যবধানে।
সিরিজ জুড়ে দাপট দেখানো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এদিন আটকে রাখেন মিল্ন। চার ওভারে স্রেফ ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেওয়া এই পেসার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। দুটি করে শিকার ধরেন ন্যাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার।
আগের তিন ম্যাচে দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে না পারা সাইফার্ট এবার করেন ৯৩ রান। ৫০ বলের ইনিংসে পাঁচটি ছক্কা ও ১১টি চার মারেন নিউ জিল্যান্ড ওপেনার।
দলের জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়েন দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফিলিপস। তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি ছক্কা ও আটটি চারে ৩৮ বলে ৬৫ রান। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তিনটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরিতে ৩৪১ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।
দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিলিপসের এই রান সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান করেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। এক সিরিজে তিনশর বেশি রান আছে আর কেবল মোহাম্মাদ রিজওয়ানের, ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৬।
সেডন পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রানে আভিশেক শার্মা ও সাঞ্জু স্যামসনকে হারায় ভারত। দুই ওপেনারই মিল্নের শিকার। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে দলকে পথে রাখেন ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ার।
এই দুইজনের ব্যাটে দ্রুত বাড়তে থাকে রান। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে অল্পের জন্য বেঁচে যান কিষান। বাউন্ডারিতে তার ক্যাচ দুইবারের চেষ্টায় নেন ফিন অ্যালেন। কিন্তু সীমানার বাইরে থেকে বল ভেতরে ছোঁড়ার সময় তার পা মাটিতে লাগায় ছক্কা দেন তৃতীয় আম্পায়ার।
৩০ রানে বেঁচে গিয়ে ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন কিষান। পরের ওভারে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে টানা ছক্কা-চার-ছক্কা হাঁকান শ্রেয়াস। পরের বলে তার ক্যাচ ছাড়েন টিকনার। ওভারের শেষ দুই বলে ছক্কা ও চার মারেন কিষান। ওভারটি থেকে আসে ২৭ রান।
পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৩২ বলে ৬১ রান করে একাদশ ওভারে ফেরেন কিষান। ভাঙে ৪৩ বল স্থায়ী ৯৩ রানের জুটি। ইনিংসটির পথে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে টপকে টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড গড়েন কিষান।
২২ বলে ফিফটি স্পর্শ করার পরের বলেই কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন শ্রেয়াস। চারটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৫০ রান করেন ভারত অধিনায়ক।
তিলাক ভার্মার দারুণ ক্যাচ নেন অ্যালেন। ন্যাথান স্মিথ ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ করায় ৫ রানে জীবন পান তিলাক। দুই বল পরই সেই আক্ষেপ পুষিয়ে দেন স্মিথ। ফিরতি ক্যাচ নিয়ে তিলাককে বিদায় করেন তিনি।
নামান ধিরের ৩৩ এবং নিতিশ কুমার রেড্ডির ২২ রানে ভারতের রান দুইশর কাছাকাছি যায়।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই অ্যালেনকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। তবে দলকে চাপে পড়তে দেননি সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেল। প্রিন্স ইয়াদাভকে টানা দুটি ছক্কায় ওড়ান মিচেল। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারকে দুটি করে ছক্কা ও চার মারেন সাইফার্ট। প্রথম ৬ ওভারে স্বাগতিকরা রান তোলে ৫৯।
আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়ানো মিচেলকে নবম ওভারে ফিরিয়ে ৭৩ রানের জুটি ভাঙেন ভারুন চক্রবর্তী। চারটি ছক্কায় ২৯ রান করেন মিচেল।
নিতিশকে ছক্কায় উড়িয়ে ৩৪ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন সাইফার্ট। ক্রিজে গিয়ে দ্রুত রান বাড়ানোয় মনোযোগ দেন ফিলিপসও। ভারুনের এক ওভারে ফিলিপস তিনটি ও সাইফার্ট একটি চার মারেন। ভারতীয় স্পিনার ভারুনের পরের ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান ফিলিপস।
মনে হচ্ছিল, এই দুইজনের ব্যাটেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে ৭ রান দূরে থাকতে নিতিশের বল স্টাম্পে টেনে আনেন সাইফার্ট। তার বিদায়ে ভাঙে ৮৬ রানে জুটি।
এরপর বেভান জ্যাকবসকে নিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন ২৯ বলে ফিফটি করা ফিলিপস। জ্যাকবসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটিতে ২৬ রানই তার।
ভারতের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু আগামী বুধবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৯১/৮ (স্যামসন ৪, আভিশেক ১, কিষান ৬১, শ্রেয়াস ৫০, তিলাক ৬, নামান ৩৩, নিতিশ ২২, ভুবনেশ্বর ৬, প্রিন্স ০*, আর্শদিপ ১*; ডাফি ৩-০-২৭-০, মিল্ন ৪-০-১৯-৪, স্মিথ ৩-০-২৮-২, টিকনার ৪-০-৩৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৩৯-০, ব্রেসওয়েল ২-০-৩৮-০)
নিউ জিল্যান্ড: ১৮ ওভারে ১৯৫/৩ (সাইফার্ট ৯৩, অ্যালেন ২, মিচেল ২৯, ফিলিপস ৬৫*, জ্যাকবস ১*; ভুবনেশ্বর ৪-০-৪১-০, আর্শদিপ ৪-০-৪০-১, প্রিন্স ৩-০-৩৫-০, ভারুন ৪-০-৪৫-১, নিতিশ ২-০-১৯-১, আভিশেক ১-০-১৩-০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যাডাম মিল্ন
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জয়ী আরত
ম্যান অব দা সিরিজ: গ্লেন ফিলিপস
