স্টার্লিং-বালবার্নির সেঞ্চুরিতে আয়ারল্যান্ডের রেকর্ড গড়া জয়

ওয়েন মর্গ্যানের সেঞ্চুরিতে আয়ারল্যান্ডকে রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল ইংল্যান্ড। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সেই চ্যালেঞ্জ নিলেন পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বালবার্নি। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি আর রেকর্ড গড়া জুটিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের তাদেরই মাটিতে হারিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2020, 05:03 PM
Updated : 4 August 2020, 09:25 PM

তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে৭ উইকেটে জিতেছে সফরকারীরা। ১ বল বাকি থাকতে ইংল্যান্ডের ৩২৮ রান ছাড়িয়ে গড়েছে রেকর্ড।আগের রেকর্ড ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। ২০১১ বিশ্বকাপে জিতেছিল ৩২৭ রান তাড়া করে। এবারেরমতো সেবারও ৩২৯ রান করেছিল আয়ারল্যান্ড।   

প্রথম দুই ম্যাচেজেতা ইংল্যান্ড সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

আগের দুই ম্যাচেছয় নম্বরে ব্যাট করা মর্গ্যান বিপদে হাল ধরতে উঠে আসেন চার নম্বরে। অধিনায়কের সেঞ্চুরিআর টম ব্যান্টন ও ডেভিড উইলির ফিফটি স্কোর বোর্ডে লড়াই করার মতো রান পায় ইংল্যান্ড।

স্টার্লিং আর বালবার্নিরসঙ্গেই মূলত পেরে উঠেনি স্বাগতিকরা। টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে রানপাহাড় টপকায় আয়ারল্যান্ড।

রান তাড়ায় শুরুতেইআয়ারল্যান্ডকে ভালো শুরু এনে দেন স্টার্লিং। আগের দুই ম্যাচে ভালো করতে না পারা এইব্যাটসম্যান শুরু থেকেই খেলছিলেন বড় শট। অন্য প্রান্তে সময় নিচ্ছিলেন গ্যারেথ ডেলানি।তাকে বোল্ড করে ৫০ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন উইলি।

স্টার্লিংয়ের মতোইআগের দুই ম্যাচে সংগ্রাম করা বালবার্নি এদিন শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। তিনিও বোলারদেরওপর চড়াও হলে দ্রুত এগোতে থাকে আয়ারল্যান্ড।

৫২ বলে ফিফটি করেনস্টার্লিং, বালবার্নির লাগে ৪৩ বল। জুটির একশ হয় কেবল ৮৮ বলে। ৯৬ বলে ক্যারিয়ারের নবমসেঞ্চুরিতে পৌঁছান স্টার্লিং। ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পেতে আইরিশ অধিনায়কের লাগে ১০০ বল।

কুঁচকির চোটের জন্যফিল্ডিংয়ে ছিলেন না মর্গ্যান। তার অনুপস্থিতিতে মাঠে অধিনায়কত্ব করা মইন আলি এই জুটিভাঙার পথ পাচ্ছিলেন না। ১৮৩ বলে দুইশ ছুঁয়ে আরও এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্টার্লিং-বালরার্নি।

আইরিশ ওপেনারের রানআউটে ভাঙে ২১৪ রানের জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে আয়ারল্যান্ডের সেরা জুটি, যে কোনো জুটিতেদ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ওকেভিন ও’ব্রায়েনের ২২৭ এখনও সেরা।

১২৮ বলে ছয় ছক্কাআর নয় চারে ১৪২ রান করে ফিরেন স্টার্লিং। এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি বালবার্নি। ১২ চারে১১২ বলে ১১৩ রান করে বিদায় নেন সফরকারী অধিনায়ক।

শেষ ৫ ওভারে ৪৪ রানেরসমীকরণ মিলিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগে দলকে পয়েন্ট এনে দেন হ্যারি টেক্টটর ও কেভিন ও’ব্রায়েন। ২৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিতথাকেন টেক্টর। একটি করে ছক্কা ও চারে ও’ব্রায়েন করেন ২১ রান।

এর আগে রোজ বৌলেমঙ্গলবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। সিরিজে তৃতীয়বারেরমতো ভালো শুরু এনে দিতে ব্যর্থ উদ্বোধনী জুটি। টানা দুই ম্যাচে প্রথম ওভারে ফিরলেনজেসন রয়। আগের ম্যাচে ঝড়ো ইনিংস খেলা জনি বেয়ারস্টো যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

কট বিহাইন্ডের সফলরিভিউ নিয়ে জেমস ভিন্সকে ফেরায় আয়ারল্যান্ড। ৪৪ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়েচাপে পড়া ইংল্যান্ডের ত্রাতা মর্গ্যান ও ব্যান্টন। তাদের পাল্টা আক্রমণের জবাব যেনজানা ছিল না সফরকারীদের।

সহজাত আক্রমণাত্মকব্যাটিংয়ে এগোতে থাকেন মর্গ্যান। খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না আগের দুই ম্যাচে সুযোগ কাজেলাগাতে না পারা ব্যান্টন।

৩৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছানোমর্গ্যান সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৭৮ বলে; ক্যারিয়ারের চতুর্দশ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেদ্বিতীয় শতক। সেঞ্চুরির পর বেশিদূর এগোতে পারেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। জশ লিটলের বলেধরা পড়েন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। ভাঙে ১৪৬ রানের জুটি।

৮৪ বলে ১৫ চার ওচার ছক্কায় ১০৬ রান করে মর্গ্যানের বিদায়ের পর ছোটখাটো ধস নামে ইংল্যান্ড ইনিংসে।

গ্যারেথ ডেলানিরএকটু নিচু হওয়া বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ব্যান্টন। ৫১ বলে খেলা তার ৫৮ রানের ইনিংসেছয়টি চারের পাশে একটি ছক্কা। দ্রুত ফিরেন মইন আলি ও স্যাম বিলিংস।

এক সময়ে সাড়ে তিনশরানের সম্ভাবনা জাগানো ইংল্যান্ড ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা পথ হারায়। আগের ম্যাচেব্যাট হাতে ভালো করা উইলি দাঁড়িয়ে যান এবারও, দারুণ সঙ্গ পান দলে ফেরা টম কারানের।৬২ বলে দুই জনে গড়েন ৭৩ রানের জুটি।

বোলারদেরে ওপর চড়াওহয়ে উইলি তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। আগের সেরা ৫০ পেরিয়েই বিদায় নেন এই অলরাউন্ডার।৪২ বলে খেলা তার ৫১ রানের ইনিংস গড়া তিনটি করে ছক্কা ও চারে।

দশম উইকেটে সাকিবমাহমুদের সঙ্গে ৩০ রানের জুটিতে দলকে সোয়া তিনশ রানে নিয়ে যান কারান। এই অলরাউন্ডারঅপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে।

আয়ারল্যান্ডের রেকর্ডগড়া জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা স্টার্লিং জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। অলরাউন্ড নৈপুণ্যেসিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন উইলি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৪৯.৫ওভারে ৩২৮ (রয় ১, বেয়ারস্টো ৪, ভিন্স ১৬, মর্গ্যান ১০৬, ব্যান্টন ৫৮, বিলিংস ১৯, মইন১, উইলি ৫১, কারান ৩৮*, রশিদ ৩, মাহমুদ ১২; ইয়াং ১০-১-৫৩-৩, অ্যাডায়ার ৭-০-৪৫-১, লিটল৮.৫-০-৬২-২, ক্যাম্পার ১০-১-৬৮-২, ম্যাকব্রাইন ৮-০-৬১-০, ডেলানি ৬-০-২৯-১)

আয়ারল্যান্ড: ৪৯.৫ওভারে ৩২৯/৩ (স্টার্লিং ১৪২, ডেলানি ১২, বালবার্নি ১১৩, টেক্টর ২৯*, ও’ব্রায়েন ২১*; উইলি ১০-১-৭০-১, মাহমুদ৯.৫-০-৫৮-০, কারান ১০-০-৬৭-০, মইন ৭-০-৫১-০, রশিদ ১০-১-৬১-১, ভিন্স ৩-০-২০-০)

ফল: আয়ারল্যান্ড৭ উইকেটে জয়ী

সিরিজ:২-১ ব্যবধানেইংল্যান্ড জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ:পল স্টার্লিং

ম্যান অব দা সিরিজ:ডেভিড উইলি

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক